Home /News /south-bengal /
Madhyamik Pariksha 2022: কোলে সন্তান! মা দিল মাধ্যমিক পরীক্ষা, আনজারার মনের জোর দেখে অবাক সকলে

Madhyamik Pariksha 2022: কোলে সন্তান! মা দিল মাধ্যমিক পরীক্ষা, আনজারার মনের জোর দেখে অবাক সকলে

নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব চিত্র

Madhyamik Pariksha 2022: পরীক্ষার শুরুর দিন সকালেই অসহ্য প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয় সে।

  • Share this:

#হরিশচন্দ্রপুর: কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই পরীক্ষা। সদ্যোজাত সন্তানকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষা মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের পরীক্ষার্থীর। পড়াশোনার প্রতি এই আগ্রহ এবং পরীক্ষা দেওয়ার অদম্য ইচ্ছাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলে।

হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার নানারই গ্রামের বাসিন্দা আনজারা খাতুন(১৮)। হরিশ্চন্দ্রপুর কিরণবালা বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। গ্রামেরই যুবক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁর। তিন বছর আগে প্রেম করে তাঁরা বিয়েও করে। নাবালিকা হলেও সেই বিয়ে মেনে নেয় আনজারার পরিবার। কারণ, মেয়ে, জামাই কথা দিয়েছিল পড়াশোনা চালিয়ে যাবে আনজারা। তবে, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর দিনেই এভাবে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষায় বসবে আনজারা, এমনটা সেই সময় কল্পনাও করেননি তাঁরা। দশম শ্রেণীতে সন্তান সম্ভবা হলেও মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওই ছাত্রী।

আরও পড়ুন :বিজেপির নজিরবিহীন বিক্ষোভ, 'এক বাক্যের' বক্তব্য রেখেই বিধানসভা ত্যাগ রাজ্যপালের!

চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তাঁর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ১৬ মার্চ। কিন্তু, আজ পরীক্ষার শুরুর দিন সকালেই অসহ্য প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয় সে। সকাল সাতটায় কন্যা সন্তান হয় তাঁর। আর তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কন্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে পরীক্ষা দিতে বসে যায় আনজারা। এই বছর তাঁদের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুলে। আনজারার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশি পাহারায় চলেছে তাঁর পরীক্ষা। আজ প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষা। পরীক্ষাতে ভাল ফলাফল করার ব্যাপারেও আশাবাদী সদ্যোজাত কন্যা সন্তানের মা আনজারা।

আরও পড়ুন :‘কোথা থেকে ফাঁস হয় মাধ্যমিকের প্রশ্ন?’, বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের! যা বললেন... 

আনজারার বাবা আমির হোসেন বলেন, মেয়ে বেশ কিছু বছর আগে গ্রামেরই এক ছেলের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করে। মেয়ের বিয়ে আমরা মেনে নিই। মেয়ে তারপরেও পড়াশোনা করত। তবে সকালেই সন্তান হওয়ায় কিভাবে পরীক্ষা দিবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকেই পরীক্ষা দিচ্ছে মেয়ে।

হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত বি-এমও-এইচ শুভেন্দু ভক্ত বলেন, হাসপাতালে একজন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ভর্তি ছিল। সকালে সে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। তার পরেও সে হাসপাতাল থেকেই পরীক্ষা দিতে চেয়েছে। খুব ভাল উদাহরণ। সমস্তরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে তাঁর কোনও অসুবিধা না হয়।

Sebak Deb Sarma

Published by:Uddalak B
First published:

Tags: Madhyamik 2022

পরবর্তী খবর