প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসকে সঙ্গে নিয়ে সেজে উঠছে কালনার প্রোটেস্টান্ট চার্চ

প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাসকে সঙ্গে নিয়ে সেজে উঠছে কালনার প্রোটেস্টান্ট চার্চ

পলাশির যুদ্ধের পর এই বাংলায় এক এক করে বিভিন্ন এলাকা করায়ত্ত্ব করছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#কালনা: পলাশির যুদ্ধের পর এই বাংলায় এক এক করে বিভিন্ন এলাকা করায়ত্ত্ব করছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিস্তার লাভ করছে খ্রিস্ট ধর্ম। সেই প্রভাব থেকে মুক্ত থাকল না এক সময়ের বৈষ্ণব আবেগে ভেসে যাওয়া নদীয়া লাগোয়া গঙ্গা তীরের কালনাও। কলকাতা থেকে নদীপথে যাতায়াতের সুবিধা। আবহাওয়া পরিবেশও মনোরম। মন্দির শহর হিসেবে ততদিনে খ্যাতিলাভ করে ফেলেছে কালনা। সেই কালনাতেই বসবাস শুরু করলেন ইংরেজরা। ধীরে ধীরে গড়ে উঠলো তাদের লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রয়োজনে গড়ে উঠল গির্জা।

কালনায় খ্রিস্ট ধর্মের মানুষ বসবাস করতে শুরু করে ১৮০০ - ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ। গড়ে উঠলো তাদের বাড়ি। ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্ট ও মেন্ট ব্রিকটের উদ্যোগে যীশুর বাণী প্রচারের জন্য গঠিত হল চার্চ মিশনারি সোসাইটি। ইউনাইটেড ফ্রি চার্চ অব স্কটল্যান্ডের উদ্যোগে ১৮২৫ সালে কালনার উঁচু জাপট এলাকার মিশন পাড়ায় প্রোটেস্টান্ট ধর্মাবলম্বীদের জন্য গির্জাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার কাজে সাহায্য করেছিলেন এক মহিলা। তাঁর নাম রেভারেন্ড জেল মেরিন।পরে বর্ধমানেই সন্তান রেভারেন্ড লাল বিহারি দে কালনার গির্জার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সেই সব ইতিহাসের সাক্ষ বুকে নিয়ে বড়দিনের জন্য সেজে উঠছে কালনার এই গির্জা।

সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে গির্জাটি। চার দিকে ইটের পাঁজর বেরিয়ে এসেছে। প্রতিটি ইট যেন নীরবে ইতিহাস বুকে নিয়ে নিশ্চল। আজও আগের মতোই রাখা পুরোনো চেয়ার টেবিল। প্রার্থনা করার ডেস্কে আজও আধুনীকতার ছোঁয়া লাগেনি। মলিন সেসব আসবাব যেন পুরনো স্মৃতির ঝাঁপি নিয়ে হাজির হয় প্রতি নিয়ত। মিশনারিদের সমাধি স্থলটিও এখনো রয়েছে। তবে রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেটিও।

বড়দিনের জন্য সেই চার্চকে নিজেদের মনের মতো করে সাজিয়ে তুলছেন স্থানীয়রা। চলছে বড়দিনের প্রার্থনার শেষ পর্বের প্রস্তুতি। শুধু খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীরাই নন, বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নিতে এই গির্জায় কালনার অগণিত বাসিন্দা ভিড় করেন।

First published: 07:58:41 PM Dec 24, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर