পুরুলিয়ার ছাতা উৎসব আদিবাসী নারী-পুরুষের মিলনক্ষেত্র, এক রাতেই ঠিক হয় বিয়ে!

পুরুলিয়ার ছাতা উৎসব আদিবাসী নারী-পুরুষের মিলনক্ষেত্র, এক রাতেই ঠিক হয় বিয়ে!
  • Share this:

#পুরুলিয়া: একদিনের রাজা, গণতন্ত্রেও রাজতন্ত্রের স্বাদ!

একদিনের রাজা আজ চাকলতোড়ের অমিত। ভাদ্রমাসের সংক্রান্তির দিন অনুষ্ঠিত হয় পুরুলিয়ার ঐতিহ্যপূর্ণ ছাতা মেলা। সন্ধে থেকে এখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে থাকা চাকলতোড় গ্রামে ছাতা মেলায় দূরদূরান্ত থেকে আসেন আদিবাসীরা। সারা রাত ধরে চলে এই মেলা। এই মেলা আদিবাসীদের কাছে মিলন মেলা বলে পরিচিত। পূর্বাঞ্চলের আদিবাসীদের কাছে পুরুলিয়ার ছাতামেলা আজও সবথেকে বড় মিলনমেলা গুলির অন্যতম। ভাদ্র মাসের সংক্রান্তির দিন রীতি মেনে অনুষ্ঠিত হল এই ছাতামেলা। এই মেলা মূলত আদিবাসীদের হলেও মেলায় ছাতা তোলেন ক্ষত্রিয় রাজা। প্রায় ১০০ ফুট লম্বা একটি দণ্ডে সাদা রঙের অতিকায় ছাতা উত্তলন করা হয়। পঞ্চকোট রাজবংশের উত্তর পুরুষদের একাংশ রয়েছেন এই গ্রামে। অতীতে তাঁরাই ছিলেন এই অঞ্চলের রাজা। একদিনের জন্য রাজবেশ পরে এই ছাতা তোলেন এই পরিবারের কোনও পুরুষ।

কথিত আছে চুয়াড় বিদ্রোহের সময় আদিবাসীদের নিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করে এই এলাকায় জয়ী হন কাশীপুরের রাজা। দিনটিকে স্মরণীয় করতে ছাতা তোলেন তিনি। এবারও ছাতা তোলেন রাজ বংশের সন্তান অমিত সিংদেও। তখন থেকেই এই মেলায় জড়ো হন আদিবাসীরা। ইতিহাস যাই হোক না কেন, এখন পুরুলিয়ার এই ছাতা মেলা হল আদিবাসী তরুণ-তরুণীদের মন দেওয়া নেওয়ার জায়গা। সাঁওতাল সমাজে বলা হয় চাকলতোড়ের ছাতা মেলায় না গেলে সাঁওতাল কন্যারা নারী হিসেবে পরিণত হয় না। তাই এই মেলায় কিশোরী ও তরুণীদের ভিড় হয় সবথেকে বেশি। শুধু পুরুলিয়া বা এ রাজ্য নয়। এই মেলায় ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার এমনকি ছত্তিসগড় থেকেও আসেন বহু আদিবাসী তরুণ তরুণী। নাচ গানের মাধ্যমে মেলাতেই হয় একে অপরের সাথে পরিচয়। হয় মন দেওয়া নেওয়া। মনের মিল হলে একরাতের মধ্যেই বিয়ের ঠিক হয়ে যায় তাঁদের। ছাতার মাঠের একটা অংশ ঘিরে দেওয়া হয় মেলার জন্য। রাত্রে নিজেদের সংস্কৃতি বজায় রেখে এখানে নাচগান-সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকেন আদিবাসীরা।

First published: 09:39:36 AM Sep 19, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर