corona virus btn
corona virus btn
Loading

প্রতি ১০ জনে ১ জন, মুর্শিদাবাদ মানেই 'কন্যাশ্রী যোদ্ধা'

প্রতি ১০ জনে ১ জন, মুর্শিদাবাদ মানেই 'কন্যাশ্রী যোদ্ধা'
ছবিটি প্রতীকী ও সংগৃহীত

ধুলিয়ান, জঙ্গিপুর-সহ এলাকাগুলির গ্রামে একাধিক পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধানরা বলছেন, নারী পাচার, নাবালিকা বিয়ের মতো সমস্যাগুলি কন্যাশ্রী মিটিয়েছে৷ সরকারি তথ্য বলছে, গোটা রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্পে সুবিধা পাওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন মুর্শিদাবাদের৷

  • Share this:

#বহরমপুর: আপনাদের এলাকায় প্রার্থীদের নাম জানেন? প্রশ্নটা শুনে উত্তর দিতে এক মিনিট সময় নিলেন না বছর ৪৫-এর ইসমাইল৷ তৃণমূলপ্রার্থীর নামটাই বললেন আগে৷ তারপরের গুলো উত্তর দিতে বেশ সময় নিলেন৷ এই ঘটনাটি কিন্তু কোনও একটি ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে ঘটেনি৷ শহর ছেড়ে গ্রামে ঢুকলেও চিত্রটা এরকমই৷

মুর্শিদাবাদে কি তবে খুব ভালো সংগঠন গুছিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস? প্রশ্নটি অত্যুক্তি নয়৷ ভালো কাজ করলেও শুভেন্দু অধিকারীকেই এ ক্ষেত্রে পুরো কৃতিত্ব দেওয়াটা ঠিক নয়৷ আশপাশের গ্রামগুলিতে ঘুরলে একটি শব্দবন্ধ শোনা যায়৷ সেটি হল, 'কন্যাশ্রী যোদ্ধা৷' কন্যাশ্রীর সঙ্গে যোদ্ধা শব্দটি মুর্শিদাবাদেরই সংযোজন৷ বহরমপুরে মাস কয়েক আগে সভা করতে এসে নারী পাচার ও নাবালিকা বিয়ে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷

ধুলিয়ান, জঙ্গিপুর-সহ এলাকাগুলির গ্রামে একাধিক পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধানরা বলছেন, নারী পাচার, নাবালিকা বিয়ের মতো সমস্যাগুলি কন্যাশ্রী মিটিয়েছে৷ সরকারি তথ্য বলছে, গোটা রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্পে সুবিধা পাওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন মুর্শিদাবাদের৷ জেলা প্রশাসন কন্যাশ্রী, সবুজসাথীর মতো সরকারি প্রকল্পগুলি একেবারে প্রত্যন্ত এলাকা এলাকায় ছড়িয়ে দিতে পেরেছে৷

ধুলিয়ান বাসস্টপ থেকে মিনিট ৩০ সময় নিয়ে আরও ভিতরে ঢুকলে গ্রাম্য জীবন আরও স্পষ্ট৷ সবুজসাথীর সাইকেল বহু মানুষ চালাচ্ছেন৷ লক্ষ্মীনগরের কাছে দেখা গেল, শিশুরাও সাইকেল চালানো শিখছে৷ সাইকেল সামনে সবুজসাথীর লোগো৷

পেশায় বিড়ি বাঁধাইকারী মহম্মদ ইলিয়াস বাড়ির দাওয়ায় বসে বিড়ি বাঁধছিলেন৷ ২ মেয়ে৷ অভাবের সংসার৷ কন্যাশ্রী শব্দটি শুনতেই চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল৷ বললেন, 'বড় মেয়েটাকে ভাবছিলাম বিয়ে দিয়ে দেব৷ ও বলল, ও আরও পড়াশোনা করতে চায়৷ সরকার ২৫ হাজার টাকা দিল৷ না-হলে পড়ার খরচ চালাতে পারতাম না৷'

বস্তুত, রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্পে মুর্শিদাবাদ এখন পয়লা নম্বরে৷ কন্যাশ্রী-কে দুটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে৷ কে–১ ও কে–২৷ কে–১ অনুযায়ী, অষ্টম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি ছাত্রী বছরে পাবে ৭৫০ টাকা। যা এখন বেড়ে হয়েছে ১০০০। কে–২ পর্যায়ভুক্তরা দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করার পর এককালীন পাবে ২৫ হাজার টাকা।

মুর্শিদাবাদের কন্যাশ্রীতে কে-১ ধাপে ২০১৫-১৬ সালে লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার। হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৭৩৭। ২০১৬–১৭ সালে লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৯৮৮। হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ০০৫। ২০১৭–১৮ সালে লক্ষ্য ২ লাখ ০৭ হাজার ৮৫৫। হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৯২৪। জেলার ২৬টি ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামেও আছে কন্যাশ্রীরা। ‌

First published: April 23, 2019, 9:04 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर