বনগাঁ পুরসভার আস্থা ভোট মামলায় রাজ্য এবং তৃণমূলের পুরপ্রধানকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের বিচারপতির

বনগাঁ পুরসভার আস্থা ভোট মামলায় রাজ্য এবং তৃণমূলের পুরপ্রধানকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের বিচারপতির
Photo: News 18 Bangla
  • Share this:

#বনগাঁ: বনগাঁ পুরসভার আস্থা ভোট নিয়ে মামলায় রাজ্য এবং তৃণমূলের পুরপ্রধানকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার শুনানিতে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত, বনগাঁ পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার যিনি গত ১৬ তারিখের আস্থা ভোটের নির্বাচনী আধিকারিক ছিলেন, তাঁর রিপোর্ট পেশ করেন। দাবি করেন, বনগাঁ পুরসভায় একটাই সভা হয়েছিল। তাতে ১০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর চেয়ারম্যানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। দুপুর তিনটে চল্লিশে সভা শেষ করে নীচে এসে ৯ বিজেপি কাউন্সিলরকে তিনি দেখেন। তাঁরা নির্বাচনী আধিকারিককে জোর করে উপরে নিয়ে গিয়ে ১১ জনের অনাস্থার কাগজে সই করান। এরপর চারটে দশ নাগাদ আরও দুই বিজেপি কাউন্সিলর এসে সই করেন। পুরসভার রেজোলিউশন বইতে বিজেপির প্রস্তাব পাস করানো হয়নি।

বিচারপতির তখন পালটা মন্তব্য, নির্বাচনী আধিকারিকের রিপোর্ট পবিত্র গীতা না কি? যা লেখা আছে সব সত্যি বলে মেনে নিতে হবে? তাঁকে যে চাপ দিয়ে লেখানো হয়নি সেটা কে নিশ্চিত করলেন? তাঁকে যে চেয়ারম্যান এবং তাঁর অনুগামীরা জোর করে সই করাননি সেটা কীভাবে জানলেন? অনাস্থা প্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরসভার নানা প্রশাসনিক কাজেও অসুবিধা হয়। কাজেই আস্থা ভোটের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শেষ করা উচিত। চেয়ারম্যান কেন আস্থা ভোটে যেতে ভয় পাচ্ছেন? এটা লজ্জার। মানুষ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেন। অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি যদি চেয়ারম্যানের উপর আস্থা হারান, তাহলে চেয়ারম্যানের আস্থা ভোটে যাওয়া উচিত।

এরপর নজিরবিহীন প্রস্তাব দেন বিচারপতি। বলেন, প্রয়োজনে পুলিশ সুপারের নজরদারিতে আস্থা ভোট হোক জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের অফিসে। বিচারপতির এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন বনগাঁর পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্যের আইনজীবী। তিনি দাবি করেন,সরকারিভাবে নিয়ম মেনে পুরসভার রেজোলিউশন খাতায় প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এগজিকিউটিভ অফিসারের উপস্থিতিতে তা গৃহীত হয়েছে। এই অনাস্থা প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৬ মাসে ফের অনাস্থা বৈঠক হতে পারে না।

এরপর বিচারপতি বলেন,বিষয়টা জলের মতো স্পষ্ট। যাঁরা আনাস্থা এনেছিলেন তাঁদেরই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ১১ জন কাউন্সিলর অনাস্থা আনলেন অথচ ভোট দিতে গেলেন না। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?এর আগে বুধবারও বিধাননগর মামলা চলাকালীন বনগাঁর প্রসঙ্গ তোলেন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। বলেন, পুলিশ ও শাসক দল এক হয়ে কাজ করছে। চেয়ারম্যানের সমর্থনে কাজ করছে পুলিশ। সোমবার ফের ওই মামলার শুনানি।

First published: July 20, 2019, 4:53 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर