দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'ব্ল্যাকমেল করে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না', শুভেন্দুকেই কি নিশানা করলেন মমতা?

'ব্ল্যাকমেল করে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না', শুভেন্দুকেই কি নিশানা করলেন মমতা?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ Photo-File

এ দিন অবশ্য মেদিনীপুরের সভায় অধিকারী পরিবারের কেউই উপস্থিত ছিলেন না৷

  • Share this:

#মেদিনীপুর: ব্ল্যাক মেল, দর কষাকষি করে নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না৷ নাম না করে মেদিনীপুরের সভা থেকে এ ভাবেই কি শুভেন্দু অধিকারীকে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তৃণমূল নেত্রী ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে বিজেপি দল এবং তাদের বন্ধু-দের নিশানা করেই এই মন্তব্য করেন৷ যেহেতু শুভেন্দু বিজেপি-তে যোগ দেবেন বলে প্রবল জল্পনা চলছে, তাই নন্দীগ্রামের বিধায়ককে উদ্দেশ করেই মমতা এই বার্তা দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে৷

এ দিন অবশ্য মেদিনীপুরের সভায় অধিকারী পরিবারের কেউই উপস্থিত ছিলেন না৷ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলের বিচ্ছেদ সময়ের অপেক্ষা৷ পায়ে চোট থাকার কারণে সভায় যাননি কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী৷ শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী দিল্লিতে রয়েছেন৷ আর এক ভাই এবং কাঁথি পুরসভার প্রশাসক সৌম্যেন্দু অধিকারীকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি৷ পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারী অনেক নেতাই এ দিনের সভায় হাজির হননি বলে খবর৷

শুভেন্দু অধিকারী এখনও তৃণমূলের বিধায়ক৷ দলের সদস্যপদও ছাড়েননি তিনি৷ এ দিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে কিছু বলেন কিনা সেদিকে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের৷ সরাসরি শুভেন্দুর নাম না নিলেও মমতা বুঝিয়ে দেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তৃণমূল এখন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে৷ ১৯৯৮ সালে দল প্রতিষ্ঠার পর কীভাবে লড়াই করতে হয়েছে, সেকথাও মনে করিয়ে দেন তৃণমূলনেত্রী৷ এই প্রসঙ্গেই দুই মেদিনীপুরের লড়াইয়ের কথা বলেন তিনি৷ পূর্ব মেদিনীপুরের কথা বলতে গিয়ে বলেন, 'তৃণমূল যখন তৈরি করেছিলাম, আমার মনে আছে প্রথমবার অখিল লড়াই করেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থেকে৷ আমরা জিততে পারিনি, দ্বিতীয় হয়েছিলাম৷ তৃণমূল কংগ্রেস অত দুর্বল নয়৷ যদি কেউ মনে করে তৃণমূল কংগ্রেসকে ব্ল্যাকমেলিং করব, দর কষাকষি করব, তৃণমূল কংগ্রেসকে নির্বাচনের সময় দুর্বল করব৷ তাহলে সেই বিজেপি দল এবং বিজেপি দলের যারা বন্ধুদের বলব আগুন নিয়ে খেলবেন না, আর যাকে পারেন জব্দ করতে, তৃণমূল কংগ্রেসকে পারবেন না৷ কারণ তৃণমূল কংগ্রেস মানুষকে আলিঙ্গন করে বেঁচে আছে৷'

গত কয়েকদিনে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের বেশ কয়েক দফায় আলোচনা হয়৷ দলের পরিচালনা নিয়ে শুেভন্দুর বেশ কিছু অভিযোগ ছিল৷ ঘনিষ্ঠ মহলে নন্দীগ্রামের বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, তাঁর সেই সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়নি৷ তৃণমূলের সঙ্গে শেষবার শুভেন্দুর যে আলোচনা হয়, তাতে সব সমস্যা মিটে গিয়েছিল বলে দলের তরফে দাবি করা হয়েছিল৷ সেই বৈঠক শেষে ফোনে শুভেন্দুর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাও হয়৷ কিন্তু তার পরেও অনড় থাকেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক৷ এর পরেই দলনেত্রীর নির্দেশে শুভেন্দুর সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে তৃণমূল৷ সেই কারণেই মমতা এ দিন ব্ল্যাক মেল, দর কষাকষির কথা তুললেন বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের৷

এ দিনের সভায় মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, নন্দীগ্রাম- সিঙ্গুরকে তিনি ভোলেননি৷ মঙ্গলবার গোটা রাজ্যের সব ব্লকের সঙ্গে নন্দীগ্রামেও কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: December 7, 2020, 3:05 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर