Hilsa: হারিয়ে যাবে রূপনারায়ণের ইলিশ? আশঙ্কায় দিন গুনছে কোলাঘাট

ইলিশের দেখা মিলছে না রূপনারায়ণেও৷

কোলাঘাটের ইলিশ এখন কমছে তো কমছেই। স্থানীয়দের দাবি, এ ভাবে চললে কোলাঘাটের সাধের ইলিশ একদিন বিলুপ্ত হয়ে না যায় (Hilsa)!

  • Share this:

#কোলাঘাট: রূপনারায়ণের ইলিশ৷ স্বাদে এবং গন্ধে যার জুড়ি মেলা ভার৷ কোলাঘাটের রূপনারায়ণের সেই ইলিশও ক্রমশ ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। কোলাঘাটে ইলিশ অমিলের জন্য কারখানার বর্জ্য থেকে সৃষ্ট নদী দূষণকেই মূলত দায়ী করছেন স্থানীয়রা৷ পাশাপাশি রূপনারায়ণের দূষণের জন্য স্থানীয় মানুষজনের অসচেতনতাকেও দায়ী করছেন ওয়াকিবহাল মহল। কারণ কোলাঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বিরুদ্ধে নদীতে আবর্জনা ফেলার অভিযোগ দীর্ঘদিনেরই। যে কারণে জল দূষণ বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ পরিবেশবিদদের। সঙ্গে ডিভিসির ছাড়া জলকেও ইলিশের মুখ ফেরানোর জন্য দায়ী করছেন বিভিন্ন মহল। এর পাশাপাশি খোকা ইলিশ ধরাও মাছ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ৷

ইলিশ নেই, তাই সংকট বাড়ছে কোলাঘাটের রূপনারায়ণ নদের তীরে বসবাসকারী মৎস্যজীবীদের।অথচ সেই কবে থেকেই কোলাঘাটের ইলিশের কথা মনে এলেই ইলিশ প্রেমীদের জিভে জল আসে। কোলাঘাটের রূপনারায়ণের সুনামের যে যথেষ্ট কারণ আছে, তা আজও মানেন ইলিশ প্রেমিকরা। কারণ কোলাঘাটের ইলিশের স্বাদ পদ্মা বা দিঘার ইলিশের থেকে কিছুটা হলেও আলাদা৷ যদিও সেই সুনাম এখন সুখ স্মৃতি বলেই হা হুতাশ করেন কোলাঘাটের বাসিন্দারা।

কোলাঘাটের ইলিশ এখন কমছে তো কমছেই। স্থানীয়দের দাবি, এ ভাবে চললে কোলাঘাটের সাধের ইলিশ একদিন বিলুপ্ত হয়ে না যায়!

অথচ এক সময় বর্ষাকালীন এই সময়ে ইলিশই উপার্জনের বড় ভরসা ছিল কোলাঘাট সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বড় অংশের মৎস্যজীবী এবং মাছ ব্যবসায়ীদের। সারা বছরের সংসার চালানোর বড় ভরসাই ছিল কোলাঘাটের ইলিশ! বর্তমানে ইলিশের আকালে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সেই তাঁরা। সময়ের সঙ্গে ইলিশ ধরতে পাল্লা দিয়ে হাতে টানা নৌকার সঙ্গে মেশিন চালিত ট্রলার ব্যবহার বেড়েছে। ডিজেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রায় ১০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। তাই হিমশিম খাচ্ছেন মাঝিরা। তার উপর সারাদিন রূপনারায়ণ নদে জাল নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েও পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না কেউই। সারাদিনের পর প্রতিটা লৌকা কিংবা ট্রলার থেকে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫/৭ কিলো। স্বাভাবিকভাবে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা।

মৎস্যজীবীরা এর জন্য মূলত নদীর দূষণ এবং ডিভিসি-র ছাড়া জলকেই দায়ী করছেন। নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং গভীরতা বৃদ্ধিই কোলাঘাটে ইলিশের সোনালি দিন ফিরিয়ে দিতে পারে মনে করছেন তাঁরা। আসলে স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় বলেই কোলাঘাটের ইলিশের চাহিদা বরাবরেরই। এ বছরও সেই চাহিদায় ভাটা নেই। বাজারে প্রচুর চাহিদা কোলাঘাটের ইলিশের, কিন্তু জোগান কম থাকার কারণে সেভাবে পাওয়া যাচ্ছেনা কোলাঘাটের ইলিশ। রূপনারায়ণ নদের দূষণ বাড়ছে পাশাপাশি নদীর গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় মুখ ফিরিয়েছে ইলিশের ঝাঁক। ক্রমাগত ডিভিসি জল ছাড়ছে। নতুন জলের গন্ধেও ইলিশ ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ মৎস্যজীবীদের।

এক সময় বর্ষার সময়ের উপার্জন থেকে সারা বছর সংসার চালাতেন মাঝিরা। বর্তমানে ইলিশের আকালে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। অথচ দু' দশক আগেও রূপনারায়ণ নদের পাড় ইলিশ কেনাবেচা ঘিরে গমগম করতো। ওপারের কলকাতা এবং হাওড়া জেলার ইলিশ প্রিয় মানুষের সঙ্গে এপারের মেদিনীপুরের ক্রেতাদের আনাগোনা লেগেই থাকত। ইলিশকে ঘিরে কোলাঘাটের ভালই ভিড় জমাতো। নদী থেকে ধরে মৎস্যজীবিরা টাটকা ইলিশ তীরে নামালেই হুড়োহুড়ি পড়ে যেতো। যাঁরাই খেয়েছেন, তাঁরাই বলেন- কোলাঘাটের ইলিশের দাম যেমন একটু বেশিই থাকে, তেমনি স্বাদও মুখে লেগে থাকার মতো। সংখ্যার হিসেবে এখন কম উঠছে ইলিশ। কিন্তু স্বাদে এখনও সেই একই আছে কোলাঘাটের ইলিশ।

আসলে কয়েক বছর ধরেই খারাপ ছবিটা ধীরে ধীরে সামনে এসেছে। দিনের পর দিন কোলাঘাট শহর ও বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য নদীতে মিশে দূষণ ও পলি জমছে। সামনেই কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি বেসরকারি সিমেন্ট কারখানার দূষিত জলও কোলাঘাটের রূপনারায়ণ নদে পড়ছে। এতে জলদূষণের মাত্রাও বাড়ছে। নদীর গভীরতা কমেছে। মিষ্টি জলের আশায় বঙ্গোপসাগর থেকে নদী অভিমুখে ইলিশের ঝাঁক যেখানে নিয়ম করে ঢুকতো, সেখানে নদী দূষণের কারণেই মুখ ফেরাচ্ছে রুপালি শষ্য। তবু হাল ছাড়ছেন না মৎস্যজীবিরা, আবার সুদিন ফেরার আশায় দিন গুনছেন তাঁরা। জাল সঙ্গে নিয়ে পাড়িও জমাচ্ছেন রূপনারায়ণের গভীর জলে! নদী থেকে ইলিশ ওঠার আশায়!

Published by:Debamoy Ghosh
First published: