অপেক্ষায় বিয়ের কনে! গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ভুলে ম্যাচ দেখল পাত্র-সহ গােটা পরিবার!

অপেক্ষায় বিয়ের কনে! গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ভুলে ম্যাচ দেখল পাত্র-সহ গােটা পরিবার!
পাত্র বলেন, এই ঐতিহাসিক দিনে আমার বিয়ে। এটা সারা জীবন মনে থাকবে। দ্বিগুণ আনন্দে গায়ে হলুদ মেখেছি।

পাত্র বলেন, এই ঐতিহাসিক দিনে আমার বিয়ে। এটা সারা জীবন মনে থাকবে। দ্বিগুণ আনন্দে গায়ে হলুদ মেখেছি।

  • Share this:

Supratim Das

#বোলপুর; মঙ্গলবার ছিল ক্রিকেটের অনবদ্য লড়াই। সেই লড়াই এ টেস্ট সিরিজ ছিনিয়ে নেয় টিম ইন্ডিয়া। তবে, এ দিন শেষ টেস্ট ম্যাচের পঞ্চমদিনের ম্যাচ ফিনিশ করেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। টেস্ট ম্যাচেও টি-২০-এর উত্তাপ তৈরি হওয়ায়, শেষ কয়েক ঘণ্টা টিভির পর্দাতেই চোখ ছিল ক্রিকেট প্রিয় সমস্ত ভারতবাসীর। বাদ যাননি বোলপুরের এই বিয়ের পাত্র সৌহার্দ্য সামন্ত ও তাঁর পরিবারও।

বিয়ের আগের গায়ে হলুদ ছেড়ে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে টিভির পর্দায় চোখ রাখেন পাত্র-সহ গোটা পরিবারের লােকজন । পাত্র পূর্তদফতরের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার,  সৌহার্দ্য সামন্ত। খেলা পাগল এই পরিবার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ভুলে বসে গেলেন টিভির সামনে । অবশ্য তার ফলও পেলেন হাতেনাতে । শেষমেশ ভারতীয় দল ঐতিহাসিক জয় পাওয়ায় দ্বিগুণ আনন্দে সকলে মেতে ওঠেন বিয়েবাড়িতে।


বীরভূমের বােলপুরের অধ্যাপকপল্লিতে ভাের থেকে একদিকে চলছিল টিভি, আর একদিকে চলছিল সৌহার্দ্য সামন্তের বিয়ের তােড়জোড়। গােটা পরিবারই অন্ধ ভক্ত ক্রিকেটের। তাই পরিবারের সকলেই চোখ রেখেছিলেন টিভির পর্দায়। কিন্তু একমাত্র ছেলের বিয়ে বলে কথা। সাত সকালে ব্যস্ত সৌহার্দ্যবাবুর মা বারবার তাগাদা দিচ্ছেন গায়ে হলুদে বসার জন্য। কিন্তু সে কথা তখন কানে তােলেননি পাত্র সহ পরিবারের কেউই। ও দিকে পাত্রীর বাড়ি থেকেও বারবার ফোন আসছে পাত্রের মাখা গায়ে হলুদ কখন আসবে?  কিন্তু পাত্র তখন মজে ক্রিকেটে।

সৌহার্দ্য ছােট থেকেই ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত। বাড়ির সকলেরই প্রিয় খেলা ক্রিকেট, তাই বাদ যায়নি সৌহার্দ্যও। তাই জীবনের একটা অধ্যায় শুরুর  দিনও খেলা প্রীতি কমলো না তাঁর । একসময় জেতার জন্য ২৬ বলে ভারতের প্রয়ােজন ছিল ১০ রান। ভারতের রান তখন ৫ উইকেটে ৩১৮। সহজে ম্যাচ জিতবে বলে উচ্ছসিত পরিবার। পাত্র সােহার্দ্য তখন আঙুলের নখ কাটছেন উত্তেজনায়। এমন সময়ই ব্রাহ্মণ ডাক দেন, গায়ে হলুদের লগ্ন পেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই কথায় কান না দিয়ে টিভির পর্দায় ক্রিকেটের মশগুল সবাই। টানটান উত্তেজনা। ম্যাচ জেতার জন্য তখন দরকার ২১ বলে ৩ রান। সেই সময় আরও একটি উইকেট হারায় ভারত। বিয়েবাড়িতে সানাই বন্ধ, সবার নজর তখন টিভির পর্দায়। এরপর স্ট্রেট ড্রাইভে রিষভ পন্থ বাউন্ডারি হাঁকাতেই উল্লাসে ফেটে পড়লেন সকলে।

সৌহার্দ্যবাবুর বাবা বিবেকানন্দ সামন্ত বলেন, ছেলের বিয়ে তাই এমনিতেই চাপা উত্তেজনা ছিল। কিন্তু এ দিন যে রুদ্ধশ্বাস টেস্ট ম্যাচ হল, এমন অনেক বছর দেখিনি। ছেলের বিয়ের দিনে ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। আনন্দে আত্মহারা সৌহার্দ্যও। তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক দিনে আমার বিয়ে। এটা সারা জীবন মনে থাকবে। দ্বিগুণ আনন্দে গায়ে হলুদ মেখেছি। বিয়েবাড়ির আনন্দ ডবল হয়ে গিয়েছে। পরে অবশ্য পাত্রের গায়ে হলুদের,  হলুহ পাত্রীর বাড়িতে পৌঁছায় একটু দেরি করেই।

Published by:Simli Raha
First published:

লেটেস্ট খবর