corona virus btn
corona virus btn
Loading

রোজা রেখেও অসীমার চিকিৎসার খরচ তুলতে দিনভর ‘ভিক্ষা’ করছে জামির, সাদিকরা

রোজা রেখেও অসীমার চিকিৎসার খরচ তুলতে দিনভর ‘ভিক্ষা’ করছে জামির, সাদিকরা
  • Share this:

Debasish Chakraborty

#উলুবেড়িয়া: উলুবেড়িয়া হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বছর তিপান্নর অসীমা । আত্মীয়দের সামর্থ্য নেই চিকিৎসার খরচ জোগানোর। এই দুঃসময়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় মুসলমান যুবকরা। অসীমাকে বাঁচাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চাঁদা তুলছেন জামির, সাদিক, আনসার, বাসাররা। সূত্রের খবর, পাঁচলা থানার ভাসাটোলা মল্লিকবাগানের প্রৌঢ়া অসীমা হাজরার গত ২৪ এপ্রিল ব্রেনস্ট্রোক হয়। তারপর থেকে বাড়িতে পড়েই যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন অসহায় অসীমা। অর্থের অভাবে বাড়িতে থেকে যখন মৃত্যুর দিকে ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি, তখন কার্যত ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তারপাশে এসে এসে দাঁড়ান জামির, সাদিকদের মতো স্থানীয় উদ্যোগী যুবকরা। অসীমার এ হেন অবস্থার খবর পেয়েই তাঁরা রবিবার সকালে প্রৌঢ়াকে উদ্ধার করে গাববেড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে যান।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসার জন্য আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় জামির, আনসাররা চাঁদা তুলে অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। রবিবার সকাল থেকেই মাঠে নামেন হাকোলা অঞ্চলের একদল মুসলিম যুবক। তাঁরা মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে গিয়েছেন অসীমার পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে। অসীমাকে বাঁচাতে শুধু মাত্র চাঁদা তুলেই ক্ষান্ত থাকেননি এলাকার এই সহৃদয় যুবকরা। রোজা রেখেই রবিবার থেকে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে পড়ে আছেন বাসার। সোমবার অসীমাকে নিয়ে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে সি.টি.স্ক্যান বিভাগে যাওয়ার পথে আবু বাসার জানান, "হত দরিদ্র এই পরিবার. অসীমার দু'ই ছেলে থাকলেও তাঁরাও আর্থিকভাবে অসহায়। ওঁনার এক মেয়ে ধুলাগোড় একটি কারখানায় ১২০ টাকা রোজে কাজ করত। লকডাউনের জেরে তাঁরও কাজ নেই। এলাকার কেউ ওঁদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি।’’

রবিবার সকালে অসীমার ভাই প্রভাস সাঁতরা ফোন করে ওঁর দিদির শরীর খারাপের কথা জানায়।" আবু বাসার আরও বলেন, "অসীমার বাড়ি পাঁচলার শুভরআড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মল্লিকবাগান এলাকায়। আর আমরা থাকি হাকোলা অঞ্চলে। দু'টি অঞ্চলের সীমানা এলাকাতেই বাস করেন অসীমা হাজরা। খবর পাওয়ার পরই আমরা এলাকার যুবকরা মিলে ওঁনার বাড়িতে যাই। দেখি এক চিলতে ঝুপড়ি ঘরটির মধ্যে বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন অসীমা। বিন্দুমাত্র দেরি না করে ওঁনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।" অসীমার ভাই প্রভাস সাঁতরার কথায়, "আমাদের সামর্থ্য নেই দিদির চিকিৎসার খরচ জোটানোর। বিষয়টি জানতে পেরে যে ভাবে বাসার, সাদিক, আনসাররা হেল্প করছে তাতে আমি খুশি যে দিদি অন্তত ওঁদের জন্য চিকিৎসা পাবে। কৃতজ্ঞ ওঁদের কাছে।"

সারা বিশ্বে যখন ধর্ম নিয়ে এতো হানাহানি, রক্তপাত, মৃত্যুমিছিল সেই দুঃসময়ে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় বেড়াজালের গন্ডী টপকে সাদিক, আনসার, জামিরদের এই কর্মকান্ড আবারও সমাজের দ্বারে বার্তা দিয়ে যায়—মানুষ মানুষের জন্য...।

First published: May 5, 2020, 10:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर