যারা অভিমান করে আছো, বেরিয়ে এসো, ভোটযুদ্ধে হুইলচেয়ার থেকেই ভোকাল টনিক মমতার

পুরুলিয়ার মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার বক্তব্যে ফোকাস রইল, বিনামূল্যে বাড়িতে বাড়িতে রেশন পৌঁছে দেওয়ায়, উন্নয়নমুখী কাজে।

  • Share this:

    #বাঘমুণ্ডি:  শরীর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত। থেমে রইল না নির্বাচনী প্রচার। হুইলচেয়ারে বসেই নির্বাচনী প্রচারে জঙ্গলমহল পৌঁছলেন মমতা। বাঘমুণ্ডির সভা থেকে বললেন, অনেকেই ভেবেছিলেন আমি প্রচারেই বেরোতে পারব না। বিপদের ঝুঁকি কাটিয়ে রাজনীতির ময়দানে আত্মবিশ্বাসী দেখাল তৃণমূল সুপ্রিমোকে।  মমতার বক্তব্যে ফোকাস রইল, বিনামূল্যে বাড়িতে বাড়িতে রেশন পৌঁছে দেওয়ায়, উন্নয়নমুখী কাজে। দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে বললেন, ভাঙা পায়েই খেলা হবে। কড়া চ্যালেঞ্জ ছু়ঁড়ে দিলেন বিজেপির দিকেও।

    ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে আহত হওয়ার পর এই প্রথম সভা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেন সেদিকে নজর ছিল সব পক্ষেরই। আগের সেই মঞ্চজুড়ে হাঁটাচলা নেই, আহত মমতা অনেকটাই সমাহিত। কিন্তু যুক্তিবাণ আগের মতোই ধারালো রইল। উন্নয়নের তাস ফেলার পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের ভোকাল টনিক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ২০১৬ সালে পুরুলিয়ায় ৭টি বিধানসভায় জয় পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু খেলা ঘুরে যায় লোকসভা ভোটেই। গেরুয়া ঝড় বইল কেন, এই প্রশ্নের উত্তরে সকলেরই একবাক্যে বলেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর ভাঙনেই জেরবার হয়েছে দল। এই  ভাঙনেক রুখতেই তাঁর বার্তা, "আমি যদি ভাঙা পায়ে লড়তে পারি তোমরা কেন লড়বে না। যারা অভিমান করে বসে আছো বেরিয়ে এসো। যুদ্ধে অভিমান করে বসে থাকতে নেই। বিজেপিকে মুখের মতো জবাব দেবো।" রাজনৈতিক মহলের মত, মমতার এই বার্তাই এই শেষবেলায় রাশ টানতে পারে দলবদলের ট্রেন্ডিংয়ে।

    মমতা যা যা বললেন-

    • ১০ তারিখে একটি ঘটনায় আমার সারা শরীরে চোট লাগে। বেঁচে গিয়েছি কোনও রকমে। পায়ে প্লাস্টার। হাঁটাচলা করতে পারছি না। কেউ কেউ ভেবেছিল, আমি বেরোতে পারব না ভাঙা পা নিয়ে।
    • কিন্তু আমি মনে করি, আমার যন্ত্রণার থেকেও সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা অনেক বেশি। বাংলায় শান্তিরক্ষা করতে হবে। তাদের ভালো থাকতে হবে।
    • আমি একসময়ে বাঘমুণ্ডিতে এসেছি। রাতের অন্ধকারে অযোধ্যায় গিয়েছি। মানুষ গলতে পারতেন না ভয়ে।
    • সারা পৃথিবীকে আকর্ষণ করে অযোধ্যার সৌন্দর্য। এই এলাকায় উন্নয়নের চূড়ান্ত কাজ করেছি। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল করেছি। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী করেছি। বীরসা মুণ্ডার নামে বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। বাউরি বাগদি কুর্মী বোর্ড তৈরি করেছি। তফশিলি অ্যাডভাইসারি কাউন্সিল তৈরি করেছি।
    • বিধবাদের দেখার কেউ থাকে না। আমরা বিধবাদেরও এক হাজার টাকা করে দেবো।
    • আগামী দিনে বাড়িতে বাড়িকে রেশন পৌঁছে দেবো। বিনে পয়সায় পাবেন।
    • আগে রাস্তাঘাট ভাঙা ছিল। অযোধ্যার পথ এখন ঝাঁ চকচকে।
    • বাঘমুণ্ডি ঝালদায় ওয়াটার প্ল্যান্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে জলের সমস্যা থাকবে না।
    • বিনাপয়সায় চাল পাচ্ছেন। এদিকে গ্যাসের দাম ৮০০ টাকা। বলেছিলেন বিনা পয়সায় গ্যাস দেবো। উজালার নামে কেলেঙ্কারি হয়েছে।
    •  নোটবন্দি করে অনেক টাকা পকেটে পুরেছো।
    • আমরা বিজেপির মতো নেই। বিরসা মুন্ডার ছবি না দেখে অন্য একজনের গলায় বিরসা মুন্ডা বলে মালা দিয়ে চলে গিয়েছিল।
    • বিজেপি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চায়। মাথা নত করবেন না।
    • পুরুলিয়ায় শিল্পের জন্য ৬৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।
    • কেন্দ্রে স্বৈরাচারী সরকার চলছে। যতদিন শ্বাস আছে লড়াই চলবে।
    • পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা টাকাও দেয়নি। আমি ৩০০টি ট্রেনের ভাড়া দিয়েছি। চার লক্ষ লোককে ২০০০টাকা করে দিয়েছি।
    • ফাইভ স্টার হোটেলের খাওয়ার খায় ওরা। তফশিলিদের হাতের খাবার খায় না।
    • আমার পা আর কতদিন ভাঙা রাখবেন! আগামী দিন দেখব আপনাদের পা বাংলার মাটিতে পড়ছে কিনা।
    •  ২০ বছর ধরে কংগ্রেস এখানে অর্থব পাহাড়ের মতো বসে আছে। একটা আসন জিতে বিজেপির সাথে দালালি করবে। ক্ষমতায় আসবে না ওরা। তাই ওদের চাই না।
    Published by:Arka Deb
    First published: