শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা, আশঙ্কাজনক মন্ত্রী...

শ্রমমন্ত্রী জাকির হোসেন। ফাইল ছবি

শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ওপর হামলা। তাঁকে একের লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।

  • Share this:

    #জঙ্গিপুর: শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ওপর হামলা। তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক বোমা ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, বুধবার অর্থাৎ আজ কিছুক্ষণ আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কলকাতা আসার জন্য গাড়িতে নিমতিতা স্টেশন যাচ্ছিলেন তিনি। মন্ত্রী স্টেশনে পৌঁছতেই তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি বোমা ছোঁড়ে দুষ্কৃতীরা। বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন মন্ত্রী। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মন্ত্রীকে প্রথমে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁকে মুর্শিদাবাদ জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ঘটনায় অভিযোগের তীর বিজেপির বিরুদ্ধে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রীর, মন্ত্রীর বাম পায়ে এবং হাতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। ট্রমা কেয়ারে আপাতত রয়েছেন মন্ত্রী। তাঁকে হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে রাখা হয়েছে। এ দিন শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ওই সময় বেশকিছু দলীয় কর্মী ছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকে আক্রান্ত হয়ে আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের একাধিক জনের শরীরে একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। চার-পাঁচজনের পা বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা। অনুগামীদেরও জঙ্গিপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে প্রয়োজনে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করা হবে।

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার কলকাতায় মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের বৈঠকের কথা ছিল। সেই কারণেই তিনি কলকাতায় আসছিলেন। সেই ট্রেন ধরার সময়ই স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। তৃণমূল সূত্রের খবর, বুধবার বিকেলে জঙ্গিপুর পুরসভায় মুর্শিদাবাদ জেলার জেলা সভাধিপতি মোশারফ হোসেনকে দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য বহিষ্কার করার জন্য যে বৈঠক হয়, তাতে সাংসদ আবু তাহেরের সঙ্গে ছিলেন জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন।

    মনে করা হচ্ছে, সেই শত্রুতা থেকেও কেউ এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, এলাকায় বেশ দাপুটে ও জনপ্রিয় ছিলেন জাকির হোসেন। মূলত ব্যবসায়ী ও সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত জাকির। যিনি জেলায় গরু পাচার নিয়ে প্রথম সরব হন। তাই নিয়ে দলের একাংশের বিরাগভাজন হন তিনি। সেই রাগ থেকেই এই ঘটনা কিনা, তদন্ত করে দেখছে জেলা পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুষ্কৃতীরা দলে ১০-১২ জন ছিলেন। তারা সকলের মুখ বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। ফলে সেভাবে কারও মুখ দেখা যায়নি। পুলিশ স্টেশনে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথা বলা শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে যাচ্ছে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার। জেলা শীর্ষ নেতৃত্বরা কলকাতা থেকে সড়কপথে রওনা দিয়েছেন।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: