দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

জেলাশাসকের অফিস, গাড়ি সবই নাকি তাঁর! ভর সন্ধ্যায় বৃদ্ধার দাবিতে শোরগোল বর্ধমানে

জেলাশাসকের অফিস, গাড়ি সবই নাকি তাঁর! ভর সন্ধ্যায় বৃদ্ধার দাবিতে শোরগোল বর্ধমানে

কোথায় বাড়ি জানতে চাওয়ায় তিনি অবলীলায় জানিয়ে দেন, নির্মীয়মাণ জেলাশাসকের অফিসের মালকিন তিনিই।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: সন্ধ্যা নামতেই এক বৃদ্ধাকে ঘিরে হই হই কান্ড বর্ধমানের জেলা শাসকের অফিস চত্বরে। এমনিতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তখন জেলাশাসকের কনফারেন্স হলে আধিকারিকদের ভিড়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল প্রশাসনিক বৈঠক শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগেই। তারই মধ্যে বদলি হচ্ছেন জেলাশাসক বিজয় ভারতী। দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার আগে আধিকারিকদের সঙ্গে আলাপচারিতা করছিলেন জেলাশাসক। ঠিক সেই সময় হাতে দু'তিনটে বস্তা নিয়ে জেলাশাসকের অফিসের সামনে হাজির এক বৃদ্ধা। ঘর থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তাঁর।

কোথায় বাড়ি জানতে চাওয়ায় তিনি অবলীলায় জানিয়ে দেন, নির্মীয়মাণ জেলাশাসকের অফিসের মালকিন তিনিই। শুধু তাই নয়, জেলাশাসকের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যাবতীয় গাড়ি দেখিয়ে তিনি জানান, সব গাড়িই তাঁর। জেলাশাসকের অফিসে সে সব ভাড়া খাটছে। প্রয়োজন মতো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সে সব ব্যবহার করেন তিনি। চোখ কপালে ওঠে আধিকারিকদের।

জানা গিয়েছে, গীতারানি কর্মকার নামে এই বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। তাঁর বাড়ি গলসিতে। সেখানে তিন ছেলে আছে। এছাড়াও এক ছেলে থাকেন বর্ধমানে। সুযোগ পেলেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া অভ্যেসে পরিণত করেছেন তিনি। প্রথম প্রথম সমস্যায় পড়েছিল পুলিশও। একবার তাঁর বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ জানাতে গলসি থানায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েক জনকে তুলেও আনে। বৃদ্ধা যে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মনগড়া অভিযোগ করেছেন তা পুলিশকে বোঝাতে কালঘাম ছুটে যায় গ্রামবাসীদের।

জেলাশাসকের অফিস থেকে শুরু করে সব গাড়ি নিজের বলে দাবি করে প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের সমস্যায় ফেলে দিয়েছিলেন বৃদ্ধা। তাঁর সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বৃদ্ধাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য তার ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

গলসি থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এটি তাঁর পঁচিশতম ঘরছাড়া। ইদানিং তাঁকে চোখে চোখে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ দিন সকলের নজর এড়িয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বস্তায় ভরে ঘর ছাড়েন বৃদ্ধা। সকাল থেকেই খোঁজখবর চলছিল। সন্ধ্যায় তাঁর হদিশ পেয়ে নিশ্চিন্ত হন পরিবারের সদস্যরাও। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম প্রথম সমস্যা হচ্ছিল। এখন বিভিন্ন জায়গা থেকে ওই বৃদ্ধার অবস্থানের খবর আসে। বিবরণ শুনেই আমরা তাঁর বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য খবর দিই। তবে এ বার যে তিনি সরাসরি জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে ঘাঁটি গাড়বেন তা বুঝে উঠতে পারেনি পরিবারের অন্যান্যরাও।

Published by: Simli Raha
First published: November 5, 2020, 8:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर