বর্ধমানে জেলা কার্যালয়ে গোলমালে যুক্ত দলের কর্মীরাই, পর্যবেক্ষণ বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের

বর্ধমানে জেলা কার্যালয়ে গোলমালে যুক্ত দলের কর্মীরাই, পর্যবেক্ষণ বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের
গত 21 জানুয়ারি দুপুরে বর্ধমানের ঘোড়দৌড়চটি এলাকায় বিজেপির নবনির্মিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে।

গত 21 জানুয়ারি দুপুরে বর্ধমানের ঘোড়দৌড়চটি এলাকায় বিজেপির নবনির্মিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে।

  • Share this:

#বর্ধমান: বর্ধমানে বিজেপির কার্যালয় ভাঙচুর ও তাকে ঘিরে ধুন্ধুমার কান্ডের ঘটনায় দলেরই কর্মীরা জড়িত। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে পাথর ছোড়ায় শামিল হয়। ওই ঘটনায় অন্য কোনও দলের যুক্ত থাকার অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে দলের কর্মীদের সেই ঘটনার জন্য দায়ী করল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। রবিবার রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দলের বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সন্দীপ নন্দী সহ চোদ্দ জনকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত 21 জানুয়ারি দুপুরে বর্ধমানের ঘোড়দৌড়চটি এলাকায় বিজেপির নবনির্মিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। জেলা কার্যালয়ের ছাদ থেকে ইট পাথর ছোড়া হয়। জেলা কার্যালয়ের সামনে জিটি রোডে দাঁড়িয়ে থাকা দলেরই কর্মী-সমর্থক পালটা ইট-পাটকেল ছোড়ে।দীর্ঘক্ষন ধরে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইট বৃষ্টি হয়। তার জেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলা কার্যালয়ে। এই ঘটনার জেরে বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেলে ভাঙচুর চালানো হয়। দুটি গাড়িতে আগুন ধরানো হয়। বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে জমায়েত হওয়া বিজেপি কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ঘটনার পেছনে তৃণমূলের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে বিজেপির জেলার ও রাজ্য নেতাদের একাংশ। বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রবাল রায় বলেন, জেলায় বিজেপির প্রভাব উত্তরোত্তর বাড়ছে। সেজন্যই তৃণমূলের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে এই চক্রান্ত করা হয়েছে। যদিও কড়া ভাষায় সেই অভিযোগ খন্ডন করে তৃণমূলের জেলা সভাপতি মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেছিলেন, বিজেপি কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে মারপিট করে নিজেদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করে এখন তৃণমূলের ওপর দায় চাপাতে চাইছে।


ঘটনার পরপরই সত্যাসত্য জানতে তদন্ত কমিটি গড়ছিল বিজেপির রাজ্য কমিটি। সেই তদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ার পরই জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী সহ চোদ্দ জনকে শোকজ করল দল। তাতে দলের কর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস রবিবার রাতে বলেন, আদি বিজেপি ও নব বিজেপির মধ্যে বিবাদের জেরে ওই ঘটনা ঘটেছিল বলে আমরা গোড়া থেকেই বলে আসছিলাম। আজ ওই দলের জেলা সভাপতিসহ চোদ্দ জনকে শোকজের ঘটনায় তা আবারও প্রমাণিত হলো। তৃণমূল কংগ্রেস এই ধরনের সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নয়। সেদিন বিজেপির জেলা কার্যালয়ে কি হয়েছে তা রাজ্যের বাসিন্দারা দেখেছেন। আমরা উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই পূর্ব বর্ধমান জেলার সবকটি আসনে জয়লাভ করবো।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: