জোড়া দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্যকর মোড়, ছক কষেই মা-মেয়েকে জীবিত অবস্থায় পুড়িয়ে খুন

প্রাথমিক ভাবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের কাছে দু'টি দেহ সনাক্ত করার মতো কোনও সূত্র ছিল না। কিন্তু তদন্তকারীদের নজর কাড়ে এক জনের সোনালি সবুজ চুল এবং অন্য জনের সোনার কানের দুল।

প্রাথমিক ভাবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের কাছে দু'টি দেহ সনাক্ত করার মতো কোনও সূত্র ছিল না। কিন্তু তদন্তকারীদের নজর কাড়ে এক জনের সোনালি সবুজ চুল এবং অন্য জনের সোনার কানের দুল।

  • Share this:

    #হলদিয়া: রীতিমতো পরিকল্পনা করে আঁটঘাট বেঁধে মা ও মেয়েকে কলকাতা থেকে হলদিয়ায় ডেকে নিয়ে গিয়েছিল শেখ সাদ্দাম হোসেন। রাতে খাওয়ার সঙ্গে মাদক জাতীয় কিছু মিশিয়ে বেঁহুশ করা হয়। বেহুঁশ অবস্থাতেই মা- মেয়েকে নিয়ে যায় নদী পাড়ে। সেখানেই জীবিত অবস্থায় আগুন দিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় দু'জনের। গ্রেফতার দুই।

    জোড়া দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্যকর মোড় ছক কষেই মা-মেয়েকে খুন হলদিয়ায় ধৃত ২ চুল ও কানের দুল থেকে খুনের কিনারা

    নদীর পাড়ে কিছু জ্বলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় দু'টি দেহ পুড়ছে। তখনও আগুন জ্বলছে দাউ দাউ করে।

    প্রাথমিক ভাবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের কাছে দু'টি দেহ সনাক্ত করার মতো কোনও সূত্র ছিল না। কিন্তু তদন্তকারীদের নজর কাড়ে এক জনের সোনালি সবুজ চুল এবং অন্য জনের সোনার কানের দুল। কানের দুল দু'টি স্বস্তিকার আকারে এবং তাতে খোদাই করা এসজেপি এবং কেডিএম।

    এরপর পুলিশের হাতে আসে একটি মোবাইল নম্বর। মা-মেয়ের ফোন থেকে ওই নম্বরে দেহ উদ্ধারের আগের রাতে কয়েক বার কথা হয়। ওই মোবাইল নম্বরের মালিক শেখ সাদ্দাম হোসেন। ফুটবলার হিসাবে নাম-ডাক রয়েছে। বাড়ি দুর্গাচক থানা এলাকাতেই। খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে হাতে ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি সাদ্দাম। প্রথমে স্বীকার করতে না চাইলেও, পর পর ফোনালাপের তথ্য সামনে আনতেই জেরায় ভেঙে পড়ে সাদ্দাম। স্বীকার করে ওই তরুণীর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা।

    পেশায় ঠিকাদার সাদ্দাম পুলিশকে জানায়, কোনও ম্যাসাজ পার্লারে যাতায়াতের সুবাদেই আলাপ হয় তরুণীর সঙ্গে। সেখান থেকে সম্পর্কও তৈরি হয়। পুলিশের দাবি, সাদ্দাম নিজে বিবাহিত হলেও, সেই তথ্য লুকিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে বিয়ে না করায় চাপ দিচ্ছিল মা-মেয়ে। আর তা থেকে মুক্তি পেতে খুন।

    পুলিশের দাবি, ধৃত সাদ্দাম এবং তার সঙ্গী মনজুর আলম ছাড়াও আরও কয়েক জন যুক্ত এই জোড়া খুনে। ধৃতদের রবিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

    Published by:Dolon Chattopadhyay
    First published: