• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • HOWRAH CITY POLICE OFFICERS HIRED COSTLY CAR TO ARREST FAKE CBI OFFICER FROM DELHI DMG

Fake CBI Officer: দামি গাড়ি ভাড়া করে হোটেলে হানা, দিল্লি থেকে প্রতারক শুভদীপকে কীভাবে জালে তুলল পুলিশ?

প্রতারক শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (মাঝখানে) নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের দুই অফিসার গোলাম মোর্তাজা ও সন্তোষ কুমার যাদব৷

রবিবার বিকেলের ফ্লাইট ধরে দিল্লি পৌঁছে যান জাগাছা থানার সাব ইন্সপেক্টর গোলাম মোর্তাজা ও অ্যাসিল্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর সন্তোষ কুমার যাদব (Fake CBI Officer)৷

  • Share this:

#হাওড়া: মোবাইল টাওয়ার লোকেশন দেখে জানা গিয়েছিল দিল্লির অভিজাত এলাকায়  লুকিয়ে প্রতারক৷ আবার সেখানেও সিবিআইৃ-এর আধিকারিক হিসাবে পরিচয় দিয়ে অভিজাত হোটেলে আশ্রয় নিয়েছিল সে৷ স্থানীয় পুলিশ থেকে হোটেলের অধিকারিকরাও ভয়ে থরহরিকম্প৷ সিবিআই-এর আধিকারিক বলে কথা৷ কেউ সাহস করে ধরতে যেতে রাজি নয়৷ শেষ পর্যন্ত অবশ্য হাওড়া সিটি পুলিশের দুই অফিসারের নাছোড় মনোভাবেই দিল্লির অভিজাত হোটেল থেকে জালে তোলা সম্ভব হল হাওড়ার ভুয়ো সিবিআই অফিসারকে৷

জগাছার বাসিন্দা ভুয়ো সিবিআই অফিসার পরিচয় দেওয়া শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করে এ দিনই  হাওড়ায় নিয়ে আসা হয়৷  জগাছার ভুয়ো সিবিআই কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই অভিযুক্তের মোবাইল নাম্বার  ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ৷ এরই মধ্যে নিউজ ১৮ বাংলাকে অভিযুক্ত শুভদীপ  জানায়, সে রয়েছে দিল্লিতে রয়েছে৷

এই খবর পেয়েই হাওড়া সিটি পুলিশ দুই অভিজ্ঞ অফিসারকে  শুভদীপকে ধরে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয় | রবিবার বিকেলের ফ্লাইট ধরে দিল্লি পৌঁছে যান জাগাছা থানার সাব ইন্সপেক্টর গোলাম মোর্তাজা ও অ্যাসিল্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর সন্তোষ কুমার যাদব | দিল্লি পৌঁছেই শুরু হয় অভিযুক্তের মোবাইল ট্র্যাকিং ৷ কিন্তু তাতেও শুরু হয় সমস্যা, কারণ মোবাইল লোকেশন পরিবর্তন হতে থাকে ৷ একটু রাতের দিকে হঠাৎ করেই শুভদীপের  লোকেশন এক জায়গায় স্থির হয়ে যায় |

জানা যায়, চাণক্যপুরী এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে রয়েছে শুভদীপ৷ ওই হোটেলটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেখানে বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতরা বাস করেন৷ ফলে এলাকাটি কড়া নিরাপত্তায় মোড়া থাকে৷ সন্দেহ এড়াতে  হোটেলে ঢুকতে  দামি গাড়ি ভাড়া করেন সন্তোষ যাদব ও গোলাম মোর্তাজা৷ হোটেল কর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন কথাবার্তা মধ্যেই নিজেদের পরিচয় দিয়ে ছবি দেখিয়ে খোঁজ শুরু হয় শুভদীপের৷ শুভদী কে চিনতে পারলেও  সে নিজেকে সিবিআই অফিসার পরিচয় দেওয়ায় হোটেলকর্মীরা তাঁকে বিরক্ত করার সাহস দেখায়নি৷

হোটেলের কর্তব্যরত  কর্মীদের থেকে ফোন যায় হোটেলের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কাছে৷ খবর দেওয়া হয় স্থানীয় চাণক্যপুরী থানায়৷ পুলিশ আসতেই শুরু হয় হাওড়ার দুই পুলিশ কর্মীর পরিচয় পরীক্ষার কাজ৷ এর দীর্ঘক্ষণ পর মেলে চূড়ান্ত অপারেশনের অনুমতি | হোটেলের ৭৩৯ নাম্বার রুমে গিয়ে দরজায়  আওয়াজ করলেও প্রথমে দরজা খোলেনি শুভদীপ৷ এর পর হোটেলের ইন্টারকম থেকে রাত দুটো নাগাদ ফোন যায় শুভদীপের ঘরে৷ জরুরি কারণে তার ঘরে রুম সার্ভিস কর্মীদের ঢুকতে দেওয়ার অনুরোধ করা হয় | শুভদীপ দরজা খুলতেই ঘরে ঢুকে পড়ে বাইরে লুকিয়ে থাকা হাওড়া ও দিল্লি পুলিশের দল৷ বিপদ বুঝতে পেরেই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে শুভদীপ৷ কিন্তু সন্তোষ কুমার যাদবের হাতে ধরা পরে যায় সে |

এর পর তার ঘর ঢুকে দেখা যায়, অত রাতেও শুভদীপ ল্যাপটপ খুলে কাজ করছিল৷ সেই ল্যাপটপ থেকেই পুলিশ শুভদীপের নেপালে পালানোর ছকের কথা জানতে পারে৷ অনলাইনে ফ্লাইটে বুকিংয়ের তথ্যও পুলিশের হাতে আসেষ  এর পর শুভদীপকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধ সাধে হোটেলের বিল৷  ৩২ হাজার টাকা জমা দিয়ে হোটেল থেকে ছাড়িয়ে আনতে হয় শুভদীপকে৷ এর পর সারারাত  দিল্লির চাণক্যপুরী থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলে শুভদীপের৷ ভার্চুয়ালি শুভদীপকে জেরা করেন হাওড়া সিটি পুলিশের আধিকারিকরা |

 বিভিন্ন বাধা বিপত্তি এড়িয়ে শুভদীপকে দিল্লি থেকে ধরে আনায় সন্তোষ যাদব ও গোলাম মোর্তাজাকে নিয়ে গর্বিত হাওড়া সিটি পুলিশ৷ এর আগেও সন্তোষ যাদবের একাধিক অপরাধীকে ধরার কৃতিত্ব রয়েছে৷ আসানসোলের এক অপরাধী ও সুপারি কিলার পুলিশ কর্মীকে গুলি করে পালিয়ে আসে হাওড়াতে৷  নিজের প্রাণ বাজি রেখে সেই অপরাধীকে পাকড়াও করেছিলেন সন্তোষ কুমার যাদব |

Published by:Debamoy Ghosh
First published: