দক্ষিণবঙ্গ

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

ভাইঝি জামাই নয়, হাবড়ার দম্পতিকে খুনের পেছনে দম্পতির নিজের জামাই, জানাল পুলিশ

ভাইঝি জামাই নয়, হাবড়ার দম্পতিকে খুনের পেছনে দম্পতির নিজের জামাই, জানাল পুলিশ

পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তন্ময়কে দীর্ঘ জেরা করে পুলিশ বোধোদয় হয়, ঘটনার সঙ্গে তন্ময়ের কোনও যোগসূত্র নেই।

  • Share this:

#‌বারাসত:‌ পুলিশ একশো আশি ডিগ্রি ঘুরতে বাধ্য হল। বৃহস্পতিবার বারাসত জেলা পুলিশ স্বীকার করে নিল স্রেফ পরিবারের ভাসিয়ে দেওয়া তত্ত্বে বিশ্বাস করে ঘোল খেতে হয়েছে তাদের। বারাসত জেলা পুলিশের সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিন সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন হাবড়া দম্পতি খুনে যাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেই অভিযুক্ত আদৌ খুনের সঙ্গে জড়িত নয়। উল্লেখ্য, হাবড়ার টুনিঘাটায় রামকৃষ্ণ মন্ডল ও লীলা মন্ডল হত্যাকাণ্ডে প্রথমে ভাইঝি জামাই তন্ময় বরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদতে সম্পত্তির লোভে সুপারি কিলার দিয়ে শ্বশুর ও শাশুড়িকে খুন করিয়েছে জামাই বান্টি সাধু এই দাবী করে পুলিশ। নিজেদের ব্যর্থতা ঢেকে পুলিশ এই দিন জানাল, হাবড়ায় দম্পতি খুনে নয়া মোড়।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে বারাসতের পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন যে পুলিশ নিহত দম্পতির পরিবারের ভাসানো তত্ত্ব ও সূত্রে বিভ্রান্ত হয়েছিল এবং এর মুলে রয়েছে ষড়যন্ত্রকারী বান্টি। পুলিশ জানিয়েছে, বান্টি সাধু নিহত দম্পতির জামাই। নিজের সম্পর্কিত ভায়রা ভাই তন্ময়ের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পুলিশকে ভুল পথে চালিত করতে সক্ষম হয় বান্টি। ফলে গ্রেফতার হয়ে আদালতের নির্দেশে চোদ্দো দিনের পুলিশি হেফাজত জোটে খুনের সাথে যোগসূত্র না থাকা তন্ময়ের। পুলিশ অবশেষে জানাচ্ছে, দশ লাখ টাকা দিয়ে বান্টি জোড়া খুনে কাজে লাগায় পেশাদার খুনে অজয়কে।

উল্লেখ্য,গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে হাবড়ার টুনিঘাটা গ্রামে খুন হন রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও লীলা মণ্ডল। এই খুনের ঘটনায় ভাইঝি তন্ময় বরকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তারও করে। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, তন্ময় বরের থিতু না হওয়া দাম্পত্য জীবনের ক্রোধের শিকার হয়ে খুন হতে হয়েছিল সফল দাম্পত্যর প্রতিবন্ধক কাকা শ্বশুর ও কাকী শাশুড়িকে।এখন পুলিশই জানাচ্ছে,আট লাখ টাকা দেনার দায়ে জর্জরিত বান্টি দশ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনেকে ভাড়া করে খুন করেছে শ্বশুর শাশুড়িকে। অর্থাৎ পুলিশের অঙ্ক অনুযায়ী, বান্টির আট লাখ বাকি এবং খরচ দশ লাখ। প্রাপ্তি পুলিশের আঠেরো ঘা। কিন্তু চিত্রনাট্যর প্রথমার্ধে কোথাও ছিল না অবশেষে ধৃত বান্টি সাধু।

এরপরেই শুরু হয় চিত্রনাট্যর চমকপ্রদ দ্বিতীয়ার্ধ। পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তন্ময়কে দীর্ঘ জেরা করে পুলিশ বোধোদয় হয়, ঘটনার সঙ্গে তন্ময়ের কোনও যোগসূত্র নেই। তারপরই পুলিশ নিহত দম্পতির পরিবারের দিকে নজর দেয়। রামকৃষ্ণ ও লীলার ছোট জামাই বান্টির আচরণে পুলিশের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ নিশ্চিত হয় বান্টি জোড়া খুনে জড়িত। লাগাতার জেরায় স্বীকার করে নেয় সে খুনের কথা, শ্বশুর-শাশুড়িকে সুপারি কিলার দিয়ে সে-ই খুন করেছে। হাবড়ার জয়গাছির বাসিন্দা অজয় দাসকে ১০ লক্ষ টাকা চুক্তিতে নিয়োগ করেছিল বান্টি। ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে অজয় পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে রামকৃষ্ণ ও লীলাকে গুলি করে খুন করেছিল। সেদিন বান্টি শ্বশুরবাড়িতেই ছিল। পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এফআইআরে নাম থাকায় আমরা তন্ময় বর নামে এক যুবককে প্রথমে গ্রেপ্তার করেছিলাম। কিন্তু পরে নিশ্চিত হই, সে এই খুনে জড়িত নয়। তারপর তদন্তে জানতে পারি, নিহত দম্পতির জামাই বান্টিই এই খুনের মূল চক্রী। ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে সুপারি কিলার ব্যবহার করে শ্বশুর-শাশুড়িকে খুন করেছে। মূলত সম্পত্তির লোভেই সে এই খুন করে। খুনে ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তন্ময়কে এই মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আইন অনুসারে আদালতে আবেদন জানানো হবে।' পুলিশ বলছে তদন্তের জাল গুটিয়ে ফেলা হয়েছে।

Rajarshi Roy

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: September 24, 2020, 6:26 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर