Ghatal Flood: বয়স মাত্র এগারো দিন, প্রতিবেশীর ছাদে তিন রাত কাটিয়ে নৌকায় চড়ে টিকা নিল ঘাটালের সুইটি

নৌকায় করে টিকা নিতে যাচ্ছে এগারো দিনের শিশুকন্যা৷

ঘাটাল পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাউলি গ্রামের বাসিন্দা অসিত মুলা৷ ১১ দিন আগে অসিতবাবুর স্ত্রী একটি শিশুকন্যার জন্ম দেন (Ghatal Flood)৷

  • Share this:

    #ঘাটাল: বয়স মাত্র এগারো দিন৷ বাড়ির নিরাপদ আশ্রয়ে পরম আদরে ঘুমিয়ে থাকার কথা তার৷ কিন্তু এগারো দিনের এই শিশুকন্যাকে চার দিন কাটাতে হল প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদে৷ কারণ নিজের যে বাড়িতে নিরাপদে থাকার কথা তার, সেই বাড়িটিই চলে গিয়েছিল জলের তলায়৷ ঘাটালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিশুটির বাবা-মা তাই সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন৷ সেখান থেকেই এ দিন নৌকায় ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে টিকা দেওয়া হয়৷

    ঘাটাল পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাউলি গ্রামের বাসিন্দা অসিত মুলা৷ ১১ দিন আগে অসিতবাবুর স্ত্রী একটি শিশুকন্যার জন্ম দেন৷ অসিতবাবু এবং তাঁর স্ত্রী ভালবেসে মেয়ের নাম রাখেন সুইটি৷ কিন্তু তখনও তাঁরা বুঝতে পারেননি, একরত্তির কপালে কী দুর্ভোগ অপেক্ষা করে আছে৷

    সুইটির জন্মের কয়েকদিন পরই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়৷ বাড়তে থাকে নদীর জলস্তর৷ কয়েকদিনের মধ্যেই ঘাটালে জল ঢুকতে শুরু করে৷ প্রথমে জলমগ্ন হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট৷ ধীরে ধীরে বাড়ি ঘরও চলে যেতে থাকে জলের তলায়৷ অসিতবাবুর একতলা পাকা বাড়িতেও জল ঢুকতে শুরু করে৷ বিপদ বুঝে সদ্যোজাত মেয়েকে নিয়ে প্রতিবেশীর দোতলা বাড়ির ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন অসিতবাবু এবং তাঁর স্ত্রী৷ সেখানেই তিন রাত কাটান তাঁরা৷

    গত দু' দিনে অসিতবাবুর বাড়ি থেকে জল কিছুটা নেমেছে৷ কিন্তু জন্মের এগারো দিনের মাথায় টিকাকরণের জন্য শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল৷ ঘাটালে এখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা৷ সেই নৌকাতে করেই এগারো দিনের মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছন অসিতবাবু এবং তাঁর স্ত্রী৷ এর পর হাসপাতাল থেকেই বাড়িতে ফিরে যান তাঁরা৷ প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ না থাকলে কী হতো, তা ভেবেই এখন আতঙ্কিত সুইটির বাবা- মা৷

    Sukanta Chakraborty

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: