স্বামী শয্যাশায়ী, দিনরাত টোটো চালিয়ে ঘরে টাকা আনছেন স্ত্রী

সহায় সম্বলহীন কাজলের সে সময় আত্মহত্যা করা ছাড়া পথ ছিল না।

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 28, 2019 08:10 PM IST
স্বামী শয্যাশায়ী, দিনরাত টোটো চালিয়ে ঘরে টাকা আনছেন স্ত্রী
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 28, 2019 08:10 PM IST

#দেওয়ানগঞ্জ: অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা-সহ সংসারের খরচ জোগাড় করতে টোটো চালাতে শুরু করেন পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাটের দেওয়ানগঞ্জের গৃহবধূ কাজল সামন্ত। অভাবের সংসারে একমাত্র সন্তান সজল সামন্তকে নিয়ে বাঁচতে বাধ্য হয়েই কাজল টোটোর হ্যাণ্ডেল ধরেছেন বলে জানান।

মাস সাতেক আগে হঠাৎই ডান পায়ের ব্যাথায় স্বামী সুশান্ত সামন্ত অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন ৷ কাজলের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। স্বামীর অসুস্থতার জন্য বাড়িতেই টোটো দাঁড়িয়ে আছে। আয় নেই। সহায় সম্বলহীন কাজলের সে সময় আত্মহত্যা করা ছাড়া পথ ছিল না। হঠাৎই কাজলের মাথায় আসে ঘরে বসে না থেকে টোটো চালাবেন তিনি। স্ত্রীর প্রস্তাবে স্বামী সুশান্ত রাজি হয়ে যান ৷ অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজলকে টোটো চালানোর শিক্ষা দিতে শুরু করেন।

কয়েক দিনের মধ্যেই কাজল পাকাপাকি টোটো চালক হয়ে উঠেন। পুরুষ চালকদের সঙ্গে রীতিমত লড়াই করে জীবনে বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালাচ্ছেন কাজল। ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে, ঘরের রান্নাবান্না সেরে টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। দিনে শ’তিনেক টাকা আয় হয়। বছর দু’য়েক আগে টোটো কিনতে কিছু ঋণ করেছিলেন স্বামী ৷ তাও শোধ করতে হচ্ছে কাজলকেই। বাড়ির বৌ কাজলের টোটো চালানো অবশ্য মেনে নিয়েছে গোটা পরিবারই ৷ আজ পরিবারের সদস্যরা তাঁর জন্য গর্ববোধ করেন। কাজলের দাদা অনিল মণ্ডল বলেন, পরের বাড়ি কাজ করার থেকে টোটো চালিয়ে বেঁচে থাকা অনেক ভালো। তবে কাজল সামন্ত বলেন, ‘‘সংসার বাঁচাতে আমি টোটো চালাই ৷ রাস্তায় অনেকে টিটকিরি দেয়, আমি কেয়ার করি না। আমি টোটো চালাই।’’ একচিলতে ছিটেবেড়ার ঘরে কাজলের জীবন কাহিনি অনেকটা কাব্যের মত।

নিভন্ত ওই উনুনে মা একটু আগুন দে/ আর কটা দিন বেঁচে থাকি বাঁচার আনন্দে...।

First published: 08:10:31 PM Aug 28, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर