দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

কৈলাসে ফেরার আগে রুদ্ধশ্বাস সাপখেলার সাক্ষী হন উমা! দশমীতে বদ্যিপুরের নন্দীবাড়িতে ৩০০ বছরের প্রথা

কৈলাসে ফেরার আগে রুদ্ধশ্বাস সাপখেলার সাক্ষী হন উমা! দশমীতে বদ্যিপুরের নন্দীবাড়িতে ৩০০ বছরের প্রথা

সময়ের নৌকায় ভেসে হারিয়েছে হয়ত অনেক কিছুই। তবু ষষ্ঠী থেকে দশমী... বলি,ভোগ,নীলকণ্ঠ পাখির সাবেকিয়ানায় আজও যেন সময় থমকে দাঁড়িয়ে জমিদার বাড়ির উঠোনে।

  • Share this:

#কালনা: কৈলাসে ফেরার আগে রুদ্ধশ্বাস সাপখেলার সাক্ষী থাকেন উমা। শঙ্খচূড়, গোখরো, শাঁখামুটি। ঝাঁপি থেকে ফনা তুলে বেরিয়ে আসে সাপেরা। বিনে সুর তোলে সাপুড়ের দল। ফনা তুলে মাথা নাড়ায় বিষধরেরা। তিনশো বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে পূর্ব বর্ধমানের কালনার বদ্যিপুরের নন্দীবাড়ির পুজোয়। মা মনসাকে তুষ্ট রাখতেই এই প্রথা চালু হয়েছিল জমিদারি আমলে।

কালনার বদ্যিপুরের বাসিন্দা শিশুরাম নন্দী জমিদারি পেয়ে বিশাল এক অট্টালিকা তৈরি করেন। দুই চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, হুগলিতে তাঁর জমিদারি বিস্তৃত ছিল। জমিদারবাড়ি তৈরির পর প্রতিষ্ঠা করা হয় শালগ্রাম শিলা। সেখানে তৈরি হয় রাজরাজেশ্বরের মন্দির। এরপর ধীরে ধীরে তৈরি হয় দুর্গাদালান। আয়োজন হয় দুর্গাপুজোর।

কিন্তু তাতে দেখা দিল ঘোর সমস্যা। দুর্গাপুজোর আয়োজনে রুষ্ট হলেন মা মনসা। স্বপ্নে দেখা দিয়ে ক্ষোভের কথা জানালেন তিনি। এখন কি করা যায়! একটা সমাধান সূত্র বের হল।দুর্গার পাশাপাশি মা মনসার পুজোর ভাবনা চিন্তা শুরু করলেন জমিদার শিশুরাম। তখনই দশমীর দুপুরে দুর্গাদালানে সাপ নিয়ে হাজির হলেন সাপুড়েরা। মা মনসাই তাদের পাঠিয়েছে বুঝতে বাকি রইল না জমিদারের। সেই থেকেই শুরু হল দশমীতে সাপ খেলার প্রচলন।

বংশ পরম্পরায় আজও সাপ নিয়ে আসে সাপুড়ের দল। ঝাঁপ থেকে বের হয় এক একটি পেল্লায় সাইজের বিষধর। তাদের হাড় হিম করা ফোঁস ফোঁসফোসানি শিশু কিশোররা দেখে দূর থেকে। সেই সাপের খেলা দেখতে ভিড় করেন গ্রামবাসীরা। তবে আগের সেই জৌলুস এখন আর নেই। সাপ ও সাপুড়ে দুয়েরই সংখ্যা কমেছে সময়ের  সঙ্গে সঙ্গে।

চন্ডী  মণ্ডপে সাপুড়েদের সাপ খেলা শেষ হলে নীলকন্ঠ পাখি জানান দিয়ে যায় মায়ের বিদায় নেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। এবার কৈলাসে ফিরে যাবেন মা। আসছে বছর আবার হবে। শুরু হয়ে যায় সিঁদুর খেলা। ভাসানের আগে মাকে বরণ করার পালা। আজও নীলকন্ঠ পাখির দেখা মিললে তবেই ভাসানের প্রস্তুতি শুরু হয় নন্দী বাড়িতে।

Saradindu Ghosh

Published by: Shubhagata Dey
First published: October 6, 2020, 2:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर