corona virus btn
corona virus btn
Loading

সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ায়  রথ পুজোর লাইভ টেলিকাস্ট

সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ায়  রথ পুজোর লাইভ টেলিকাস্ট

জেনে নিন মহিষাদল রাজবাড়ির শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস

  • Share this:

#মহিষাদল: মহিষাদলের রাজবাড়ির রথের পুজোপাট বাড়িতে বসেই দেখার ব্যবস্থা করলো প্রশাসন।  রশি টানা না হলেও রথযাত্রা উপলক্ষে মহিষাদলে সোমবার সন্ধ্যায় শুরু পুজোপাট। শুরু রথের লেত ও কলস পুজো ও রশি উৎসব। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতেই স্যোসাল মিডিয়ায় এসব কিছুই দেখানোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।করোনার কারনে টানা হবেনা রথের রশি। হবে প্রাচীণ রীতিনীতি মেনে জগন্নাথদেব ও গোপালজীউর পুজোপাট।

একদিন আগেও আজ সোমবার মহিষাদল রাজ পরিবারের রথের রশি ও কলস পুজোও হয়ে গেলো অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই। একদিন আগের সেই পুজোপাট এবং রথের দিনের সমস্ত কর্মসূচিই বাড়িতে বসে দেখার ব্যবস্থা করেছে মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতি। যে রথের রশি টানা না হলেও পুজো আর্চা হবে নিয়ম মেনেই। তবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল রাজ পরিবারের ২৪৩ বছরের রথ করোনার কারনে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পুরনো  নিয়ম মেনে আজ আগের দিন লেথ বা রশি পুজো ও উৎসব পালন করা হয়। এদিন রাজবাড়ির কুল দেবতার মন্দির থেকে শালগ্রাম শিলা নিয়ে আসা হয়। রথ সাজিয়ে পূজার্চনা চলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় ভিড় না করে দূরত্ব বজায় রেখে সমস্ত কিছু সম্পন্ন করার।স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে রাজ রাজত্ব, ইতিহাসের পাতায় বিভিন্ন ভাবেই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে মহিষাদলের রথ কাহিনী। রাজ পরিবারের রাজত্ব জমিদারি চলে গেলেও মহিষাদল রাজবাড়ীর শতাব্দী প্রাচীন রথ অনেক পুরনো কথাই মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু কোরোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে ও সরকারের সামাজিক দূরত্বের বিধি নিষেধ মেনে চলার জন্য  মহিষাদল রাজবাড়ীর বর্তমান সদস্য ও মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবার বন্ধ থাকবে ঐতিহ্যবাহী গোপাল জীউর রথযাত্রা। তবে রথ টানা বন্ধ থাকলেও এবারও মাসির বাড়ি যাবেন গোপালজীউ আর জগন্নাথদেবের মুর্তি। যাবেন রাজবাড়ীর পালকি চড়েই।

মহিষাদল রাজবাড়ির ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়,রাজা আনন্দলাল উপাধ‍্যায়ের সহধর্মিনী ধর্মপ্রাণ রানী জানকি দেবী মহিষাদলের রথের শুভ  সূচনা করেছিলেন ছোট্ট একটি রথ দিয়ে। এরপর ১৮০৪ সালে জানকীদেবীর মৃত্যুর পর অল্পকালের জন্য মতিলাল পাঁড়ে মহিষাদলের রাজত্ব ভার গ্রহণ করেন। সেই সময় তিনি রানীর রথ যাত্রার রীতি বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুবিশাল একটি ১৭ চূড়োর রথ তৈরি করান। তারপর থেকেই সেই রথ বৃহৎ আকারে মহিষাদলের উৎসবে পরিণত হয়। সময়ের সাথে সাথে রথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা ফের ১৮৫২ সালে রাজা লছমন প্রসাদ গর্গ বাহাদূর কলকাতা থেকে চীনা মিস্ত্রি আনিয়ে  প্রায় চার হাজার টাকা খরচ করে সতেরো চূড়ো রথের সংস্কার করান। এরপর ১৯১২ সালে স্থানীয় শিল্পী মাধব চন্দ্র দে রথের সামনের শ্বেত শুভ্র  দুটি কাঠের ঘোড়া দায়িত্ব পেয়ে স্থাপন করেন। যা বর্তমানে এখনো বিরাজমান ।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে একের পর এক রথের চূড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১৭ চুড়ার রথ নেমে এসেছে ১৩ চুড়ায়।৩৪ চাকা বিশিষ্ট মহিষাদল রাজবাড়ির প্রাচীন এই রথের নাম পুরী, মাহেশের পরই। প্রতি বছরের মতো ঘটা করেই  প্রাচীন রীতি মেনে  রথের আগের দিন হয় লেত উৎসব। এবারও হয়েছে। তবে অনাড়ম্বর ভাবেই হয়েছে। কেবলমাত্র রাজবাড়ীর সদস্যরা উপস্থিত থেকেই সমস্ত আচার অনুষ্ঠান  হবে নিয়ম রক্ষার্থে। যে রথের রশিতে দীর্ঘ ২৪৩ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ ভক্তরা টান দেন, এ বছর তা করোনার কারনে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। পরিবর্তে রাজবাড়ীর শাল ও মহানিমের তৈরি পালকিতে চড়িয়ে মাসির বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে জগন্নাথদেবকে। সেখানেও মেনে চলা হবে সরকারি নিয়ম বিধি।  রথ বন্ধ থাকায় পালকিতে করে কুল দেবতা গোপাল জীউ ও জগন্নাথ দেবকে এবছর মাসির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সাত দিন সেখানে থাকার পর আবার পালকিতে চড়েই ফিরিয়ে আনা হবে। সরকারি বিধি নিষেধ মেনে রাজবাড়ির সমস্ত আচার উপাচার মেনেই এবার পালিত হলো রশি পুজো ও কলস উৎসব।

SUJIT BHOWMIK

Published by: Debalina Datta
First published: June 23, 2020, 11:53 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर