বছরের একটা দিনেই মন্দিরের চূড়ায় উঠে যায় কাঁকড়া, ১০০ বছরের এই কাঁকড়া মন্দির খুবই জাগ্রত

বছরের একটা দিনেই মন্দিরের চূড়ায় উঠে যায় কাঁকড়া, ১০০ বছরের এই কাঁকড়া মন্দির খুবই জাগ্রত

কাঁকড়া মায়ের মন্দিরে মাথার উপরে চিল না উড়লে কিংবা পুকুর থেকে কাঁকড়া না উঠলে,পুজোর ঘট উত্তোলন হয়না এবং পুজোও শুরু হয় না।

  • Share this:

SHANKU SANTRA

#নামখানা: দেবী মায়ের প্রসাদ কাঁকড়া। সেই কাঁকড়া যদি পুজোর সময় না ওঠে ,তাহলে দেবীর পুজো হয় না। অনেকেই এই দেবীকে কাঁকড়া দেবী বলেই জানেন। চৈত্র মাসের পুণ্য তিথিতে পুজো হয় এই কাঁকড়া দেবীর। প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। সবাই বলেন জাগ্রত দেবী। মন দিয়ে মাকে ডাকলে, তার ফল পান সবাই। দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার নামখানা ব্লকে, লাল পোলের কাছে এই কাঁকড়া দেবীর মন্দির। মন্দিরটি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো। এই মন্দিরটি মূলত শীতলা দেবীর মন্দির। গ্রামের লোকেরা এই মন্দিরটিকে তাদের গ্রামের ইষ্ট দেবতা বলেই জানেন। অনেকে বলেন মন্দিরে মায়ের অশেষ মহিমা রয়েছে। সে অবশ্য বিতর্কের বিষয়। গ্রামের সবাই খুব নিষ্টা সহকারে প্রতিদিন সন্ধ্যা আরতি করেন।

এক বৃদ্ধ সামন্তবাবু, উনি ছোটবেলা থেকেই এই পুজো করে আসছেন। ওঁনার মতে, কাঁকড়া দেবী বলার একটি কারণ, মন্দিরে যেদিন বছরকার পুজো হয়, সেদিন ঘট উত্তোলনের সময়, নদীর ঘাটে ঘট রাখলে, সেই ঘটে কাঁকড়া নিজে থেকেই উঠে আসে। আরো একটা নিয়ম, যদি মন্দিরের মাথার ওপর চিল উড়তে না দেখা যায়, তাহলে ঘট উত্তোলন হবে না। ওই দিন আশেপাশে পুকুর থেকে কাঁকড়া মন্দিরের উঠোনে, মন্দিরের ভেতরে এমনকি মন্দিরের চূড়ায় পর্যন্ত বেয়ে বেয়ে উঠে যায় কাঁকড়া। ওই একদিনই। এই রীতি চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। বছরে প্রতিটি দিন পুজো, আরতি হয়। কিন্তু কাঁকড়া একটিও আসেনা। দাবী গ্রামের বাসিন্দাদের। আজকের প্রজন্ম হয়তো বিজ্ঞান নিয়ে বলবেন। কিন্তু ভগবান কিংবা দেবতার মহিমা যে আছে ,এখানে পুজোর সময় না এলে, আপনি বুঝতেই পারবেন না।' শীতলা মায়ের প্রসাদে শুধু কাঁকড়া নয়, ডিম, মাছ, সবকিছুই দেওয়া হয়। বছরের যেদিন পূজো হয় সেদিন প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। সম্পূর্ণটাই মানুষের বিশ্বাস। এই মন্দিরটি প্রথমে একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর ছিল। তার পর আস্তে আস্তে এই মন্দিরটিকে পরে বড় পাকা মন্দির করা হয়। মন্দিরটির সেই রকম কোনও প্রচার নেই। তবে মন্দিরের মহাত্ম্য নিয়ে কোনও ভক্তের প্রশ্নও নেই। স্থানীয়রা ভাবেন, এই মন্দিরে নমস্কার করে কাজে বেরোলে শুভ হয়। বছরে মূল পুজোর দিন পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্তদের সমাগম হয়। তবে বেশি মানুষ যান কাঁকড়া কিভাবে উঠে আসে সেই দেখার কৌতূহলে। আপনারও যদি কৌতূহল থাকে, তাহলে একবার মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য সোজা চলে যেতে পারেন কাঁকড়া মন্দিরে।

First published: December 21, 2019, 8:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर