ধূসর রঙের জ্যাকেট ধরিয়ে দিল গুলি কাণ্ডের দুষ্কৃতীকে!

ধূসর রঙের জ্যাকেট ধরিয়ে দিল গুলি কাণ্ডের দুষ্কৃতীকে!

গত বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে এক সোনা ব্যবসায়ীকে গুলি করে তাঁর সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। খণ্ডঘোষের জুবিলা গ্রামের কাছে ওই ঘটনা ঘটে।

  • Share this:

Saradindu Ghosh

#খন্ডঘোষ: ধূসর রঙের শীতের জ্যাকেট। সেই শীতবস্ত্রই ধরিয়ে দিল দুষ্কৃতীকে। খন্ডঘোষে সোনা ব্যবসায়ীকে গুলি করে সোনা ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতকে জেরা করে ওই ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে এক সোনা ব্যবসায়ীকে গুলি করে তাঁর সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। খণ্ডঘোষের জুবিলা গ্রামের কাছে ওই ঘটনা ঘটে। শ্রীকান্ত দাস নামে ওই ব্যবসায়ী খণ্ডঘোষের সগড়াই বাজারে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। দোকানের এক কর্মচারীকে সঙ্গে নিয়ে মোটর সাইকেল চালাচ্ছিলেন তিনি। জুবিলা বাজারে মোটর বাইকে থাকা তিন দুষ্কৃতী বাইক নিয়ে তাঁদের পথ আটকায়। পেছনে বসা কর্মচারীকে ঠেলে ফেলে দেয় তারা। সেই সঙ্গে শ্রীকান্তবাবুর কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় । বাধা দেন ওই ব্যবসায়ী। তখন তাঁর ডান পায়ে গুলি চালিয়ে  মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুই দুষ্কৃতী। তিনি মোটর সাইকেল থেকে মাটিতে পড়ে যান। সেই সুযোগে টাকার ব্যাগ নিয়ে মোটর সাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায় তিন দুষ্কৃতী। ব্যাগে নগদ দু'লক্ষ টাকা ও কিছু সোনার গয়না ছিল। ওই ব্যবসায়ীকে রাতেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেই ঘটনায় বুধবার রাতে খন্ডঘোষের কেঁউটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মতিলাল সেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মতিলালই ঘটনার মূল পান্ডা বলে দাবি পুলিশের। কিন্তু মতিলাল যে ঘটনায় জড়িত তা জানল কী করে পুলিশ? ঘটনার পর থেকে দুষ্কৃতীদের হদিশ পেতে চেষ্টা চালাচ্ছিল পুলিশ। সেই কাজ সহজ করে দেয় মতিলালের ধূসর রঙের জ্যাকেট। মেরুনের কাছাকাছি, আবার গাছের গুঁড়ির রঙ বা মাটি রঙ মিশলে যেমন হয়।  জখম ব্যবসায়ী ও তার সঙ্গী দুষ্কৃতীদের বিবরণ দিতে গিয়ে একজনের পরণে তেমন জ্যাকেটের কথা বলেছিল। ঘটনার পর পালানোর মুহূর্তে এক সাইকেল আরোহী তাদের ধরার চেষ্টা চালিয়েছিল। সেও পোশাকের বর্ণনায় ওই জ্যাকেটের কথা বলেছিল।

শ্রীকান্ত বাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে খবর পেয়ে তাঁর ভাই যখন মোটর সাইকেলে সেদিকে যাচ্ছিলেন তখন তাঁদের দাঁড় করিয়ে বিস্তারিত জানতে চায় ধূসর জ্যাকেটের যুবক। পোশাক ও মোটর সাইকেলের বর্ণনা সকলের বক্তব্যেই মিলে যায়। অন্যান্য তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ বুঝে যায় দুষ্কৃতী কে। শুরু হয় নজরদারি। এরপর ধূসর জ্যাকেট ও ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটর সাইকেলের মালিক মতিলালকে পাকড়াও করে পুলিশ। জেরায় সে ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের। তার মোটর সাইকেলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

First published: February 27, 2020, 9:26 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर