‘এক শালিক’-ই এখন তাঁর প্রিয়! মন্তেশ্বরে বাসিন্দাদের মুখে মুখে ফিরছে মিঠু-রাজীবের প্রেমকথা

মাস দুয়েক আগে একটি গাছের নিচ থেকে অসুস্থ শালিকটিকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে এসেছিল মন্তেশ্বরের বালিজুড়ি গ্রামের রাজীব মন্ডল। সেবা শুশ্রুষা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। সেই থেকেই সম্পর্কের বাঁধন শক্ত হয়। বনের জীবনে ফিরে যায়নি আর পাখিটি।

মাস দুয়েক আগে একটি গাছের নিচ থেকে অসুস্থ শালিকটিকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে এসেছিল মন্তেশ্বরের বালিজুড়ি গ্রামের রাজীব মন্ডল। সেবা শুশ্রুষা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। সেই থেকেই সম্পর্কের বাঁধন শক্ত হয়। বনের জীবনে ফিরে যায়নি আর পাখিটি।

  • Share this:

বর্ধমান: মিঠু সব সময় চোখে হারায় রাজীবকে। আবার মিঠু না খাওয়া পর্যন্ত কোনও কিছু দাঁতে কাটতে মন চায় না রাজীবেরও। তাদের প্রেম রীতিমতো ঢি ঢি ফেলে দিয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে এই প্রেম কাহিনী এখন বাসিন্দাদের মুখে মুখে ফিরছে। রিল না রিয়েল তা দেখতেও আসছে অনেকেই।

সারাদিন দু’জন দু’জনের গায়ে লেগে থাকে। তাদের এই প্রেম পরিবারের সকলে মেনে তো নিয়েইছেন বরং তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন সকলেই। হেঁয়ালি ছেড়ে আসল কথায় আসা যাক, রাজীবের প্রেমে পড়েছে শালিক মিঠু। রাজীব যেখানে, পায়ে পায়ে মিঠু পৌঁছে যায় সেখানে। যাব কি যাব না ভেবেও শেষ পর্যন্ত চক্ষু লজ্জার মাথা খেয়ে উঠে পড়ছে রাজীবের মোটর সাইকেলে। রাজীবের কাঁধ যে তার বড় ভরসার জায়গা।

মাস দুয়েক আগে একটি গাছের নিচ থেকে অসুস্থ শালিকটিকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে এসেছিল মন্তেশ্বরের বালিজুড়ি গ্রামের রাজীব মন্ডল। সেবা শুশ্রুষা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। সেই থেকেই সম্পর্কের বাঁধন শক্ত হয়। বনের জীবনে ফিরে যায়নি আর পাখিটি। খুঁজে নেয়নি কোনও গাছের শক্ত ডাল। রাজীব হয়ে উঠেছে তার সর্বক্ষণের সঙ্গী। রাজীবের ঘরের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সেখানেই শোয়া, বসা, ঘর সংসার। রাজীব ভালোবেসে নাম দিয়েছে মিঠু। এখন শুধু নাম ধরে ডাকার অপেক্ষা। কাঁধের ওপর এসে বসে চুপটি করে।

রাজীব জানান, কাজের তাগিদে বাইরে যেতেই হয়। তখনও ও আমার সঙ্গী হয়। উড়ে এসে বসে মোটর সাইকেলে। একটু ভাত মুড়ি বিস্কুটেই ও সন্তুষ্ট। ওকে খাঁচা বন্দি করে রাখতে চাই না। রাতে বিড়ালের ভয়ে ও নিজেই খাঁচায় ঢুকে যায়।

একটি পাখির মানুষের সঙ্গে সখ্যতা দেখে অবাক সকলেই। অনেকেই বললেন, টিয়া কাকাতুয়া পোষ মানে। মানুষের মতো অনেকটা কথাও বলে। কিন্তু শালিক পাখির এই ব্যবহার আগে দেখিনি। এই পাখিটি বড় ভালোবেসে ফেলেছে রাজীবকে।

শরদিন্দু ঘোষ

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: