বিষ্ণুপুরে শুরু হল রাজ পরিবারের কূলদেবী মৃন্ময়ীর পুজো, মন্দিরে ভিড় জমালেন অসংখ্য ভক্ত

বিষ্ণুপুরের মুর্ছা পাহাড় থেকে মুহুর্মুহু গর্জে উঠল কামান, গোপাল সায়ের থেকে এক হাজার বাইশ বছরের মৃন্ময়ী মন্দিরে এলেন বড় ঠাকরুন , শুরু হল মল্ল রাজ পরিবারের কূলদেবী মৃন্ময়ীর পুজো

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Sep 23, 2019 10:00 PM IST
বিষ্ণুপুরে শুরু হল রাজ পরিবারের কূলদেবী মৃন্ময়ীর পুজো, মন্দিরে ভিড় জমালেন অসংখ্য ভক্ত
representative image
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Sep 23, 2019 10:00 PM IST

#বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরের মুর্ছা পাহাড় থেকে মুহুর্মুহু গর্জে উঠল কামান, গোপাল সায়ের থেকে এক হাজার বাইশ বছরের মৃন্ময়ী মন্দিরে এলেন বড় ঠাকরুন , শুরু হল মল্ল রাজ পরিবারের কূলদেবী মৃন্ময়ীর পুজো।

তিথি নক্ষত্র মেনে বিষ্ণুপুরের মুর্ছা পাহাড় থেকে মুহুর্মুহু গর্জে উঠল কামান । হাজার বছরের রীতি মেনে স্থানীয় গোপাল সায়ের থেকে পুজো অর্চনা করে মন্দিরে নিয়ে আসা হয় বড় ঠাকরুনকে । মল্ল রাজ দরবারে শুরু হল কূলদেবী মৃন্ময়ীর আরাধনা ।

আজ থেকে প্রায় ১০২২ বছর আগে জয়পুরের প্রদ্যুম্নপুর গ্রাম থেকে শিকারে বেরিয়ে বন বিষ্ণুপুর এলাকায় বিভিন্ন অলৌকিক কান্ড কারখানার সম্মুখীন হন তৎকালীন মল্ল রাজা জগৎমল্ল । কথিত আছে সেসময় দেবী মৃন্ময়ী রাজা জগৎমল্লকে দেখা দিয়ে বিষ্ণুপুরে তাঁর মন্দির স্থাপন ও রাজধানী প্রদ্যুম্নপুর থেকে বিষ্ণুপুরে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন । মৃন্ময়ীর নির্দেশ মতো বিষ্ণুপুরে মল্ল রাজ পরিবারের কূলদেবী হিসাবে প্রতিষ্ঠা পান দেবী মৃন্ময়ী । তৎকালীন জঙ্গলাকীর্ন বিষ্ণুপুরের জঙ্গল সাফ করে স্থাপিত হয় প্রাচীন সার্বভৌম মল্লভূমের রাজধানী । সেসময় বিশাল মল্লভূমের প্রজাদের কাছ থেকে আসা রাজস্বে উপচে পড়ত মল্ল রাজাদের রাজ কোষ । ধন রত্নে পরিপূর্ণ রাজকোষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মৃন্ময়ীর পুজোর জৌলুস তৎকালীন সময়ে আকাশ ছুঁয়েছিল ।

পুজোয় ছিল বেশ কিছু ব্যাতিক্রমী রীতিনীতি । সেই রীতি আজো অক্ষুন্ন থাকলেও পুজোর জৌলুস এখন বেশ ফিকে । আজ থেকে হাজার বছর আগে যে বলীনারায়নী পুঁথি মেনে জীতাষ্টমীর দিন মৃন্ময়ীর পুজো শুরু হত আজো সেই রীতি অব্যাহত । অতীতের আভিজাত্য ও রাজ কৌলীন্য মেনে যেভাবে পুজোর প্রতিটি নির্ঘন্ট ঘোষিত হত কামানের তোপধ্বনী দ্বারা আজো তার অন্যথা হয়নি । তিথির হেরফেরে এবার জীতাষ্টমীর পরদিন আজ নিয়ম মেনে রাজ পুরোহিতদের পুজো পাঠের মধ্যে দিয়ে প্রাচীন মন্দিরে এলেন বড় ঠাকুরানী অর্থাৎ মহালক্ষ্মী । এরপর মান চতুর্থীর দিনে একই নিয়ম মেনে মন্দিরে আসবেন মেজ ঠাকুরানি অর্থাৎ মহা সরস্বতী । সপ্তমীর সকালে মন্দিরে আনা হবে ছোট ঠাকুরানী অর্থাৎ মহা কালীকে । মৃন্ময়ীর এই পুজোকে ঘিরে শুধু রাজ পরিবারের নয় আবেগ জড়িয়ে রয়েছে বিষ্ণুপুরের আপামর মানুষেরও । তাই আজ মৃন্ময়ীর পুজো শুরু হতেই মল্ল রাজাদের সুপ্রাচীন মৃন্ময়ীর মন্দিরে ভিড় জমালেন অসংখ্য মানুষ ।

First published: 10:00:02 PM Sep 23, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर