corona virus btn
corona virus btn
Loading

এই পরিবারে কুলদেবতার সঙ্গে পুজো হয় উত্তম-সুচিত্রারও

এই পরিবারে কুলদেবতার সঙ্গে পুজো হয় উত্তম-সুচিত্রারও
ঠাকুরঘরে লক্ষ্মী, নারায়ণ,বিবেকানন্দের পাশেই জ্বলজ্বল করছে মহানায়ক-নায়িকার ছবি

এই পরিবারে কুলদেবতার সঙ্গে পুজো হয় উত্তম-সুচিত্রারও

  • Share this:

#পূর্ব বর্ধমান: আরাধ্যা দেবদেবী তো অনেকেরই আছে। পুজোও হয় নিয়মিত। কিন্তু সেই আরাধ্য দেবদেবী যদি উত্তম-সুচিত্রা হন? শুনেছেন কখনও এমনটা? জানেন কি এক দম্পতির পরিবারে আজও রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, লক্ষ্মী -নারায়ণের সঙ্গে প্রতিদিন পুজো পান উত্তম -সুচিত্রা। প্রতি রবিবার মালা পরানো থেকে প্রতি সন্ধ্যায় উত্তম-সুচিত্রার ফিল্ম দেখা। সবই হয় নিয়ম মেনে। জানেন কোথায় পূজিত হন মহানায়ক , মহানায়িকা?

পূর্ব বর্ধমানের নতুনপল্লীর বাসিন্দা শরৎচন্দ্র কোনার ও তাঁর স্ত্রী সূচনা কোনারের ক্ষেত্রে এ কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। তাঁদের ঠাকুরঘরে দেবতার ছড়ছড়ি। তাঁদের সঙ্গেই নিত্যপুজো পান মহানায়কও। কলেজে পড়ার সময়ে কলকাতায় চাক্ষুষ দেখা উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেনকে। প্রথম দর্শনেই মোহিত। দুজনকে এক্কেবারে গুরুর আসনে বসিয়ে ফেলেন শরৎ কোনার। তারপর গঙ্গা দিয়ে গড়িয়ে গেছে বহু জল । তবু আজও কাটেনি ঘোর। বরং সেই মুগ্ধতা চারিয়ে গেছে স্ত্রী সূচনার মধ্যেও।

বর্ধমান শহরের নতুনপল্লী। রাস্তার ধারেই দোতলা বাড়ি। নাম স্বপ্নলীন। বাড়ির কর্তা শরৎচন্দ্র কোনার সম্পন্ন বাস ব্যবসায়ী। কোনার দম্পতির আরাধ্যা দেব-দেবী উত্তম-সুচিত্রা। কম বয়সে বেশ কয়েকবার কলকাতায় উত্তম-সুচিত্রার শুটিং দেখেছেন। সুযোগ হয়েছে উত্তমকুমারকে প্রণাম করারও। তাঁদের সাজানো গোছানো বাড়ির প্রতিটি কোনায় উত্তম-সুচিত্রার ছবি। ঠাকুরঘরে লক্ষ্মী, নারায়ণ,বিবেকানন্দের পাশেই জ্বলজ্বল করছে মহানায়ক-নায়িকার ছবি। তাঁদের পুজো না করে বাড়ি থেকে বেরনোর কথা ভাবতেই পারেন না স্বামী-স্ত্রী।

শরৎ কোনারের ব্যবসা ক্ষেত্রও উত্তম-সুচিত্রায় রঙীন। তাঁর তিনটি বাসের নাম মহানায়ক , সাগরিকা ও বিশ্ববন্দিতা। বাস নিয়ে উত্তমকুমারের বাড়িতেও গেছেন তিনি। উত্তম-সুচিত্রার ছবি দিয়ে সাজানো বাসে বাজে শুধু তাঁদেরই গান। তাঁর এই উত্তমপ্রীতিতে অভিভূত উত্তমকুমারের পরিবারের সদস্যরাও। দুই পরিবার আজ অনেক কাছাকাছি। উত্তমকুমারের বাড়িতে আজ নিত্য যাতায়াত শরৎ কোনারের। বিয়ে বা যে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণপত্র নিয়ে শরতবাবুর বাড়িতে আসেন উত্তমকুমারের বাড়ির সদস্যরাও।

প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে ঠাকুরঘরে উত্তম-সুচিত্রার পুজো। সন্ধ্যায় কাজ সেরে বাড়ি ফিরে নিয়ম করে দুজনের সিনেমা দেখা। রাতে ঘুমানোর আগে আরাধ্যা দেবদেবীকে স্মরণ। ব্যাস। তাতেই সব বিপদ কেটে যাওয়ার বিশ্বাস রাখেন শরৎ-সূচনা। আজও। বিশ্বাসে মিলায়ে বস্তু। তর্কে বহুদূর।

First published: November 7, 2017, 1:42 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर