corona virus btn
corona virus btn
Loading

দোরগোড়ায় জামাইষষ্ঠী, আমফানের জেরে মাছের আকালের সম্ভাবনা বাজারে

দোরগোড়ায় জামাইষষ্ঠী, আমফানের জেরে মাছের আকালের সম্ভাবনা বাজারে
জামাই ষষ্ঠীর দিন এমন ভাবে পাত এবার নাও সাজতে পারে।

এই ঝড়ে মাত্র কুড়ি থেকে ২৫ শতাংশ ভেরি ঠিক আছে। সেগুলিই এখন ভরসা।

  • Share this:

সকাল হলেই বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে গিয়ে বাজার থেকে বাগদা ,কাতলা ,ভেটকি কেনার দিনটা রেওয়াজ বেশ কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। জামাইষষ্ঠীতে জামাই সন্তুষ্টিতেও ভাঁটা পড়তে পারে। সৌজন্যে আমফান।

আমফান ঝড় এবং নদীর জলস্ফীতির ফলে ভেসে গেছে বহু মাছের ভেড়ি। নদীর জল প্লাবিত হওয়ার ফলে নোনা জলের ভেড়ি গুলো ভেসে, সমস্ত মাছ চলে গেছে নদীতে। আর মিষ্টি জলের ভেড়ি বা পুকুরে নোনা জল ঢুকে সব মাছ মরে গেছে। এর ফলেই মাছের যোগান অনেকটাই কমে গিয়েছে, বলছেন আড়তদাররা। চাহিদা অনুযায়ী জোগান না থাকায় বাড়তেও পারে মাছের দামও।

দক্ষিণ ২৪পরগণার ক্যানিং, গোসাবা, বাসন্তী; উত্তর ২৪পরগনার ন্যাজাট,মিনাখাঁ ,সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ ,বসিরহাট, হাড়োয়া এই সমস্ত এলাকা মিলে লক্ষ লক্ষ একর নোনা এবং মিষ্টি জলের মাছের চাষ হয়। এলাকাগুলির বেশির ভাগ মানুষ মাছ চাষের উপর জীবিকা নির্বাহ করে।এই সমস্ত মানুষেরা এখন মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন। কী ভাবে বাঁচবেন,জীবিকা নির্বাহ করবেন, তাই ভেবে আকুল ওঁরা।

বন্ধ বহু মাছবাজার। বন্ধ বহু মাছবাজার।

প্রত্যেকেই আড়তদারের কাছ থেকে ও ব্যাংক থেকে চাষের ঋণ করে রেখেছেন।সেই ঋণ শোধ দেওয়া দূরের কথা,পেট চালানো দায় হয়ে পড়েছে।নদীর জল শেষ করে দিয়েছে সব। মিনাখাঁ এলকার মালঞ্চ বটতলার বাসিন্দা মাছ চাষী পিন্টু দাস, এম এ পাশ করার পর চাকরি না পেয়ে,অন্যের জলকর ঠিকা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন।এক একর বছরে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ৫ একর নিয়ে মোটের উপর চলে যাচ্ছিল। এক সপ্তাহ আগে আমফানের ঝড়ে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় সারা এলাকা। ভেড়ি প্লাবিত হয়ে সব মাছ নদীতে চলে যায়। তিনিই বলছিলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে দুই ২৪ পরগনা মিলে।

দীপু মাঝির কথায়,"আমাদের খাওয়ার আর কোনো সংস্থান নেই।দু'মাস লকডাউন চলার ফলে,একেবারেই মাছের দাম ছিল না। সেই কারণে মাছ ধরা হয়নি ভেড়ি থেকে।সেই মাছ বাঁধ ভেঙে চলে গেল নদীতে।মিষ্টি জলের মাছ,নোনা জল ঢুকে যাওয়ার ফলে, মরে পচে গিয়ে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।সঙ্গে ত্বকের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।'

এই ঝড়ে মাত্র কুড়ি থেকে ২৫ শতাংশ ভেরি ঠিক আছে। সেগুলিই এখন ভরসা। ভেঙে যাওয়া নদীর বাঁধ এবং দুর্বল নদী বাঁধ আবার মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। এলাকার মানুষের দাবি, যদি নদীর বাঁধ ঠিক সময় ঠিকঠাকভাবে মেরামত হত তাহলে এত বড় ক্ষতি শিকার হত‌ না গ্রামের মানুষ ও মাছ চাষীরা।এই সব এলাকাতে মাঠে ধান চাষ হয় না। ফলে বেশির ভাগ মানুষই মাছ চাষ করে। মঙ্গলবার সকালে দেখা গেল মালঞ্চ মাছের পাইকারি বাজারে,অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম মাছ। ওঁদের দাবি, যদি সরকার অনুদানের হাত না বাড়ায়,তাহলে ফিরে আর দাঁড়ানো হবে না।

Published by: Arka Deb
First published: May 26, 2020, 9:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर