• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • MAMATA BANERJEE DISSATISFIED WITH THE INFRASTRUCTURE OF BANGLA SAHAYATA KENDRA LETTERS TO DM SANJ

Mamata Banerjee : বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের পরিকাঠামো নিয়ে অসন্তুষ্ট মমতা! জেলায় কড়া চিঠি নবান্নের...

বাংলা সহায়তা কেন্দ্র

এক বছর যেতে না যেতেই সেই কেন্দ্রগুলির (Bangla Sahayata Kendra) পরিকাঠামো নিয়ে এবার অসন্তোষ প্রকাশ করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)।

  • Share this:

#কলকাতা : গত বছরের ১২ ই অক্টোবর নির্দেশিকা জারি করে রাজ্য জুড়ে 'বাংলা সহায়তা কেন্দ্র' (Bangla Sahayata Kendra) গড়ে তোলার নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার। মূলত সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই কেন্দ্রগুলি গড়ে তোলা হয়। এক বছর যেতে না যেতেই সেই কেন্দ্রগুলির (Bangla Sahayata Kendra) পরিকাঠামো নিয়ে এবার অসন্তোষ প্রকাশ করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। 'বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলির' পরিকাঠামোর দিকে কেন নজরে রাখা হচ্ছে না? তা নিয়েই রাজ্যের জেলা শাসক এবং মিউনিসিপাল কমিশনারদের কড়া চিঠি দিল নবান্ন। শুধু তাই নয় নবান্ন সূত্রে খবর খুব শীঘ্রই মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এই বিষয় নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করেও বৈঠক করতে পারেন।

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সহায়তা কেন্দ্র গুলির মাধ্যমে একাধিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। মূলত নবান্ন সূত্রে খবর রাজ্য সরকার ২৫১ টি সহায়তা কেন্দ্র যার মধ্য থেকে ১৮০টি বাংলা সহায়ক কেন্দ্রের মাধ্যমে  আদান-প্রদানের সুবিধা এবং ৭১টি তথ্য আদান-প্রদানের পরিষেবা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল ৩৮ টি বিভাগের মাধ্যমে। কিন্তু তারপরেও কেন এত ঢিলে ঢালা মনোভাব তা নিয়েই নবান্ন জানতে চাইল জেলাশাসক মিউনিসিপাল কমিশনার দের কাছে।

নবান্ন সূত্রে খবর রাজ্যজুড়ে বাংলা সহায়তা কেন্দ্র গুলির মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ১১০১২১৮ টি পরিষেবা দেওয়া হয়েছে পোর্টালের মাধ্যমে। চিঠিতে বলা হয়েছে বিভিন্ন জেলাতে বাংলা সহায়ক কেন্দ্র গুলি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষত বিদ্যুতের সমস্যা,ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা, কম্পিউটার সংক্রান্ত সমস্যার মুখে পড়ছে। শুধু তাই নয় চিঠিতে বলা হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বাংলা সহায়তা কেন্দ্র গুলির যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তাদেরকে অন্যান্য জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে কোনোরকম অনুমতি ছাড়াই। এমনকি বাংলা সহায়ক কেন্দ্র করে যথাযথ প্রচার করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। নবান্নের তরফের চিঠি দিয়ে যেমন এই বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে তেমনই এই বিষয়ে একাধিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর মুখ্য সচিবের স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে: ১) দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে পরিকাঠামো সংক্রান্ত যে সমস্যা গুলি রয়েছে এবং কী ভাবে সেই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা যায় তার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করতে হবে প্রত্যেকটি বিভাগের সঙ্গে।

২) বাংলা সহায়তা কেন্দ্র গুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা যাঁরা অন্যান্য জায়গায় কাজ করছেন তাঁদেরকে দ্রুত সেই জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

৩) বাংলা সহায়তা কেন্দ্র গুলির সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে অফিসারদের এবং ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা যারা নির্বাচিত হয়েছেন বা বিভিন্ন মিউনিসিপালিটি তে যারা রয়েছেন এবং কী কী ব্যবস্থা বা পরিষেবা এই বাংলা সহায়ক কেন্দ্রের মাধ্যমে দেওয়া যাবে সেই সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

৪) প্রত্যেকটি রিভিউ মিটিং এ বাংলা সহায়তা কেন্দ্র কি এবং তার পরিষেবা কী কী হবে সেই বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে জেলাশাসক দের।

৫) একজন করে অতিরিক্ত জেলা শাসক এবং আইটি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অফিসারদের বাংলা সহায়ক কেন্দ্রগুলিতে দায়িত্বে রাখতে হবে প্রত্যেক দিনের নজরদারি এবং কি কি কাজ করছে তা দেখার জন্য।

৬) বাংলার সহায়ক কেন্দ্র গুলির যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক হবেন তাঁদেরকেও প্রশিক্ষণ নিতে হবে সরকারি পরিষেবাগুলি যেগুলো পাওয়া যাবে সেগুলো সঙ্গে সাযুজ্য রেখে।

৭) বাংলা সহায়তা কেন্দ্র গুলি যাতে দৃষ্টিগত ভাবেও ভাল হয় সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

নবান্নের তরফে বাংলা সহায়তা কেন্দ্র গুলিকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এই সাত দফা পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি জানানো হয়েছে বাংলা সহায়ক কেন্দ্র গুলি নিয়ে রাজ্যের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকরা প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা করবে। সব মিলিয়ে বাংলা সহায়তা কেন্দ্র গুলিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার যে প্রয়োজনীয় তৎপরতা শুরু করেছে তা কার্যত নিশ্চিত।

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by:Sanjukta Sarkar
First published: