গত ৭৪২ বছর ধরে প্রতিমার নয়, পুজো হয় একটা পাথরের

গত ৭৪২ বছর ধরে প্রতিমার নয়, পুজো হয় একটা পাথরের
Picture for Representation only

গত ৭৪২ বছর ধরে প্রতিমার নয়, পুজো হয় একটা পাথরের

  • Share this:

#ঝাড়গ্রাম:  প্রতিমার নয়। পুজো হয় একটা পাথরের। গত ৭৪২ বছর ধরে। কোন পুরোহিত নয়। পুজো করেন শবর সম্প্রদায়ের মানুষ। ১২৭২ সাল থেকে একই ভাবে চলে আসছে পুজো। অনেক গল্পকথা জড়িয়ে গুপ্তমনির দুর্গার সঙ্গে কিন্তু সেই গল্পের সামাজিক তাৎপর্যটাই আসল কাহিনী।

স্বপ্নে দেখা দিলেন দেবী। আর শুরু হল পুজো। উৎসুক শ্রোতার কৌতুহলী জিজ্ঞাসা আর থামতে চায় না। সে ফের জানতে চায়। তারপর...?

তারপর আর কি? গল্পটা চলতেই থাকে। ডালপালা মেলে। কিন্তু চাপা পরে যায় আসল সত্য। সেই কবে শবর সম্প্রদায়পতি নন্দা ভুক্তা আবিস্কার করেছিলেন জঙ্গলের মধ্যে গোপন পথ। মল্লদেব রাজার যাতায়াতের লুকানো রাস্তা। জঙ্গলের ভিতর রাজবাড়ির গোপন সড়ক। সঙ্কটে পরেছিল রাজা আর রাজ্যের নিরাপত্তা। যাদের হারিয়ে তাড়িয়ে এই বিশাল রাজ্য। সে শবররাজাই যখন জেনে ফেলেন যুদ্ধের স্ট্রাটেজি। তখন বিপদ বাড়ে।

আর ঠিক তখনি তৈরি করা হয় গল্পটা। রাজার হাতি হারিয়ে যায়। হদিশ মেলে সেই গুপ্তপথের সামনে। গাছের গায়ে লতা দিয়ে বাঁধা। রাজহস্তি। মহারাজা মল্লদেব বুঝতে পারেন শবরপতি নন্দা ভুক্তা জেনে ফেলেছেন গুপ্তপথ। যাদের হারিয়ে-হটিয়ে তার সাম্রাজ্য সেই শবরপতি স্বয়ং দাঁড়িয়ে হাতির সামনে।

আসলে সারেন্ডার করেন রাজা মল্লদেব। শবরপতির কাছে। কিন্তু ইতিহাস তো লেখে জয়ী জাতি। সেই কারনেই রাজদরবারে রাজকবি লেখেন গল্প। বাঁধেন গান। রচিত হয় বীর গাঁথা। দেবির স্বপ্ন। মল্লদেবকে। হারানো রাজ হাতির হদিশ দিতে। আর শবর দলপতিকে জল-তুলসির পুজো চেয়ে।

শবর দলপতির কাছে পরাভুত রাজা শেষ পর্যন্ত জঙ্গলের ওই গোপন পথ রক্ষার দায়িত্ব দেন শবরদেরই। তারাই সেনাপতি হয়ে রুখে দেন হাজারো আক্রমণ। রাজ-ঐশ্বর্য। রাজপ্রাসাদ। আর ওইখানে শুরু হয় দুর্গা আরাধনা। সেই কারনেই কোন প্রতিমার নয়। পুজো হত একটা পাথরের। ওই পাথরের ওপরেই ঘট বসিয়ে আরাধনা। আজও তেমন। ৭৪২ বছর ধরে।

তখন থেকেই শবরের দুর্গার পরিচয় গুপ্তমনির উমা হিসেবে। আসল কাহিনী হল, আদিবাসী রাজার যুদ্ধজয়ের স্মারক এই গুপ্তমনি।

First published: 01:52:14 PM Aug 25, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर