‘মতুয়ারা সবাই নাগরিক, বাংলায় NRC করতে দেব না’, মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি মমতার

‘মতুয়ারা সবাই নাগরিক, বাংলায় NRC করতে দেব না’, মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি মমতার
মতুয়াপাড়ায় দাঁড়িয়ে মতুয়া ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

মতুয়াপাড়ায় দাঁড়িয়ে মতুয়া ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

  • Share this:

    #রাণাঘাট: মতুয়াপাড়ায় দাঁড়িয়ে মতুয়া ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বলেন, ‘ভুল বোঝাচ্ছে বিজেপি ৷ মতুয়ারা তো এমনিই নাগরিক ৷ বিজেপি তাদের আবার কী নাগরিকত্বের মোয়া খাওয়াবে?’ কেন্দ্রের গেরুয়া সরকারের উদ্দেশে মমতার হুঁশিয়ারি,‘ বাংলায় কোনওভাবেই NRC করতে দেব না। NPR করতে দেব না।’

    একুশের কুরুক্ষেত্রের আগে মতুয়া ভোট টানতে বিজেপি তৃণমূলে জোর দড়ি টানাটানি ৷ গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় থাবা বসিয়েছে বিজেপি ৷ মতুয়া অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রের সাতটির মধ্যে ছয়টিতেই এগিয়ে পদ্ম ৷ সেই অশনি সঙ্কেতেই মতুয়া মন টানতে প্রচেষ্টা মুখ্যমন্ত্রীর ৷ রাণাঘাটের মতুয়াপাড়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের উদ্দেশে বলেন, ‘মতুয়ারা সবাই নাগরিক তাদের নাগরিকত্ব কেউ কাড়তে পারবে না ৷ মতুয়ারা কত সাল থেকে বাংলায় আছেন? কেউ ৫০, কেউ ৫২, কেউ ৭০ সাল থেকে। কেউ কেউ তারও আগে থেকে, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকে। তারা তো এমনিই নাগরিক। তুমি আবার কী নাগরিকত্বের মোয়া খাওয়াবে?

    একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে ভুল বোঝানোর অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওদের কথা শুনে একবার আবেদন করবেন, তারপর সবাই বিদেশি হয়ে যাবে! অসমে ১৯ লক্ষ বাঙালিকে ঘরছাড়া করেছে ওরা ৷ মতুয়া ভাইবোনেরা সবাই নাগরিক। নমঃশূদ্র ভাইবোনেরা সবাই নাগরিক। কে কার নাগরিকত্ব কাড়তে পারে? এত সহজ? বাংলায় NRC করতে দেব না। NPR করতে দেব না। মানুষের অধিকার কাড়তে দেব না। নিশ্চিন্তে ঘুমোন মায়ের কোলে। নাগরিক আমরা সবাই। আমাদের নাগরিকত্ব কে কাড়বে?’


    এদিন মতুয়াদের আশ্বস্ত করতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর ৷ নদীয়ার সভা থেকে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘নদিয়ায় ৫ হাজার উদ্বাস্তু পরিবারকে পাট্টা দেওয়া হবে। যে যেখানে থাকে সেখানেই জমি পাট্টা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার ৷ কেউ উদ্বাস্তু থাকবে না ৷’

    দক্ষিণ বঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে মতুয়াদের প্রভাব। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেন, ভোট এলেই বাংলায় ফেরে মতুয়া অ্যাজেন্ডা। রাজ্যে প্রায় ৪০টি বিধানসভা আসনে মতুয়ারা নির্ণায়ক ফ্যাক্টর৷ বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের ৪ আসনে ৫০‍%-এর বেশি ভোটার মতুয়া সম্প্রদায়ের৷ রানাঘাটের লোকসভা কেন্দ্রের ৫ আসনে মতুয়া ভোটার ৫০‍%-এর বেশি৷ নদিয়া, দুই চব্বিশ পরগনার বেশ কয়েকটি আসনে ওপার বাংলা থেকে আসা এই সম্প্রদায় রীতিমতো নির্ণায়ক ফ্যাক্টর ৷

    ২০১১ সালে বিধানসভা ভোট থেকে শুরু একের পর এক নির্বাচনে তৃণমূলকে ঝুলি উপুড় করে দিয়েছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। মতুয়াদের বড়মা বিণাপাণী দেবীর কাছে বারবার ছুটে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়াদের ঠাকুর বাড়ির সদস্যরা মন্ত্রী হয়েছেন, তৃণমূলের সাংসদও হয়েছেন। তবে ছবিটা বদলেছে ২০১৯ সালে ৷ গত ফেব্রুয়ারিতে ঠাকুরনগরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। তিনিও দেখা করেন মতুয়াদের বড়মার সঙ্গে। সামনে আসে নাগরিকত্ব ইস্যু। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বনগাঁ, রানাঘাট ২ আসনে জেতে বিজেপি ৷ রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের ৬ আসনেই এগিয়ে পদ্ম শিবির ৷ একই চিত্র বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রেও ৷ মতুয়া-উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব ইস্যু বারবার খুঁচিয়ে তুলছে বিজেপি। মাসের শেষে ঠাকুরনগরে গিয়ে দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারেন অমিত শাহ। সেই উদ্বাস্তুদের মনজয়ে তৃণমূল নেত্রীও।

    Published by:Elina Datta
    First published: