'ব্ল্যাকমেল করে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না', শুভেন্দুকেই কি নিশানা করলেন মমতা?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ Photo-File

এ দিন অবশ্য মেদিনীপুরের সভায় অধিকারী পরিবারের কেউই উপস্থিত ছিলেন না৷

  • Share this:

    #মেদিনীপুর: ব্ল্যাক মেল, দর কষাকষি করে নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না৷ নাম না করে মেদিনীপুরের সভা থেকে এ ভাবেই কি শুভেন্দু অধিকারীকে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তৃণমূল নেত্রী ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে বিজেপি দল এবং তাদের বন্ধু-দের নিশানা করেই এই মন্তব্য করেন৷ যেহেতু শুভেন্দু বিজেপি-তে যোগ দেবেন বলে প্রবল জল্পনা চলছে, তাই নন্দীগ্রামের বিধায়ককে উদ্দেশ করেই মমতা এই বার্তা দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে৷

    এ দিন অবশ্য মেদিনীপুরের সভায় অধিকারী পরিবারের কেউই উপস্থিত ছিলেন না৷ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলের বিচ্ছেদ সময়ের অপেক্ষা৷ পায়ে চোট থাকার কারণে সভায় যাননি কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী৷ শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী দিল্লিতে রয়েছেন৷ আর এক ভাই এবং কাঁথি পুরসভার প্রশাসক সৌম্যেন্দু অধিকারীকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি৷ পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারী অনেক নেতাই এ দিনের সভায় হাজির হননি বলে খবর৷

    শুভেন্দু অধিকারী এখনও তৃণমূলের বিধায়ক৷ দলের সদস্যপদও ছাড়েননি তিনি৷ এ দিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু বলেন কিনা সেদিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের৷ সরাসরি শুভেন্দুর নাম না নিলেও মমতা বুঝিয়ে দেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তৃণমূল এখন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে৷ ১৯৯৮ সালে দল প্রতিষ্ঠার পর কীভাবে লড়াই করতে হয়েছে, সেকথাও মনে করিয়ে দেন তৃণমূলনেত্রী৷ এই প্রসঙ্গেই দুই মেদিনীপুরের লড়াইয়ের কথা বলেন তিনি৷ পূর্ব মেদিনীপুরের কথা বলতে গিয়ে বলেন, 'তৃণমূল যখন তৈরি করেছিলাম, আমার মনে আছে প্রথমবার অখিল লড়াই করেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থেকে৷ আমরা জিততে পারিনি, দ্বিতীয় হয়েছিলাম৷ তৃণমূল কংগ্রেস অত দুর্বল নয়৷ যদি কেউ মনে করে তৃণমূল কংগ্রেসকে ব্ল্যাকমেলিং করব, দর কষাকষি করব, তৃণমূল কংগ্রেসকে নির্বাচনের সময় দুর্বল করব৷ তাহলে সেই বিজেপি দল এবং বিজেপি দলের যারা বন্ধুদের বলব আগুন নিয়ে খেলবেন না, আর যাকে পারেন জব্দ করতে, তৃণমূল কংগ্রেসকে পারবেন না৷ কারণ তৃণমূল কংগ্রেস মানুষকে আলিঙ্গন করে বেঁচে আছে৷'

    গত কয়েকদিনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের বেশ কয়েক দফায় আলোচনা হয়৷ দলের পরিচালনা নিয়ে শুেভন্দুর বেশ কিছু অভিযোগ ছিল৷ ঘনিষ্ঠ মহলে নন্দীগ্রামের বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, তাঁর সেই সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়নি৷ তৃণমূলের সঙ্গে শেষবার শুভেন্দুর যে আলোচনা হয়, তাতে সব সমস্যা মিটে গিয়েছিল বলে দলের তরফে দাবি করা হয়েছিল৷ সেই বৈঠক শেষে ফোনে শুভেন্দুর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও হয়৷ কিন্তু তার পরেও অনড় থাকেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক৷ এর পরেই দলনেত্রীর নির্দেশে শুভেন্দুর সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে তৃণমূল৷ সেই কারণেই মমতা এ দিন ব্ল্যাক মেল, দর কষাকষির কথা তুললেন বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের৷

    এ দিনের সভায় মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, নন্দীগ্রাম- সিঙ্গুরকে তিনি ভোলেননি৷ মঙ্গলবার গোটা রাজ্যের সব ব্লকের সঙ্গে নন্দীগ্রামেও কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: