• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • Kali Puja 2021: ফুল আর আলোর মালায় সেজে উঠেছে অন্যতম শক্তি পীঠ তমলুকের প্রাচীন দেবী বর্গভীমা মন্দির

Kali Puja 2021: ফুল আর আলোর মালায় সেজে উঠেছে অন্যতম শক্তি পীঠ তমলুকের প্রাচীন দেবী বর্গভীমা মন্দির

তমলুক শহরেই বিরাজিত মা বর্গভীমা

তমলুক শহরেই বিরাজিত মা বর্গভীমা

মা কালীর পুজো (Kali Puja 2021) প্রস্তুতি ঘিরে তৎপরতা শুরু হয়েছে ৫১- শক্তি পীঠের অন্যতম তমলুকের (Tamluk) প্রাচীন মা বর্গভীমা মন্দিরে (Ma Bargabhia Temple)। তমলুক শহরেই বিরাজিত মা বর্গভীমা।

  • Share this:

তমলুক : মা কালীর পুজো (Kali Puja 2021) প্রস্তুতি ঘিরে তৎপরতা শুরু হয়েছে ৫১- শক্তি পীঠের অন্যতম তমলুকের (Tamluk) প্রাচীন মা বর্গভীমা মন্দিরে (Ma Bargabhia Temple)। তমলুক শহরেই বিরাজিত মা বর্গভীমা। কথিত আছে,  একান্ন শক্তিপীঠের এই পীঠে সতীর বাম গোড়ালি পড়েছিল। দেবী এখানে ভীমরূপা ‘কপালিনী’। তাঁর ভৈরব হলেন সর্বানন্দ। এও কথিত আছে যে, মহাভারতের সময়কালে ময়ূরবংশীয় রাজা তাম্রধ্বজের রাজত্বকালে রাজার নির্দেশ অনুযায়ী এক জেলেনী রাজার নির্দেশে রোজ জ্যান্ত শোল মাছ নিয়ে যেতেন রাজবাড়িতে।

আরও পড়ুন : নানা লোককথা জড়িয়ে কমলাকান্ত কালীবাড়িকে ঘিরে, দীপান্বিতা কালীপুজোয় তিনদিন ধরে চলে উৎসব

একদিন রাজপ্রাসাদে যাওয়ার সময় তিনি লক্ষ করেন সবকটি মাছ মরে গিয়েছে ৷  পাশেই ছিল একটা জলাশয়, সেই জলাশয়ের জল মাছের উপর ছিটিয়ে দিতেই মাছগুলো আবার বেঁচে উঠেছিল। এই অতিলৌকিক ঘটনার কথা রাজা জানতে পারেন। এরপর রাজা সেই জলাশয়ের পাশে বেদীর উপর একটি বিগ্রহ দেখতে পেয়েছিলেন। রাজা বুঝতে পারেন এই দেবী জাগ্রত এবং এই জলাশয়ের জলের দৈবগুণ আছে। তখন রাজা তাম্রধ্বজ এই পবিত্র জলাশয়ের পাশে দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা আজও মা বর্গভীমার মন্দির নামেই পরিচিত। আজও এই মন্দিরে কালীপূজোয় শোল মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। এই মন্দির স্থাপন নিয়ে আরও একটি কাহিনি শোনা যায়, ধনপতি সওদাগর নাকি এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই মন্দির প্রতিষ্ঠার কাহিনি থেকেই আন্দাজ করা হয় এই মন্দিরের প্রাচীনত্ব। মা বর্গভীমা তমলুকের এই মাতৃমন্দিরে এক হাজার বছরের বেশি সময় ধরে বিরাজ করছেন বলে সেবায়েতরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : বাউরী সম্প্রদায়ের হাতে প্রতিষ্ঠিত শ্মশান কালী আজ রূপ পেয়েছে সার্বজনীন কালী পুজোর

আরও পড়ুন : ভোরবেলা চোখ গেল খাঁচায়, চমকে উঠল গোটা গ্রাম! আতঙ্ক শেষে জানা গেল...

পণ্ডিতরা বলে থাকেন, দেবী ভক্তদের মোক্ষদান করেন তাই দেবী বর্গভীমা নামেই পরিচিত। নাটমন্দির, যজ্ঞ মন্দির, জগমোহন ও মূল মন্দির রয়েছে এখানে। মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে কষ্টিপাথরে নির্মিত দেবীর মূর্তি। কালীপুজোর দিন পূর্ব মেদিনীপুর-সহ পাশের জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে। কালীপুজোর দিন সকাল থেকে তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে প্রতি বছরই ভক্ত সমাগম ঘটে। সারাদিন চলে বিশেষ পুজোপাঠ। রাতে মাকে রাজরাজেশ্বরী বেশে সাজিয়ে চলে পূজার্চনা হোম যজ্ঞ। পুজো শেষ হয় ভোর রাতে। মাকে ষোড়শ উপাচারে পুজো করা হয়। মায়ের ভোগে শোল মাছ নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয়। জানা যায়, তমলুক শহরের সমস্ত পুজো মণ্ডপেই বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর পুজো শুরু হয়। বাড়ি কিংবা ক্লাবের কালীমূর্তির পুজোর অনুমতি বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরই পাওয়া যায়।

 গতবছর করোনার জন্য বেশি দর্শনার্থীদের মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। করোনা গ্রাফ কিছুটা হলেও কমেছে, তাই এ বার মন্দিরের ভিতরে তমলুক শহরের সমস্ত মণ্ডপের শুধু পুরোহিত এবং একজন উদ্যোক্তা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন।

তবে দেবী বর্গভীমার গর্ভগৃহে পুষ্পাঞ্জলি এবছর দিতে পারবেন না পুণ্যার্থীরা। অবশ্য  বাইরে দাঁড়িয়েই পুষ্পাঞ্জলি এবং পুজো দিতে পারবেন পুণ্যার্থীরা। সে সবেরই জোরদার এবং শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি এখন চলছে তমলুকের দেবী বর্গভীমা মন্দিরে।

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published: