মহারাজ মহাতাব চাঁদের ছিল ঘুড়ি ওড়ানোর নেশা, সেই থেকে বর্ধমানে শুরু হল ঘুড়ি মেলা

মহারাজ মহাতাব চাঁদের ছিল ঘুড়ি ওড়ানোর নেশা, সেই থেকে বর্ধমানে শুরু হল ঘুড়ি মেলা
  • Share this:

Saradindu Ghosh

#বর্ধমান: বর্ধমান রাজবাড়ির ছাদে সকাল সকাল উঠলেন মহারাজ মহাতাব চাঁদ। এসেছেন বন্ধু রাজা, জমিদার, অতিথি অভ্যাগতরা। রঙিন কাপড়, মূল্যবান আসবাবে সেজে উঠেছে রাজবাড়ির ছাদ। আজ পৌষ সংক্রান্তিতে দিনভর ঘুড়ি ওড়াবেন রাজা। তার জন্যই এত সব আয়োজন।  প্রায় দু’শো বছর আগে এভাবেই বর্ধমান শহরে ঘুড়ির মেলার প্রচলন করেন মহারাজ। রাজ আমল না থাক, সেই প্রথা আজও বজায় রয়েছে পুরো মাত্রায়।

তখন পৌষ সংক্রান্তির কয়েক দিন আগে থেকে রাজবাড়িতে সাজ সাজ রব পড়ে যেত। দেশ বিদেশ থেকে নানা আকারের ঘুড়ি আনা হতো। এছাড়াও রাজবাড়িতে বসে কাগজ আঠা বাঁশের ছিলা দিয়ে ঘুড়ি তৈরি করতেন সেরা কারিগররা। তৈরি হতো মাঞ্জা দেওয়া সুতো। প্রথমেই সাদা পায়রা ওড়াতেন মহারাজ। তারপর শুরু হতো ঘুড়ি ওড়ানো। দিনভর খানাপিনা চলতো দেদার। ঘুড়ি ওড়ানোর সেই আনন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন রাজবাড়ির মহিলারাও।

3544_IMG-20200114-WA0162

রাজার হাত ধরে শুরু হওয়া সেই ঘুড়ির মেলাকে ঘিরে আজও সমান উন্মাদনা বর্ধমানে। ছাদে ছাদে চলছে   ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব। সে উৎসবে কচিকাঁচাদের সঙ্গে সামিল প্রবীনরাও। পিছিয়ে নেই মহিলারাও। তাঁদের উৎসাহও চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে পিকনিকের মেজাজে কাটাচ্ছে শহর। থেকে থেকে আওয়াজ উঠছে ভো কাট্টা।

3544_IMG-20200114-WA0166

প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, আগে পৌষ সংক্রান্তিতে দামোদরের তীরে কাঞ্চননগরের কাঠগোলা ঘাটে ময়ূরপঙ্খী নাচ হতো। গোরুর গাড়িকে ময়ূরের মতো সাজিয়ে তাতে রাধা কৃষ্ণ বসানো হতো। সবচেয়ে সুন্দর ময়ূরপঙ্খীকে পুরস্কৃত করতেন রাজা। পরে কাঞ্চননগর থেকে রাজবাড়ি বর্ধমানে সরে এলে ময়ূরপঙ্খী মেলা সদরঘাটে সরে যায়। পঞ্চাশ বছর আগেই সেই মেলা বন্ধ হয়ে যায়। তার বদলে পৌষ সংক্রান্তির পরদিন সদরঘাটে ঘুড়ির মেলা হয়। শুরু থেকেই এই মেলায় ছিল আদিবাসীদের প্রাধান্য। এখনও বর্ধমান, রায়না, খন্ডঘোষের বাসিন্দাদের পাশাপাশি আদিবাসীরা দলে দলে এই গ্রামীণ মেলায় যোগ দেন। প্রচুর পরিমাণে শাঁখআলু বিক্রি হয় এই মেলায়। মুরগি লড়াই, পুতুল নাচের আসর বসে।

3544_IMG-20200114-WA0165

First published: 05:10:35 PM Jan 15, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर