• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • কেমন আছে লালগড়ের নেতাই? ফুলে ফুলে জোর লড়াইয়ে আজও জেগে আছে চোখের জল

কেমন আছে লালগড়ের নেতাই? ফুলে ফুলে জোর লড়াইয়ে আজও জেগে আছে চোখের জল

সৌরভ ঘোড়াইয়ের ছবি হাতে স্ত্রী শম্পা ঘোড়াই।

সৌরভ ঘোড়াইয়ের ছবি হাতে স্ত্রী শম্পা ঘোড়াই।

১০ বছর আগের সেই দিন অভিশপ্ত নেতাই গণহত্যার দিন বলে বাংলার রাজনীতিতে জায়গা করে নিল।কেমন আছে নেতাই?

  • Share this:

    #নেতাই: লালগড় হাট পেরিয়ে নেতাইয়ের দিকে গাড়ির চাকা গড়ালেই একটু খটকা লাগবে। ঠিক রাস্তায় যাচ্ছি তো? লালগড়ের শস্যগোলা নেতাই থেকে লাল মাটি উধাও। রাজনীতিবিদদের টিপ্পনী, লালেরাও উধাও হয়েছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি নেতাইয়ের সিপিএম নেতা রথীন দন্ডপাটের বাড়ির ছাদ থেকে অভিযোগ যে সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়েছিল। যার জেরে ৯ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু। আর ১০ বছর আগের সেই দিন অভিশপ্ত নেতাই গণহত্যার দিন বলে বাংলার রাজনীতিতে জায়গা করে নিল।কেমন আছে নেতাই?

    গ্রাম ঘিরে এখন ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে। কে যে কার দিকে ঢলে তা অবশ্য বোঝা মুশকিল। তবে কান পাতলে শোনা যায়, "ওর তো পাওয়ার কথা ছিলনা। তাহলে ও কেন পেয়ে গেলও।" তবে গ্রামের বুক চিরে চলে যাওয়া কালো পিচ রাস্তার দু'ধারে আলু, কপি, শষ্য ক্ষেতের পাশেই পিঠোপিঠি রোদ পোহাচ্ছে ধূলো জমা পদ্ম ফুলের পতাকার পাশে পরিষ্কার স্বচ্ছ জোড়াফুলের পতাকা। ধুয়ে মুছে সাফ হয়েছে ২০১১ সালের ৩০ জানুয়ারি বানানো শহিদ বেদীটা। জং ধরে যাওয়া গ্রিলে অবশ্য রঙের প্রলেপ পড়েনি৷ ফুলের নেতারা, ফুল-মালা নিয়ে শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন। "তবে আমরা এবার সকাল ৯টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান সেরে ফেলব। আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে যাব না। বটতলা চকে দাঁড়িয়ে" হাঁফাতে হাঁফাতে কথাগুলো বলে যাচ্ছিলেন গ্রামের মাষ্টার মশাই তথা নেতাই স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি দ্বারকানাথ পন্ডা,১০ বছর আগে যিনি ছিলেন ভয়ঙ্কর দৃশ্যের সাক্ষী।

    নেতাইয়ের সেই সমাধিফলক। নেতাইয়ের সেই সমাধিফলক।

    শহিদ বেদী থেকে কয়েক হাত দূরেই সাদা দেওয়ালটা দাঁড়িয়ে আছে। ফ্যাকাশে হয়েছে, কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন পড়েছে, আর তাতেই মিলিয়ে গেছে ছুটে আসা গুলির টাটকা ক্ষতগুলো। বাসি হয়েছে ফুলের মালা। প্রলেপ পড়েছে দেওয়ালের ক্ষতের ওপরে। যাহ! তা আবার হয় নাকি? চন্ডীগড় থেকে নেতাইয়ে এসেছে শ্রাবণী। দুই সন্তানকে নিজের গ্রাম চেনাচ্ছে। শ্রাবণীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। এই সেই শ্রাবণী যার স্কুলের পোশাক পরে মায়ের মৃতদেহের সামনে কান্না ভাইরাল হয়েছিল। সরস্বতী ঘোড়াইয়ের মেয়ে শ্রাবণী বলেন, "মায়ের খুলিটা ছিল না। আমি কোচিং থেকে ফিরে দেখি সব শেষ।"

    সেদিনের বীভৎস স্মৃতি কুঁড়ে কুঁড়ে  খায় বিয়ের পরে চন্ডীগড়ে থাকা শ্রাবণীকে। তাঁর খেদ, "সব পেয়েছি। সবাই সহানুভূতি দেখিয়েছে। কিন্তু আমার মা'টা চলে গেল তাকে আর ফেরত পেলাম কই.... "চোখের জল মুছতে মুছতে বলে যাচ্ছিল শ্রাবণী।

    সরস্বতী ঘোড়াইয়ের মেয়ে শ্রাবণী ও তাঁর স্বামী নিশিকান্ত। সরস্বতী ঘোড়াইয়ের মেয়ে শ্রাবণী ও তাঁর স্বামী নিশিকান্ত।

    মায়ের কথা যখন হচ্ছে তখন আর এক মা'কে নিয়েও গল্প আছে নেতাইয়ের মাটিতে৷ অশীতিপর বৃদ্ধা মাধুরী দন্ডপাট। যার পরিচয় নেতাইয়ের অভিশপ্ত বাড়ির মালিক রথীন দন্ডপাটের মা। বাড়ির দরজা সারা দিন বন্ধ থাকে। রাতে নাতি শুতে আসে। দেওয়ালে গোলাপী আর গাঢ সবুজ রঙের পোচ পড়েছে৷ এ বাড়ি ভেঙে দিয়েছিল গ্রামবাসীরা। সিল করে দিয়েছিল সিবিআই। এখন অবশ্য ক্ষতের লেশ মাত্র নেই। মাধুরীদেবী জানাচ্ছিলেন, 'আমার ছেলেটা কোনও দোষ করেনি গো। ওইদিন এই বাড়িতে রথীন ছিল না। মাওবাদীরা ওকে বারবার মারধর করেছে। প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছে। আমার ছেলেটা ফেঁসে গেল।"

    গুলি চলেছিল এই বাড়ি থেকেই। গুলি চলেছিল এই বাড়ি থেকেই।

    নিহতদের পরিবার অবশ্য সেটা মানছে না। নিহত শ্যামাপদ ঘোড়াইয়ের স্ত্রী অঞ্জু ঘোড়াই বলছিলেন, আমি, আমার স্বামী ও বউমা সেদিন ওখানে ছিলাম। ওই বাড়িতেই হার্মাদদের ক্যাম্প চলত।  আমাদের দিয়ে খুব খাটাত। সব কাজ করে দিতাম। কিন্তু যেদিন ওরা বলল আমাদের বাড়ির ছেলেদের একজন করে দিতে হবে ওরা হার্মাদ বানাবে সেদিন আমরা প্রতিবাদ করেছি। আর তখনই গুলি চালালো। নেতাইয়ের অন্তঃরঙ্গ জুড়ে যদি লুকিয়ে থাকে ব্যথা। বহিঃরঙ্গ জুড়ে ধিক ধিক করে জ্বলছে আগুন। অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নেতাই নিয়ে প্রতিবারের মতো এবারও শহীদ স্মরণ অনুষ্ঠান করবেন শুভেন্দু অধিকারী। লালগড় বাজারে সভা করবে তৃণমুল কংগ্রেস। ফলে নজরে নেতাই।

    Published by:Arka Deb
    First published: