corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে জামাইষষ্ঠী, লাঠি দিয়ে কপালে ফোঁটা, উপহারে মাস্ক, স্যানিটাইজার !

লকডাউনে জামাইষষ্ঠী, লাঠি দিয়ে কপালে ফোঁটা, উপহারে মাস্ক, স্যানিটাইজার !

জামাইষষ্ঠীর উপহারে ঢুকে গেল মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার। জামাইয়ের সুস্থতা কামনায় এই উপহার তুলে দিলেন শাশুড়ি। জামাইয়ের কপালে ফোঁটা দিলেন মুখে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই।

  • Share this:

#বর্ধমান: জামাইষষ্ঠীর উপহারে ঢুকে গেল মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার। জামাইয়ের সুস্থতা কামনায় এই উপহার তুলে দিলেন শাশুড়ি। জামাইয়ের কপালে ফোঁটা দিলেন মুখে মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই। এমনই জামাইষষ্ঠীর সাক্ষী থাকল বর্ধমানের বড়নীলপুর। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন চলছে। তার জেরে বন্ধ বাস ও ট্রেন চলাচল। তাই অনেকেই সাধ থাকলেও এবার জামাইষষ্ঠী করতে শ্বশুর বাড়ি যেতে পারেননি। জামাই না আসায় অনেকেই ফোঁটা দিয়েছেন ঘরের দরজায়। তবে ঘরের কাছে বিয়ে করেছেন যে সব ব্যক্তিরা তাঁদের এদিন দেমাকই ছিল আলাদা। মোটর সাইকেল, চার চাকায় আজকের এই বিশেষ দিনে শ্বশুর বাড়ি পৌঁছতে ভোলেননি।

তবে জামাই বাবাজি ভাবতে পারেনি শ্বশুরবাড়ির চৌকাঠে পা রাখার আগেই হাত পাততে হবে শাশুড়ির কাছে। দরজায় দাঁড়াতে হলো দুই হাতের তালু এক করে। শাশুড়ি মা তার হাতে ঢেলে দিলেন স্যানিটাইজার। দুই হাতের তালু ঘষে তবেই শ্বশুর বাড়ির দরজার ভেতর পা রাখলেন বর্ধমানের বোরহাটের বাসিন্দা অতনু দাস। বেসরকারি সংস্থার কর্মী অতনু বাবু বললেন, ১৩ বছর ধরে জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুর বাড়ি আসছি, এমন ষষ্ঠী এই প্রথম। করোনা আবহে ঘরের কাছেই থাকা মেয়ে জামাইকে ষষ্ঠীর নিমন্ত্রণ করতে ভোলেননি শাশুড়ি প্রতিমা ভৌমিক। জামাইয়ের জন্য আয়োজনের কোনও ত্রুটি ছিল না। খাসির মাংস থেকে কাতলা মাছের মাথা পোস্ত বড়া থেকে শুরু করে আমের চাটনি ছিল সবকিছুই। তবে ফোঁটা নিতে বসেই এবার যে জামাইষষ্ঠী অন্যরকম তা বেশ অনুভব করলেন অতনু বাবু। শাশুড়ির জন্য নিয়ে এসেছিলেন জামদানি শাড়ি। বদলে শাশুড়ির কাছ থেকে উপহার পেলেন ফেস কভার, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সঙ্গে অবশ্য টি শার্টও ছিল।
আরও অবাক করে শাশুড়ি ফোঁটা দিলেন দূরত্ব বজায় রেখে লাঠির আগায় চন্দন বাটা দিয়ে। এরপর যত্ন করে খাওয়ালেন জামাইকে। ছিল পাখার বাতাসও। তবে তা লম্বা লাঠির মাথায় বাঁধা। জামাইয়ের পাতে আরো দু-চার পিস মাংস পড়ল ঠিকই। তবে তা লাঠির মাথায় বাঁধা চামচের মাধ্যমে। তবে পাতে মিষ্টি ছিল না। এখন এই করোনা আবহে বাইরের মিষ্টির ওপর ভরসা রাখতে পারেননি শাশুড়ি মা। প্রতিমা দেবী জানালেন, এখন সব সময় সাবধানতার সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করা উচিত। সন্তান তুল্য জামাই যাতে তা সব সময় মনে রাখে তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা। শাশুড়ির সচেতনতায় আপ্লুত অতনু বাবু।
Published by: Akash Misra
First published: May 28, 2020, 9:04 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर