অবহেলা আর অনাদরে নষ্ট হচ্ছে নেতাজী আগমনের স্মৃতি !

অবহেলা আর অনাদরে নষ্ট হচ্ছে নেতাজী আগমনের স্মৃতি !

খেজুরি- সহ ভূপতিনগর এবং ভগবানপুর এলাকার মানুষজনদের সে সময় স্বাধীনতা আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই জরারনগরে একটি জনসভা করেছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু।

  • Share this:

#খেজুরি: ভারত তখন পরাধীন ৷ দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগেই খেজুরির জরারনগরে এসে জাতীয় সরকারের পতাকা তুলেছিলেন নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসু। সেই দিনটি ছিল ১৯৩৮ সালের ১২ এপ্রিল। খেজুরির জরারনগরে  রাজনৈতিক সভায় সেদিনই যোগ দিয়েছিলেন তিনি। খেজুরি- সহ ভূপতিনগর এবং ভগবানপুর এলাকার মানুষজনদের সে সময় স্বাধীনতা আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই জরারনগরে  একটি জনসভা করেছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু।

নেতাজীর সেদিনের সেই সভা একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছিল। সেই জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন হাজার হাজার কৃষক ও যুবক। খেজুরির জরানগরের সেই জন সভায় যোগ দিয়ে জাতীয় সরকারের ত্রিরঞ্জিত পতাকা উত্তোলনও করেছিলেন সুভাষচন্দ্র। সেদিনের সেই পতাকা আজও নেতাজীর স্মৃতি বহন করে চলেছে। যদিও সেই পতাকা সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছেনা বলে আক্ষেপ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

স্বাধীনতার পর কেটে গিয়েছে দশকের পর দশক সময়কাল। অনাদর আর অবহেলার কারণে জরারনগরের নেতাজী স্মৃতিতেও তাই  ক্ষয় ধরছে। পাশাপাশি রক্ষনাবেক্ষণহীন সংগ্রহশালায় নেতাজীকে স্থানীয় ছাত্রদের দেওয়া সংবর্ধনা পত্র ও নেতাজীর  হাতে লেখা যেসব বুলেটিন রয়েছে, সেসবেও জমেছে ধুলো। সংরক্ষণের অভাবে নেতাজীর হাতে ছোঁয়া ত্রিরঞ্জিত পতাকা ও অনান্য জিনিসও ক্রমশ নষ্ট হতে  বসেছে বলে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়।

উল্লেখ্য, তৎকালীন কংগ্রেস নেতা আচার্য্য ঈশ্বরচন্দ্র প্রামানিকের ডাকে সাড়া দিয়েই এখানে এসেছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। তার নামেই গড়ে উঠেছে সুভাষ শিল্প ভারতী। গড়ে উঠেছে সুভাষপল্লী কুঞ্জবিহারী হাইস্কুল, সুভাষ পাঠাগার। এমনকী, সুভাষপল্লী নামে একটি জনপদও রয়েছে জরারনগরে।কিন্তু সবই থেকে গিয়েছে অনাদর আর অবহেলায়।

নেতাজীর স্মৃতি রক্ষা করতে এসবের যত্ন নেওয়ার দাবি তোলার পাশাপাশি দিঘা-নন্দকুমার রেলপথের স্থানীয় রেলস্টেশনটিকে নেতাজীর নামে করার দীর্ঘদিনের দাবি আবারও নতুন করে তুলেছেন খেজুরির মানুষজন। এর আগে এই দাবি তুলে বহুবার আন্দোলন করেছেন স্থানীয়রা। আজ, আরও একটা ২৩ জানুয়ারির ভাল দিনে মানুষজনের দাবি, সরকারি উদ্যোগে নেতাজীর নামে জরানগরের সংগ্রহশালাটি সুন্দর ভাবেই গড়ে উঠুক। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নেতাজী ইতিহাসকে খুব সহজেই তুলে ধরা যায়।স্থানীয় মানুষজন-সহ খেজুরির জেলা পরিষদ সদস্য বিমান নায়েকের বক্তব্যঃ নেতাজীর খেজুরি স্মৃতিকে আগলে রাখতে, বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি  উদ্যোগের অবশ্যই প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

Sujit Bhowmik

First published: January 23, 2020, 9:41 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर