১২৫-এ জৌলুস হারাচ্ছে পৌষমেলা ? সংশয়ে পর্যটক থেকে শিল্পীরা

১২৫-এ জৌলুস হারাচ্ছে পৌষমেলা ? সংশয়ে পর্যটক থেকে শিল্পীরা

স্থানীয় হস্তশিল্পীরা না আসায় চাহিদাও কমছে, ফলে কমছে স্টলের সংখ্যাও। শুরুর দিন থেকেই পৌষমেলাকে আকর্ষণীয় করে রেখেছিলেন এরাই।

  • Share this:

Tridib Bhattacharya

#বোলপুর: অফলাইন থেকে অনলাইন। রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম বদলের একধাক্কায় পৌষমেলা থেকে ছিটকে গেলেন স্থানীয় বিক্রেতা থেকে লোকশিল্পী হস্তশিল্পীর দল। এতদিন যারা ছিলেন এই মেলার মূল আকর্ষণ। স্থানীয় হস্তশিল্পীরা না আসায় চাহিদাও কমছে, ফলে কমছে স্টলের সংখ্যাও। শুরুর দিন থেকেই পৌষমেলাকে আকর্ষণীয় করে রেখেছিলেন এরাই।

১৮৪৩ সালের ২১ ডিসেম্বর। বাংলা ক্যালেন্ডারে ১২৫০ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ। সেদিন ২০ জন অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। দীক্ষা দেন রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ। এটিই শান্তিনিকেতনের পৌষ উৎসবের মূল ভিত্তি। ১৮৯১এ শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠা করা হয় এক ব্রাহ্মমন্দির। ১৮৯৪ সালে ব্রাহ্মমন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে উল্টোদিকের মাঠে একটি ছোটো মেলা আয়োজন করা হয়েছিল। এই মেলায় লোকশিল্পী ও স্থানীয় কারিগরদের হাতের কাজ বিক্রির জায়গা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনের সেই পৌষমেলা শুধুমাত্র শান্তিনিকেতন বা বীরভূম জেলার নয়, রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ক্রমে বহরে আর পরিসরে বাড়ায় মেলা সরে আসে, পূর্বপল্লীর মাঠে। সেই হিসেবে এবার পৌষমেলার ১২৫তম বছর।

পৌষমেলায় অত্যধিক ভিড়ের কারণে সব দোকানিদের বসার জায়গাও যেমন মিলছিল না। সঙ্গে গত কয়েকবছর ধরে বাড়ছিল দূষণ বিতর্কও। ২০১৯এ দূষণের জেরে একসময় পৌষমেলা বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়। কিন্তু উত্সাহী পর্যটকদের দিকে তাকিয়েই পৌষমেলা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা নেয় বিশ্বভারতী। ফলে অফলাইন থেকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম। স্থানীয় গরীব লোকশিল্পীরা আসেন মেদিনীপুর, দুমকা, ঝাড়খণ্ড, বর্ধমানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। তারা কেন্দ্রীয়ভবনের ধারে ঝুপড়ি করে নিজেদের বাঁশ-ডোকরার পশরা সাজান। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ৬০টি স্টল নিখরচায় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু অনলাইনে স্টল নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। স্টলের দামও প্রায় ৪০‍শতাংশ বাড়ান হয়েছে।

১২৫ বছরে এবারই প্রথম দিনবদল। ২৩-এর বদলে ২৪ তারিখ শুরু হচ্ছে পৌষমেলা। দিনবদল নিয়েও সংশয়ে পর্যটকরা। হাতে আর দু’দিনও নেই। এখনও ৬০ শতাংশ হোটেল খালি। বোঝাই যাচ্ছে, প্রভাব পড়তে চলেছে বোলপুরের অর্থনীতিতেও। যদিও রেল জানিয়েছে বাড়তি কোচ দেওয়া হবে পৌষমেলা উপলক্ষে। প্রশ্ন একটাই পর্যটক আসবে তো? জৌলুস বজায় থাকবে তো পৌষমেলার? নাকি ১২৫ বছরে এসে গরিমা হারাচ্ছে বাংলার পৌষমেলা?

First published: 06:34:51 PM Dec 21, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर