দুটো বুথ লুঠ করে ঝাড়গ্রাম দখল করেছিল ওরা, গোপীবল্লভপুরে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

দুটো বুথ লুঠ করে ঝাড়গ্রাম দখল করেছিল ওরা, গোপীবল্লভপুরে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

গোপীবল্লভপুরের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা অভিযোগ করলেন, গত লোকসভা ভোটে দুটি বুথ লুঠে করে বিজেপি ঝাড়গ্রামের ক্ষমতা দখল করেছে।

  • Share this:

    #গোপীবল্লভপুর: কলকাতায় ফিরেই দলের  ম্যানিফেস্টো প্রকাশ। তাঁর আগে জঙ্গলমহলের গোপীবল্লভপুরে এই দফার শেষ সভা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতিয়ার হল উন্নয়ন। মমতার বক্তব্য ধরা রইল তিনটি স্তম্ভে, যথা বিনামূল্যে রেশন, জঙ্গলমহলের শান্তি, আর উন্নয়ন। পাশাপাশি মমতা অভিযোগ করলেন, গত লোকসভা ভোটে দুটি বুথ লুঠে করে বিজেপি ঝাড়গ্রামের ক্ষমতা দখল করেছে।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, "আমি সবটাই জানি। দুটো বুথ লিড করে ওরা লোকসভায় জিতে যায়। এবার তা করতে দেবেন না।" কোন দুটি অভিযোগের বুথে আঙুল, তা অবশ্য খোলসা করেননি মমতা।

    মমতা এদিনও বক্তব্যের শুরুতে তাঁর পায়ের চোটের কথা তোলেন। বলেন, "আমার পায়ে চোট রয়েছে, হ্যাঁ, কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমার মা বোনেদের দুটো পা-ই আমার পা। আমি না বেরোলে দাঙ্গাবাজরা গোপীবল্লভপুর, লালগড় দখল করে নেবে। ভাইবোনেরা কোথায় যাবে।" সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে  বারংবার এল ঝাড়খণ্ডের সেলফহেলফ গ্রুপ, আশা-র মেয়েদের কথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে যে মেয়েদের মন, তা পরিষ্কার হল বক্তব্যের ধরণ ধারণেই।

    উন্নয়েন ফিরিস্তি দিয়ে মমতা বললেন, "ঝাড়গ্রামটা আমি তৈরি করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ আমরা করেছি। আগে রাস্তা ছিল না। ঝাঁ চকচকে রাস্তা চারদিকে।কালিঞ্জা সেতু তৈরি করে সাঁকরাইল ব্লকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। কণকদূর্গা মন্দিরে ২ কোটি টাকা দিয়ে গিয়েছি।" পাশাপাশি তুলনা টেনে এনে বললেন, "দু বছর আগে জিতে ওরা কিছু করেনি।‌"

    সরাসরি ভোট না চেয়ে  মমতা এদিন স্থানীয় আবেগ ধরতেই মন দিয়েছিলেন। তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ, আমি ঝাড়গ্রামকে ভালোবাসি।অতীত মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলে যাচ্ছিলেন, যখন কেউ আসত না খুন হতো রক্ত ঝরত তখনও আসতাম।আমরা ক্ষমতায় আসার পরে একটা মানুষও ঝাড়গ্রামে মারা যায়নি। ঝাড়গ্রামকে জঙ্গলসুন্দরী হিসেবে দেখতে চাই। বিজেপিকে বহিরাগত তকমায় আগেই বিঁধেছে তৃণমূল। মমতার উক্তি, আমিই দেখব বেলপাহাড়ি জামবনি। এটা আমার দেখার কথা। দিল্লি জানেই না।

    মমতা এদিন বলছিলেন, খগেন্দ্র মাহাতো ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া। প্রসঙ্গত তৃণমূল নেত্রী আগে থেকেই বলে আসছেন ২৯৪টি কেন্দ্রেই তিনি প্রার্থী। কথাটির নির্যাস অনেকটা মোদি হাওয়ার মতো। অর্থাৎ মানুষ যেন প্রার্থী নয়, তাঁকে বিবেচনা করেই ভোট দেন, সেটাই কামনা মমতার।  ঘরে ফিরে লড়াইয়ের নতুন হাতিয়ার উন্মোচন করবেন. তার আগে জঙ্গলের মন ফেরাতে চেষ্টার কসুর করলেন না মমতা।

    Published by:Arka Deb
    First published: