অনুপম সিংহ হত্যা মামলায় মনুয়া ও অজিতের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ঠিক কী ঘটেছিল সেইদিন?

অনুপম সিংহ হত্যা মামলায় মনুয়া ও অজিতের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ঠিক কী ঘটেছিল সেইদিন?
  • Share this:

#বারাসত: ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে প্রেমিককে দিয়ে স্বামীকে খুন। খুনের পরেও বরাবর নিরুত্তাপ মনুয়া। হৃদয়পুরের অনুপম সিংহ হত্যা মামলায় স্ত্রী মনুয়া ও প্রেমিক অজিতের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেছে বারাসত ফাস্ট ট্র্যাক আদালত। ঠিক কী হয়েছিল সেইসময়?

বাবা-মা বাংলাদেশে থাকেন। ছেলে অনুপম সিংহ থাকতেন উত্তর চব্বিশ পরগনার হৃদয়পুরের সিংহভিলায়। ছিলেন ভ্রমণ সংস্থার কর্মী। বিয়ে করেছিলেন বারাসত পুরসভার অস্থায়ী কর্মী মনুয়া মজুমদারকে। তার দেড় বছরের মধ্যে ২০১৭ সালের ৩ মে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় অনুপমের দেহ। প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে মনুয়া ও প্রাক্তন প্রেমিক অজিতের নাম।

কল ডিটেলস খতিয়ে দেখা যায়, দোসরা মে দুপুরে মনুয়া স্বামী অনুপমকে বারবার ফোন করে। একইসময়ে মনুয়া আরও একটি নম্বরে ফোন করেছিল। জানা যায়, দ্বিতীয় ফোন নম্বরটি অজিতের। যার সঙ্গে ছাত্রজীবন থেকে প্রেম ছিল মনুয়ার।

১৩ দিনের মাথায় অর্থাৎ ১৫ মে গ্রেফতার করা হয় মনুয়া ও অজিতকে। জেরায় পুলিশ জানতে পারে, ২মে দুপুর থেকে প্রেমিকের সঙ্গে সিংহভিলাতেই সময় কাটায় মনুয়া। বিকেলে মনুয়া বেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাটে লুকিয়ে থাকে অজিত। মনুয়া ফোনে তাকে জানাতে থাকে অনুপমের গতিবিধি। গ্রিল কারখানার কর্মী অজিত লোহার রড নিয়ে তৈরি ছিল। অনুপম ফ্ল্যাটে ঢুকতেই রড দিয়ে মাথায় পরপর আঘাত করে। মনুয়ার কথামত ফোন করে মৃত্যুর সময়ের আর্তনাদ শোনায়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে অনুপমের হাতের শিরা কেটে দেয় অজিত।

ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা, হাতের ছাপ ও চুল সংগ্রহ করে ফরেনসিক দল। ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ হয় চুল ও হাতের ছাপ অজিতের। ২০১৭-এর পয়লা নভেম্বর মামলার চার্জ গঠন হয়। ৩০ এর বেশি সাক্ষীকে আদালতে পেশ করা হয়। এ'বছর ১৫ জুলাই রায় ঘোষণার দিন থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। ঘটনার ২৬ মাস পর শেষমেষ বৃহস্পতিবার অজিত ও মনুয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে বারাসত ফাস্ট ট্র্যাক আদালত। শুক্রবার দু'জনেরই যাবজ্জীবন সাজার নির্দেশ দেন বিচারক। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনুয়াকে একবারের জন্যও বিচলিত হতে দেখেননি তদন্তকারীরা।

First published: 09:51:46 PM Jul 26, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर