"দলে মর্যাদা মাটিতে মিশছে," জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষের পদ ত্যাগ হাসনাবাদের বাবু মাস্টারের

"দলে মর্যাদা মাটিতে মিশছে," জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষের পদ ত্যাগ হাসনাবাদের বাবু মাস্টারের

এহেন বর্ণময় চরিত্রের বাবু মাস্টারকে বাম রাজনীতি থেকে এনে তৃণমূল কংগ্রেস গত পঞ্চায়েতে জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবে জেতায়। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদ এবার তাঁকে পরিষদের শিক্ষা, তথ্য- সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার কর্মাধ্যক্ষ করে তৃণমুল কংগ্রেস।

এহেন বর্ণময় চরিত্রের বাবু মাস্টারকে বাম রাজনীতি থেকে এনে তৃণমূল কংগ্রেস গত পঞ্চায়েতে জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবে জেতায়। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদ এবার তাঁকে পরিষদের শিক্ষা, তথ্য- সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার কর্মাধ্যক্ষ করে তৃণমুল কংগ্রেস।

  • Share this:

#হাসনাবাদ:  ত্যাগ করলেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষের পদ।আর মুখে বললেন সামনে বাম ও ডান দুই পথই খোলা।তবে আর বামে নয় বরং থাকবেন ডানেই।বাবু মাস্টার। হাসনাবাদে মানুষ মাত্রই তাঁকে জানে এই নামে।বামেদের শাষন কালে মন্ত্রী গৌতম দেবের বিধানসভা এলাকায় বাম নেতা হিসাবে পরিচিত।আপাত শান্ত মানুষটিকে নিয়ে বসিরহাট মহকুমা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় কম বিতর্ক নেই।সহজ ভাবেই বলেন রাজনীতি করতে গেলে 'কেস খাওয়া' খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।রাজনীতির জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে খুন,তোলাবাজি,রাহাজানির মত বহু মামলা রয়েছে দুই ২৪ পরগনায়।সুন্দরবনের নোনা জলের রাজনীতিতে বাবু মাস্টার আর শেখ সাজাহান বিজেপির কাছে বরাবরের আক্রমনের প্রথম টার্গেট।

এহেন বর্ণময় চরিত্রের বাবু মাস্টারকে বাম রাজনীতি থেকে এনে তৃণমূল কংগ্রেস গত পঞ্চায়েতে জেলা পরিষদের সদস্য হিসাবে জেতায়। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদ এবার  তাঁকে পরিষদের  শিক্ষা, তথ্য- সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার কর্মাধ্যক্ষ করে তৃণমুল কংগ্রেস। বছর দেড়েক আগে সন্দেশখালীর ভাঙ্গিপাড়ায় তৃণমুল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে গন্ডগোল হয়।সেই রাতে তৃণমুল কংগ্রেসের এক সদস্য আর বিজেপির দু’জন কর্মী মারা যান।এখনও নিখোঁজ বিজেপির এক কর্মী।সেই ঘটনায় বিজেপির নিহত কর্মীর পরিবার থেকে এফ আই আর এ নাম দেওয়া হয়ে বাবু মাস্টার ওরফে ফিরোজ কামাল গাজীর।শাষক দলের শিক্ষা, তথ্য- সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার কর্মাধ্যক্ষ ফিরোজ কামাল গাজী জামিন না নিয়েই আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বারাসত রবীন্দ্র ভবনে সরকারি অনুষ্ঠানে হাজির হন।

রাজ্য খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জেলা পরিষদের সভাপতি বীনা মন্ডল,পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নারায়ন গোস্বামী সেই মঞ্চে উপস্থিত। তবে শান্ত বাবু মাস্টারের সেই দিন বলে ছিলেন তাঁকে ভাঙ্গিপাড়া হত্যা কাণ্ডের সঙ্গে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তবে কারা ফাঁসাচ্ছে এই প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর সেই দিন তিনি দেননি।আজ, শুক্রবার, সকালে জেলা পরিষদের শিক্ষা, তথ্য- সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করে ফিরোজ কামাল গাজী জানিয়ে দেন সন্দেশখালির ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানো ছিল দলের একাংশের কারসাজি।

তবে কারও নাম না নিয়ে বললেও গত কয়েক মাস দল ও জেলা পরিষদের ক্ষমতাশালী এক কর্মাধ্যক্ষের আচরণে তিনি ব্যাথিত। বরং এদিন বাবু মাস্টার দাবি করেন রাজনীতিতে বহু পথ খোলা তাঁর সামনে৷ বাম থেকে ডানে এসেছেন। আগামী দিন ডান পন্থায় তাঁর রাজনীতির জীবনে নতুন দিশা তিনি খুজবেন।জেলা পরিষদ ত্যাগের আগে তৃণমূলের এই পদত্যাগী কর্মাধ্যক্ষ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ এখন দূর্নীতির পাহারে পরিণত হয়েছে। আর বাবু মাস্টারের এই জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাদ্ধক্ষ্য নারায়ণ গোস্বামী বলেন, উনি তো জেলা পরিষদের ফিন্যান্স কমিটির সদস্যও ছিলেন।সেখানে মিটিং-এ এই নিয়ে বললে জেলা শাসক তদন্ত করতে পারতেন।সেটা না করে পদত্যাগের কথা বলে উনি বাজার গরম করতে চাইছেন বলে নারায়ণ গোস্বামীর অভিযোগ।

Published by:Pooja Basu
First published: