TMC MLA Sital Sardar: হাওড়ার হাওয়ায় ফের বদলের সুর! দলের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ আরেক বিধায়ক

TMC MLA Sital Sardar: হাওড়ার হাওয়ায় ফের বদলের সুর! দলের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ আরেক বিধায়ক
মাঝে বসে রয়েছেন শীতল সর্দার

জেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ডুমুরজলার মহাসভা, মিছিল-- কোনও অনুষ্ঠানের দলের বর্ষীয়ান বিধায়ককে ডাকা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই মিছিলগুলিতে বিধায়করা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ডাকা হয়নি বলে দুঃখপ্রকাশ করেছেন শীতল সর্দার।

  • Share this:

    #হাওড়া: এবার বেসুরো হাওড়ার সাঁকরাইলের তৃণমূল বিধায়ক শীতল সর্দার। তাঁর মুখে এবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া মিহির গোস্বামী, দীপক হালদার, শীলভদ্র দত্তদের মতো কথা। সোমবার বিধায়কদের দলীয় প্রেস কনফারেন্সের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। 'বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়', তৃণমূলের এই নতুন স্লোগান-নির্ভর কর্মসূচি নিয়ে সোমবার জেলার নেতৃত্ব বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানেই দলের বিরুদ্ধে কথা বলেন শীতল সর্দার। জেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ডুমুরজলার মহাসভা, মিছিল-- কোনও অনুষ্ঠানের দলের বর্ষীয়ান বিধায়ককে ডাকা হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই মিছিলগুলিতে বিধায়করা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ডাকা হয়নি বলে দুঃখপ্রকাশ করেছেন শীতল সর্দার। তাঁর দাবি, 'কোনও কার্ড দিয়ে নিমন্ত্রণ নয়, শুধু একটা ফোন করলেই আমি চলে যেতাম।'

    যদিও জেলা নেতৃত্ব তাঁর অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছে। এদিন হাওড়া জেলার মন্ত্রী ও জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায় বলেন, 'সাঁকরাইল যেহেতু গ্রামীণ এলাকার মধ্যে পড়ে তাই হয়তো তাঁকে ডাকা হয়নি। তিনি এই কথা বলছেন তা বুঝতে পারছি না। তিনি গ্রামীণ কমিটিতে রয়েছেন। তাঁকে সব অনুষ্ঠানেই ডাকা হয়। এই অভিযোগগুলি ঠিক না। ২০১৪-এ ভাগ হয়ে যায় হাওড়া জেলা। গ্রামীণটা পুলক রায় দেখে। প্রত্যেককেই জেলা অফিস থেকে ডাকা হয়েছে। কিন্তু উনি কেন এমন বলছেন তা জানি না। আমি এ বিষয়ে কথা বলব ওঁর সঙ্গে।'

    অরূপ রায়ের মুখে বার বার দলের কোন্দল থামানোর কথা শোনা গেলেও, তাঁর বিরুদ্ধেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মদতের অভিযোগ তুলেছেন মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। মাত্র দিন দুই আগেই হাওড়ায় ব্রাত্যর কর্মিসভায় অনুপস্থিত ছিলেন অরূপ রায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ হাওড়া সদরের সভাপতি ভাস্কর ভট্টাচার্য। যা নিয়ে ব্রাত্য নিজেও প্রকাশ্যে তোপ দাগেন অরূপের বিরুদ্ধে। বলেন, 'সবার আগে টিম গেম, কেউ যদি বিচ্ছিন্ন ভাবে খেলে তাহলে কিন্তু জেতা অত্যন্ত শক্ত।' অর্থাৎ হাওড়ার হাওয়া রাজ্যের শাসকদলের জন্য ক্রমেই প্রতিকূল হয়ে উঠছে।


    সূত্রের খবর, ডুমুরজলা মহাসভায় গ্রামীণ অঞ্চলের একাধিক বিধায়ক অংশ নিয়েছিলেন। সমীর পাঁজা, নির্মল মাজির মতো অনেকেই ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। কিন্তু সেখানেই ডাক পাননি শীতল সর্দারের মতো বর্ষীয়ান বিধায়ক। এবং গ্রামীণ সভাপতি হীরক রায়কেও ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ। শীতল সর্দার মিটিংয়ে যাওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন। এই মন খারাপের কথাই এদিন প্রকাশ করেছেন বর্ষীয়ান নেতা শীতল সর্দার।

    হাওড়া এমন একটি জেলা যে জেলায় একের পর এক মন্ত্রী, বিধায়ক তৃণমূল ছেড়েছেন। যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। যাঁদের মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। এর পরেই আসে বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। এছাড়াও বিজেপিতে যোগদানকারীদের তালিকায় রয়েছেন হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তীও। তবে লক্ষ্মীরতন শুক্লা তৃণমূল ছাড়ার কথা জানালেও এখনও অন্য কোনও দলে যোগ দেননি। যদিও হাওড়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অরূপ রায় দাবি করেছেন, তৃণমূল ১৬ টির মধ্যে ১৬ টি আসনই দখল করবে।

    Published by:Raima Chakraborty
    First published: