• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • একটা ফেসবুকে পোস্টই মেয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দিল ৩ বছর আগের হারিয়ে যাওয়া বাবাকে!

একটা ফেসবুকে পোস্টই মেয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দিল ৩ বছর আগের হারিয়ে যাওয়া বাবাকে!

শনিবার হাসপাতালে দাঁড়িয়ে গৌতম মন্ডলের মেয়ে বলেন, বছর তিন আগে ১৫ ই আগষ্টে নিরুদ্দেশ হয়ে ছিলেন তাঁর বাবা।

শনিবার হাসপাতালে দাঁড়িয়ে গৌতম মন্ডলের মেয়ে বলেন, বছর তিন আগে ১৫ ই আগষ্টে নিরুদ্দেশ হয়ে ছিলেন তাঁর বাবা।

শনিবার হাসপাতালে দাঁড়িয়ে গৌতম মন্ডলের মেয়ে বলেন, বছর তিন আগে ১৫ ই আগষ্টে নিরুদ্দেশ হয়ে ছিলেন তাঁর বাবা।

  • Share this:

#উত্তর ২৪পরগনা: উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর হাসপাতালে কর্মব্যস্থতার সঙ্গে শনিবার ছিল আরও একটা খুশির দিন। মূলত মানসিক রোগের চিকিৎসা বিভাগের সাফল্যের দিন। হাতে আঘাত পাওয়া এক যুবককে বছর কয়েক আগে ইমারজেন্সিতে ভর্তি করায় পুলিশ। চিকিৎসা শুরু হয় তাঁর। হাতের আঘাত সেরে গেলেও, চিকিৎসকরা দেখেন ভর্তি হওয়া ব্যক্তি নিজের নাম, ঠিকানা ঠিকঠাক বলতে পারছেন না। পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা বোঝেন  ব্যক্তি মানসিক রোগের শিকার। তারপর থেকে বারাসত জেলা সদর হাসপাতালে তাঁর মানসিক রোগের চিকিৎসা শুরু হয়। ক্রমশ চিকিৎসায় সারা দিতে থাকা রোগী মাস কয়েক আগে সুস্থ হয়ে ওঠেন। নিজের নাম, ঠিকানা, সবই সে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সদর হাসপাতালের সুপার সুব্রত মন্ডল এই দিন জানান, সুস্থ হয়ে ওঠা মানসিক বিভাগের এই রোগীর নাম গৌতম মন্ডল।তাঁর বাড়ি হুগলী জেলার কোন্ননগরে। গৌতম মন্ডলের দেওয়া ঠিকানা বারাসত থানার পুলিশকে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাও সে মাস কয়েক আগে।পুলিশ গৌতম মন্ডলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।কয়েক মাস অপেক্ষার পর হাসপাতালের এক কর্মী গৌতম মন্ডলের পরিচয় ও ঠিকানা দিয়ে ফেসবুকে ছাড়েন। সেই পোস্ট নজরে আসে গৌতম মন্ডলের এলাকার সদস্যের। তিনিই গৌতমের বাড়িতে খবর দেন। গৌতমের মেয়ে পরিবারের অন্যদের নিয়ে ছুটে আসেন বারাসত হাসপাতালে।শনিবার হাসপাতালে দাঁড়িয়ে গৌতম মন্ডলের মেয়ে বলেন, বছর তিন আগে ১৫ ই আগষ্টে নিরুদ্দেশ হয়ে ছিলেন তাঁর বাবা। সেই সময় তারা পুলিশে নিখোঁজ ডাইরি করেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাদের মনে হয়েছিল বাবা আর বেঁচে নেই। এক প্রকার বাবাকে ফিরে পাওয়া আশা তারা ছেড়ে দিয়েছিলেন মেয়ে।

তাদের কথায়, গৌতম মন্ডল প্রচণ্ড নেশায় আসক্ত থাকতেন। তাঁকে সুস্থ করার জন্য রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারেও ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। বাবার এই নেশার প্রতি আসক্তিতে মা বাবার মধ্যে নিত্য অশান্তি ছিল, জানান গৌতমবাবুর মেয়ে। কিন্তু তিন বছর পর বাবা ও মেয়েকে  মিলিয়ে দিতে পেরে তৃপ্ত হাসপাতাল সুপার সুব্রত মন্ডল। তাঁর কথায়, গৌতমের নেশার কারণেই তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসক হিসাবে তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরে আসেনি। তাই বোধনের আগে বাবাকে মেয়ের হাতে তুলে দিতে পেরে খুশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অবশ্যই সৌজন্যে ফেসবুক।  সুস্থ আবস্থায় বারাসত হাসপাতাল ছাড়ার আগে গৌতম মন্ডলের হাতে পুজোর উপহার হিসাবে নতুন জামাও তুলে দেওয়া হয়।

Published by:Pooja Basu
First published: