corona virus btn
corona virus btn
Loading

যত্নে মানুষ করা ছেলে তাড়িয়েছে, মেয়েকে নিয়ে মা-র ঠাঁই ভাঙা স্কুলবাড়িতে

যত্নে মানুষ করা ছেলে তাড়িয়েছে, মেয়েকে নিয়ে মা-র ঠাঁই ভাঙা স্কুলবাড়িতে
বৃদ্ধা গীতাবালা দাস।

বয়স হওয়ায় ঠাঁই মেলেনি পুত্রের সংসারে, মেয়ে পুতুলরানিকে নিয়ে এক কাপড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছে।

  • Share this:

মহিষাদল রাজ হাইস্কুলের ভাঙাচোরা পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ের দালানের পাশে জায়গা হয়েছে তাঁর। আধপেটা খেয়েই এখন দিন গুজরান চলছে মা ও তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের। এখন বুঝে গিয়েছেন, এই ভগ্ন আর পরিত্যক্ত স্কুলই তাঁদের ঘরবাড়ি।

অভাবী মায়ের সঙ্গী হিসেবে মায়ের মতই তাঁর নিজের সংসার থেকে বিতাড়িত মেয়েও থাকে পরিত্যক্ত স্কুল ঘরে। এই স্কুল ঘরেই এক সময় ছাত্রাবস্থায় পড়াশোনা করতেন প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী, এলাকার একটানা ২৫ বছরের সাংসদ সতীশচন্দ্র সামন্ত। ছাত্রাবস্থায় এই স্কুলে একটি দিনও স্কুল কামাই না করা সেই ছাত্র, বিপ্লবী সতীশ সামন্তের কথা মাথায় রেখেই মহিষাদলের মানুষ আজও আন্দোলনের সুরে বলেন- মহিষাদলের এই স্কুল বিল্ডিংকে হেরিটেজ ঘোষণা করা হোক। সেই ভেঙে পড়া স্কুল বিল্ডিং এর একটা কোনই অসহায়ের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এই আশ্রয়হীন মা-মেয়ের।

কিন্তু কেন ঘর নেই বৃদ্ধা গীতাবালা দাসের? তিনি জানালেন, বয়স হওয়ায় ঠাঁই মেলেনি পুত্রের সংসারে, মেয়ে পুতুলরানিকে নিয়ে এক কাপড়ে বেরিয়ে আসতে হয়েছে।  এখন কোনরকম আশেপাশের একে ওকে চেয়েই যাদের সংসার চলছে।

ছেলে শিবপ্রসাদ দাস দুরে ঠেলে দেওয়ায় তমলুক থেকে বৃদ্ধা মা গীতাবালা দাস তাঁর  বাপের বাড়ি মহিষাদলের গড়কমলপুর গ্রামে ফিরে আসে।ঝড়ে একমাত্র আশ্রয়স্থল ভেঙে পড়ায় তাঁর এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে এই স্কুল ঘরের দালান।

তমলুকের বিষ্ণুপদ দাসের সঙ্গে বিয়ে। এক ছেলে শিবপ্রসাদ এবং মেয়ে পুতুলরাণী দাসের জন্ম পরপর ঘটে গেছে জাগতিক নিয়মেই। ছেলে মেয়েকে মানুষ করে গড়ে তুলতে পরিশ্রমে কোন ফাঁক রাখেননি গীতাদেবী ও তাঁর স্বামী। সুপাত্র খুঁজে মেয়ে পুতুলরানীর বিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎই  মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন মেয়ে পুতুলরানী দাস। শশুরবাড়ি থেকে তাঁকে এরপর তাড়িয়ে দেয়। তাঁর  ঠাঁই হয় জন্মদাত্রী মায়ের কাছেই। এসবের মাঝেই মারা যান স্বামী বিষ্ণুপদ দাস। আর এরপর থেকেই ছেলে-বৌমার সংসারে কেমন যেন জঞ্জাল হয়ে দাঁড়ান মা গীতাবালা আর বোন পুতুলরানি।

ছেলে বৌমার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই তমলুকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁরা।  মহিষাদলের গড়কমলপুরে বাপের বাড়ির দেওয়া জায়গাতে ঠাঁই নেন মা ও মেয়ে। কিন্তু ঝড়ে- জলে সেই বাড়িও আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।   অগত্যা তাঁরা ঠাঁই নেন মহিষাদল রাজ পরিবারের তৈরি পুরনো ভাঙাচোরা মহিষাদল রাজ  স্কুলের দালানে।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে যেন কোনো ভূতুড়ে বাড়ি। সেখানেই কোনও রকমে চেয়ে চিন্তেই তাদের চলছে ভাঙা সংসার। হাত পেতে চাওয়া আর অন্যের থেকে পাওয়ার ওপর নির্ভর করেই এখন উনুনে ফুটছে ভাত। তাঁর মধ্যেও প্রতি মাসে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের ওষুধ জোগাতে হচ্ছে মাকে। এমন ভাবে আর কতদিন চলবে সেই চিন্তাই এখন স্থায়ী বৃদ্ধা মায়ের মনে।

SUJIT BHOWMIK

Published by: Arka Deb
First published: June 11, 2020, 8:56 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर