রাজকীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য হনুমানের,তৈরি হবে সমাধি মন্দির!কোথায়?

রাজকীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য হনুমানের,তৈরি হবে সমাধি মন্দির!কোথায়?

বাসিন্দা মৃত হনুমানের দেহ ফেলে রেখে চলে যাননি। বরং তারা এক জোট হয়ে হনুমানটির রাজকীয় সৎকারের ব্যবস্থা করেন।

  • Share this:

#বর্ধমান: রাজকীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হল তার। সকাল থেকেই এসেছিল হরিনামের দল। বেশ কিছুক্ষণ খোল কত্তাল খঞ্জনি বাজিয়ে হরিধ্বনি দেওয়ার পর গ্রাম প্রদক্ষিনও হল। একটি হনুমানের শেষকৃত্যকে ঘিরে সারাদিন ব্যস্ত থাকলেন বাসিন্দারা।

এমনই ঘটনা ঘটলো পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসির গোহগ্রামে। আজ সকালে এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফাতে গিয়ে বিদ্যুত স্পৃষ্ট হয় হনুমানটি। রাস্তার বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে আসা মাত্র হনুমানটি নীচে পড়ে যায়। স্হানীয়বাসিন্দারা ছুটে এসে জল দিয়ে তাকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করে। ডাক্তারকেও খবর দেওয়া হয়। কিন্তু বাসিন্দাদের যাবতীয় প্রচেষ্টার মাঝেই হনুমানটির মৃত্যু হয়।

বাসিন্দা মৃত হনুমানের দেহ ফেলে রেখে চলে যাননি। বরং তারা এক জোট হয়ে হনুমানটির রাজকীয় সৎকারের ব্যবস্থা করেন। ডাকা হয় নাম সংকীর্তনের দল। মাথায় তিলক কেটে ফতুয়া, পাঞ্জাবির ওপর উত্তরীয় চাপিয়ে খোল কত্তাল খঞ্জনি নিয়ে হাজির হন কীর্তনের দল। মৃত হনুমানের দেহ সাদা কাপড়ে  ঢেকে দেওয়া হয়। দেহের ওপর রাখা হয় ফুলের মালা। মাথার কাছে জ্বালানো হয় সুগন্ধি ধূপ। দেহটিকে ঘিরে শুরু হয় নাম সংকীর্তন। হরিনাম, কৃষ্ণ ধ্বনিতে মুখরিত হয় চারপাশ। বেশ কিছু ক্ষন নামগানের পর শুরু হয় মৃত হনুমানের দেহ নিয়ে গ্রাম প্রদক্ষিন। সেই শেষ যাত্রায় পা মেলান গ্রামের পুরুষ মহিলারা।

দীর্ঘ ক্ষন ধরে ধীর গতিতে গ্রাম প্রদক্ষিনের পর একটি ফাঁকা জায়গায় হনুমানটিকে সমাধিস্থ করা হয়। এখানেই শেষ নয়, সমাধির উপর সুদৃশ্য ও সুউচ্চ একটি মন্দির গড়ারও পরিকল্পনা নিয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁরা জানালেন, ইতিমধ্যেই গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে সভা ডাকা হয়েছে। হনুমান মন্দির গড়ার জন্য সভায় গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির সদস্যরাই হনুমান মন্দির তৈরির কাজের তদারক করবেন। গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে এ জন্য অর্থ সাহায্য করার আবেদন রাখা হয়েছে। অনেকেই সাধ্যমতো সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

First published: February 22, 2020, 3:10 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर