• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • JNANESWARI ACCIDENT FRAUD FAMILY OF MISSING PASSENGER MAKES SERIOUS ALLEGATION AGAINST AMRITAVA CHOWDHURY DMG

১১ বছর পরেও নিখোঁজ, প্রশান্তের দেহই চালানো হয়েছিল অমৃতাভর নামে, অভিযোগ পরিবারের

জ্ঞানেশ্বরী কাণ্ডে নিখোঁজ প্রশান্ত আটা (বাঁদিকে)৷ প্রতারণায় অভিযুক্ত অমৃতাভ চৌধুরী (ডান দিকে)৷

প্রশান্তবাবুর পরিবারে তাঁর, স্ত্রী মেয়ে ছাড়াও বৃদ্ধা মা রয়েছেন৷ প্রশান্ত বাবুর দেহ না মেলায় তাঁর পরিবার ডেথ সার্টিফিকেটও পায়নি (Jnaneswari Accident Fraud)৷

  • Share this:

#হাওড়া: জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার পর কেটে গিয়েছে এগারো বছর৷ কিন্তু এখনও রেলের খাতায় নিখোঁজ হয়েই থেকে গিয়েছেন অভিশপ্ত ওই ট্রেনের যাত্রী হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা প্রশান্ত আটা৷ ফলে এখনও পর্যন্ত ডেথ সার্টিফিকেটও পায়নি প্রশান্তবাবুর পরিবার৷ মৃতদেহ না মেলায় রেলের তরফে মেলেনি ক্ষতিপূরণের টাকা বা চাকরিও৷ প্রশান্তবাবুর ফিরে আসার আশা ছেড়েই দিয়েছে তাঁর পরিবার৷ কিন্তু জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনা অমৃতাভ চৌধুরীর প্রতারণা কাণ্ড সামনে আসার পর আটা পরিবার নিশ্চিত, অমৃতাভর নামে যে দেহের সৎকার হয়েছে, সেটি আসলে প্রশান্ত বাবুরই৷ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য সিবিআই-এর কাছে দাবি জানিয়েছে প্রশান্তবাবুর পরিবার৷

সালকিয়ার বাবুডাঙার বাসিন্দা প্রশান্ত আটা রেলের অর্ডার সাপ্লায়ার ছিলেন৷ ২০১০ সালের ২৮ মে ব্যবসার কাজেই জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে করে মহারাষ্ট্রে যাচ্ছিলেন তিনি৷ ট্রেন দুর্ঘটনার পর প্রশান্ত বাবুর দেহ শনাক্ত করতে যান তাঁর শ্যালক সহ পরিবারের কয়েকজন৷ প্রশান্তবাবুর শ্যালকের কৈশব কয়ালের দাবি, 'আমাদের একটি হাত দেখানো হয়৷ হাতের চারটি আঙুলেই আংটি ছিল৷ ওটা প্রশান্তর হাত বলেই আমরা শনাক্ত করি৷ কারণ ওর হাতেও চারটি আংটি ছিল৷ কিন্তু পরে দেহ নিতে গেলে আরপিএফ থেকে জানানো হয়, অন্য একটি পরিবার ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড দেখিয়ে ওই দেহটি নিয়ে গিয়েছে৷ প্রশান্তর ভোটার কার্ড ওর কাছেই ছিল৷ আমরা জানতামও না দেহ পেতে এই সমস্ত নথি লাগবে৷ তার পর থেকে আমরা দেহও পাইনি৷ আমরা নিশ্চিত, প্রশান্তর দেহই অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে৷'

প্রশান্তবাবুর পরিবারে তাঁর, স্ত্রী মেয়ে ছাড়াও বৃদ্ধা মা রয়েছেন৷ প্রশান্ত বাবুর দেহ না মেলায় তাঁর পরিবার ডেথ সার্টিফিকেটও পায়নি৷ রেল থেকে প্রাথমিক ভাবে কিছু আর্থিক সাহায্য করা হলেও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ বা চাকরি, কোনওটাই মেলেনি৷ ডেথ সার্টিফিকেট দেখাতে না পারায় বিমার টাকাও পায়নি পরিবার৷ এমন কি, একটি বেসরকারি সংস্থায় বন্ধক রাখা গয়নাও ছাড়িয়ে আনা যায়নি৷ সবমিলিয়ে প্রবল আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়েছে আটা পরিবার৷ তার উপর প্রশান্ত বাবুর স্ত্রী যুথিকাদেবী গুরুতর অসুস্থ৷ একবার ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে তাঁর৷ কিডনির সমস্যা থাকায় সপ্তাহে তিন দিন করে ডায়ালেসিসও করাতে হয়৷ যুথিকাদেবী বলেন, 'আমরা জানি উনি আর ফিরবেন না৷ কিন্তু ওনার ডেথ সার্টিফিকেটটা অন্তত আমাদের দেওয়া হোক৷ যিনি সত্যিই মারা গেলেন, তাঁর পরিবার কিছুই পেল না৷ অথচ যিনি বেঁচে আছেন তার বোন চাকরি পেল, পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেল৷ আমি নিশ্চিত আমার স্বামীর দেহই অমৃতাভ চৌধুরীর নামে সৎকার করা হয়েছে৷' একই অভিযোগ করেছে প্রশান্ত বাবুর মেয়ে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী পৌলমীও৷ সে বলেন, 'আমরা কিছুই পাইনি৷ রেল যা যৎসামান্য সাহায্য করেছিল, তা অনেক দিন আগে শেষ হয়ে গিয়েছে৷ আমরা তো ক্ষতিপূরণ হিসেবে চাকরিটাও পেলাম না৷ মায়ের চিকিৎসা, আমার পড়াশোনায় প্রচুর খরচ৷ আমরা একশো শতাংশ নিশ্চিত ওই দেহটিই আমার বাবার৷ আমাদের সঙ্গে ন্যায় বিচার করা হোক৷ সিবিআই তদন্ত করে দেখুক আমার বাবার দেহই অমৃতাভ চৌধুরীর নামে চালানো হয়েছে কি না৷

জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনায় রেলকে ঠকিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা, চাকরি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কলকাতার জোড়াবাগানের বাসিন্দা অমৃতাভ চৌধুরী এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে৷ ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই৷ অভিযোগ এক শ্রেণির রেলকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভুয়ো ডিএনএ রিপোর্ট দেখিয়ে অন্য কারও দেহ অমৃতাভর পরিবারের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়৷ তারই ভিত্তিতে মেলে ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি৷

প্রশান্ত আটার পরিবারের থেকেও ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল৷ কিন্তু তার পরেও প্রশান্তর দেহের খোঁজ মেলেনি বলেই রেলের তরফে তাঁর পরিবারকে জানানো হয়৷ ফলে, রেলের খাতায় নিখোঁজই থেকে গিয়েছেন প্রশান্ত৷

Debashish Chakraborty

Published by:Debamoy Ghosh
First published: