আহত হনুমানকে বাঁচিয়ে তুললেন কলনা শহরের বাসিন্দারা

আহত হনুমানকে বাঁচিয়ে তুললেন কলনা শহরের বাসিন্দারা
Photo- File

মানবিকতার পরিচয় দিলেন কালনা শহরের বাসিন্দারা৷

  • Share this:

#বর্ধমান : মানবিকতার পরিচয় দিলেন কালনা শহরের বাসিন্দারা৷ আহত হনুমানকে সবা করে বাঁচিয়ে তুললেন তাঁরা৷ কালনা শহরের ডাঙাপাড়া এলাকার ঘটনা।

আহত হনুমানের শুশ্রূষায় রাত জাগলেন বাসিন্দারা। শীতের রাতে তার গায়ে চাপানো হয় গরম পোশাক। খাওয়ানো হয় জল বিস্কুট। কুকুরদের হামলা থেকে বাঁচাতে পাহারা দিলেন বাসিন্দারা। চিকিৎসার জন্য বন দফতরের হাতে তুলে দিয়ে গভীর রাতে ঘরে ঢুকলেন স্থানীয়রা।

কলকাতায় তিনটি কুকুর ছানাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে যখন পলাতক অভিযুক্ত, ঠিক তখনই পূর্ব বর্ধমানের কালনা দেখালো মানবিক মুখ। একটি হনুমান এক ছাদ থেকে লাফিয়ে অন্য ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মাঝপথে তার পা আঁটকে যায় বিদ্যুতের তারে। বিদ্যুতের স্পর্শে সে ছিটকে পড়ে রাস্তায়। সেখান থেকে উঠে যাওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছিল সে। একলা হনুমানকে বাগে পেয়ে এগিয়ে আসে কুকুরের দল। তারা হনুমানটির ওপর হামলা করে। তা দেখেই এগিয়ে আসেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা কুকুরদের তাড়িয়ে হনুমানটিকে পাহারা দেন। দেওয়া হয় জল, বিস্কুট। গরম দুধ খাওয়ানোরও চেষ্টা হয়। চিকিৎসার জন্য খোঁজ চলে পশু রোগ বিশেষজ্ঞের।

স্থানীয়  বাসিন্দারা জানান, ‘হনুমানটা যন্ত্রণায় ছটপট করছিল। সেই সময় কুকুরগুলো ঘিরে ধরায় সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আমরা কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে দিতে হনুমানটি আশ্বস্ত হয়। তাকে খাবার দেওয়া হয়।  অনেক চেষ্টা করেও কোনও পশু রোগ বিশেষজ্ঞকে আনতে পারা যায় নি। অন্য় উপায় না দেখতে পেয়ে, কাটোয়ায় বন দফতরে খবর দেওয়া হয়। অনেক রাতে কাটোয়া থেকে বনকর্মীরা আসেন। তারা হনুমানটিকে খাঁচাবন্দি করে নিয়ে যান। তারপর আমরা সব বাড়ি ফিরি’। বন দফতরের চিকিৎসায় হনুমানটি সুস্থ হয়ে উঠুক - সেটাই এখন কামনা কালনার বাসিন্দাদের।

একটি বাড়ির ছাদে ছ ছটি কুকুরকে না খেতে দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছিল কালনাতেই।

কালনার বাসিন্দারা সেই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার আহত হনুমানের পাশে দাঁড়িয়ে ফের মানবিকতার পরিচয় দিলেন তাঁরা। বাসিন্দাদের এই উদ্যোগে খুশি জেলার পশুপ্রেমীরা।

First published: February 5, 2020, 5:06 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर