corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘‌মেয়ের চিৎকার শুনবেন না’‌ তাই প্রথমে সন্তানকে অজ্ঞান করে খুন, তারপর আত্মহত্যার চেষ্টা মায়ের

‘‌মেয়ের চিৎকার শুনবেন না’‌ তাই প্রথমে সন্তানকে অজ্ঞান করে খুন, তারপর আত্মহত্যার চেষ্টা মায়ের
প্রতীকী ছবি

খুনের আগে শিশুটিকে অজ্ঞান করতে ইঞ্জেজেকশন ব্যবহার করা হয়েছিল। মৃত্যুর সময় মেয়ের আর্তনাদ যাতে না শুনতে হয় সেই কারণেই হয়ত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দীপ্তি দেবী।

  • Share this:
 

#‌হাওড়া:‌ স্বামীর মৃত্যুর পর ঠিক ছিল মেয়ের হাত ধরেই কাটিয়ে দেবেন বাকিটা জীবন, কী এমন হল যাতে সেই ছোট্ট মেয়ের হাতের শিরা কেটে খুন করতে হল মা কে? প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বালি থানার পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। বালির তর্কসিদ্ধান্ত লেনের বাসিন্দা গৃহবধূ দীপ্তি দাসকে তাঁর মা বারবার ফোন করলেও কেউ ফোন ধরেনি, প্রতিবেশী একজনকে সেই ঘটনা জানান তিনি। প্রতিবেশীরা গিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে খবর দিয়েছিলেন বালি থানায়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে দেখে বিছানায় হাতের শিরা কাটা অবস্থায় পরে রয়েছে সাত বছরের শিশু কন্যা আর বিছানার নিচে একই অবস্থায় পড়ে রয়েছেন দীপ্তি দেবী।

দীপ্তি দেবী তখনও জীবিত। তাই দ্রুত তাঁকে হাসাপাতালে নিয়ে যান পুলিশকর্মীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, নিজের কন্যাকে হত্যা করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছেন মা। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় অন্য কেউ এই ঘটনার সাথে যুক্ত নয় বলেই মনে করা হলেও, পুলিশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখছেন। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটি ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ ও ধারালো বস্তু। তদন্তকারীরা মনে করছেন, খুনের আগে শিশুটিকে অজ্ঞান করতে ইঞ্জেজেকশন ব্যবহার করা হয়েছিল। মৃত্যুর সময় মেয়ের আর্তনাদ যাতে না শুনতে হয় সেই কারণেই হয়ত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দীপ্তি দেবী। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, জ্ঞান ফিরলে পুরো বিষয়টা বোঝা যাবে বলে দাবি পুলিশের।

জানা গিয়েছে, বালির তর্কসিদ্ধান্ত লেনের এক বহুতল আবাসনের দ্বিতীয় তলে থাকতেন দীপ্তি, সঙ্গে স্বামী ও তাঁদের একমাত্র কন্যা সন্তান। প্রতিবেশীরা জানান মৃত শিশু কন্যার নাম ঐশী দাস(৭)। মহিলার নাম দীপ্তি দাস(৩৪)। কয়েক মাস আগে দীপ্তি দেবীর স্বামী ব্রেন টিউমারে মারা যান। তিনি সরকারি চাকুরে ছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। দীপ্তি দেবীর মা গৌরী দেবী জানান, ‘‌শুক্রবার ওঁদের নিয়ে যাবার জন্য এসেছিলাম , কিন্তু ঐশীর পড়াশোনার কথা বলে দীপ্তি আমার সঙ্গে যায়নি।’‌ টেবিলে পড়ে ইঞ্জেকশনের তিনটি ফাঁকা সিরিঞ্জগুলি আসলে দীপ্তি দেবীর স্বামীর ব্যবহারের। সরকারি চাকুরীজীবি স্বামীর মৃত্যুর পর আর্থিক ভাবে ও মানসিক ভাবে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন দীপ্তি।

Debasish Chakraborty

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: May 16, 2020, 8:59 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर