নাগরিকত্ব বিলের প্রভাব ঐতিহাসিক শহর লালবাগে, ভিড় নেই হাজারদুয়ারি-কাটরা মসজিদে

নাগরিকত্ব বিলের প্রভাব ঐতিহাসিক শহর লালবাগে, ভিড় নেই হাজারদুয়ারি-কাটরা মসজিদে
  • Share this:

Pranab Kumar Banerjee

#লালবাগ: ভিড় নেই হাজারদুয়ারিতে । নাগরিকত্ব বিলের প্রভাব বড়দিনেও। নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদে বড়দিনে পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট থাকে অন্যান্য বছর ৷ কিন্তু এবার সে ভিড় চোখে পড়ছে না। ব্যবসায়ীরাও কিছুটা হতাশ । নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদ জেলা। ট্রেন চলাচলে এখনও স্বাভাবিক হয়নি। তারই প্রভাব পড়েছে বড়দিনে। হাজারদুয়ারিতে সেভাবে পর্যটকদের দেখা নেই। সাধারণত বর্ষশেষে দিন চারেকের ছুটি পেলে ঐতিহাসিক শহর মুর্শিদাবাদে যান পর্যটকেরা। মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি, কাটরা মসজিদ, কাঠগোলা বাগান, নিউ মতিঝিল পার্কসহ সিরাজের সমাধি স্থল দেখতে ভিড় করেন পর্যটকরা। এছাড়াও কিরীটেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে যান অনেকে।

মুর্শিদাবাদে ঘুরতে আসার মূল যোগাযোগ পথ হচ্ছে রেলপথ। প্রসঙ্গত নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের একাধিক স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। বেশ কিছু ট্রেনও জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সেই সময়। কয়েকদিন ট্রেন বন্ধ থাকলেও রেল দপ্তর তৎপরতার সঙ্গে কয়েকটি স্পেশ্যাল ট্রেন চালু করা হলেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি রেলপথ। যার প্রভাব পড়েছে পর্যটকদের মধ্যে।

লালবাগে হোটেল ব্যবসায়ী অশোক দাস বলেন, মুর্শিদাবাদ মানেই এখন আতঙ্ক। আর সেই কারণে অনেক মানুষ আগে থেকে হোটেল বুক করে থাকলেও তাঁরা ক্যানসেল করে দিয়েছেন। এই সময়ে লালবাগে হোটেল পাওয়া যেত না। আর আমরা এখন খালি বসে আছি। মুর্শিদাবাদ ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, ট্রেন যোগাযোগ না থাকায় মানুষ আসতে ভরসা পাচ্ছেন না। তবে এত কিছুর মধ্যেও বেশ কিছু মানুষ ঐতিহাসিক শহর লালবাগে ঘুরতে এসেছেন। দেখা গিয়েছে বেশ কিছু বিদেশী পর্যটকও। কলকাতা থেকে বাবা-মা’র সঙ্গে সুতপা অধিকারী এসেছে হাজারদুয়ারি দেখতে। বললেন, ‘ইতিহাস বইয়ে পড়েছি। তারপর গাইড সাব যে ভাবে বুঝিয়ে দিলেন খুব ভালো লাগল।’ মালদা থেকে এসেছেন সাবির সেখ, পরিবার নিয়ে। বলেন, ‘কয়েকদিন আগে যেভাবে গন্ডগোলের খবর পাচ্ছিলাম তাতে ভয় পেয়েছিলাম। সাহস নিয়ে চলে এসে ভুল করিনি। কোন অশান্তি নেই এখানে।’

হাজারদুয়ারি পাশেই দোকান রয়েছে বাজির হোসেনের। বলেন, ‘বড়দিনের ছুটিতে যেভাবে ভিড় হয় পর্যটকদের এবার সেই ভিড় নেই। ব্যবসার প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে।’ হাজারদুয়ারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবছর বড়দিনে যেখানে প্রায় কুড়ি হাজার টিকিট বিক্রি হয়, এবার সেখান ৩৩০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র। একই অবস্থা মুর্শিদাবাদের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো। লালবাগ পৌরসভার পৌর পিতা বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন শান্ত। সামান্য অশান্তি হয়েছিল। সকলে নির্ভয়ে আনন্দ করে যান কয়েক দিন এই ঐতিহাসিক শহরে।’

First published: 10:06:36 PM Dec 25, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर