corona virus btn
corona virus btn
Loading

এক্ষুনি ট্রেন পাঠান, মাঝরাতে ভিন রাজ্যে আটকে পড়া বাসিন্দাদের ফোনে নাজেহাল জেলাশাসক!

এক্ষুনি ট্রেন পাঠান, মাঝরাতে ভিন রাজ্যে আটকে পড়া বাসিন্দাদের ফোনে নাজেহাল জেলাশাসক!

ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকরা এতো বেশি ফোন করছেন যে কাজ সামলানোই দায় হয়ে উঠছে। মিনিটে দুটো, তিনটে পর্যন্ত ফোন আসছে।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: মুহূর্মুহূ ফোনে কাজকর্ম শিকেয় ওঠার জোগাড় পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ফোন ধরেই চলেছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ সব ফোন তো রয়েছেই, তবে সবচেয়ে বেশি ফোন আসছে রাজ্যের বাইরে আটকে পড়া বাসিন্দাদের কাছ থেকে। মুম্বইয়ের ধারাভি থেকে শুরু করে পুণে, রাজস্থান, গুজরাট সব জায়গা থেকেই আটকে পড়া শ্রমিকরা অবিরাম ফোন করে চলেছেন জেলাশাসক বিজয় ভারতীর মোবাইলে। মধ্যরাতে জেলাশাসকের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, কবে ফিরতে পারবো? কবে ট্রেন পাঠাবে রাজ্য সরকার? করোনা ও লকডাউন পরিস্থিতি মোকাবিলায়  এমনিতেই জেলা প্রশাসনের ব্যস্ততা তুঙ্গে। কোথাও করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা দেখা দিলেই সেই এলাকায় বাড়তি নজরদারি দিতে হচ্ছে। করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এলে আক্রান্তদের ঘনিষ্ঠ বা সংস্পর্শে আসা সকলকেই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে তুলে আনা হচ্ছে। এলাকাকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। তার ওপর রয়েছে রেশন ব্যবস্থা পরিচালনা করা থেকে শুরু করে নানান কাজ। এর সঙ্গেই রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী সহ পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে  করোনা মোকাবিলায় ভিডিও কনফারেন্স।

কিন্তু ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকরা এতো বেশি ফোন করছেন যে কাজ সামলানোই দায় হয়ে উঠছে। মিনিটে দুটো, তিনটে পর্যন্ত ফোন আসছে। জেলাশাসক জানালেন, অন্যান্য সব ফোন তো আছেই, দিনে বাইরের রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছ থেকেই চার পাঁচশো ফোন আসছে। কেউ কেউ কটূ কথাও বলছেন। সব শুনেও মাথা ঠান্ডা রেখে উত্তর দিতে হচ্ছে। জেলা শাসক বললেন, শ্রমিকদের বোঝানো হচ্ছে, জেলা প্রশাসন, রাজ্য সরকার তাদের নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত। তাদের কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সে পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু অনেকেই তা বুঝতে চাইছেন না। কেউ বলছেন, ধারাবিতে আমরা পঁচিশ হাজার জন আটকে আছি। নাম লিখে নিন। কেউ জানতে চাইছেন, দু একদিনের মধ্যে ট্রেন পাঠানো সম্ভব হবে কি? কেউ বলছেন, এখনই ট্রেন পাঠান। রাত দু’টোতে ফোন আসছে। ফোন আসছে ভোর পাঁচটাতেও। চিকিৎসা করাতে গিয়ে হায়দরাবাদ, ম্যাঙ্গালোরে আটকে পড়া অনেকেই রয়েছেন সেই দলে। কখন কোথায় কি ঘটে যায়, তাই ফোন বন্ধ রাখার উপায় নেই। রাজ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফোন আসতে পারে। তাই মাথার গোড়ায় ফোন রাখছেন জেলাশাসক। মাঝরাতে অনেক সময় উত্তর দিচ্ছেন ঘুমের ঘোরে। জানা গেল, কোটা থেকে পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়ে ফোন আসছিল বারে বারে। কিন্তু ইদানীং সেই ফোন আসার গ্রাফ যেন সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী। ফোনের সমস্যায় মিটিং পর্যন্ত করতে পারছেন না সুস্থিরভাবে ।

Published by: Simli Raha
First published: May 13, 2020, 3:26 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर