corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা লকডাউনে ঘরবন্দি গেঁওখালির ‘পর্তুগাল’ গ্রামের  বাসিন্দারাও !

করোনা লকডাউনে ঘরবন্দি গেঁওখালির ‘পর্তুগাল’ গ্রামের  বাসিন্দারাও !

সঙ্কট যখন অনেক গভীরে, তখন প্রয়োজন আরও বেশি সাহায্যের। তাই অনেক চিন্তার মধ্যেই দিন কাটছে মীরপুরের পর্তুগিজদের বর্তমান বংশধরদের।

  • Share this:

#মীরপুর: গ্রামের নাম মীরপুর। গেঁওখালির মীরপুর গ্রামে বসবাস পর্তুগীজদেরই। মীরপুর গ্রাম যেন তাই এক টুকরো পর্তুগাল। অন্য আর পাঁচটা শহর ও গ্রামের মতোই করোনা লকডাউনে ভালো নেই পুর্ব মেদিনীপুরের ‘পর্তুগাল’ গ্রামও। ভাল নেই মীরপুর গ্রামের বাসিন্দারা। কারণ, মীরপুর গ্রামের বেশিরভাগ মানুষজনের দিন আনি- দিন খাই অবস্থা।

লকডাউনে ঘরবন্দি সেই পর্তুগিজ মানুষজন চাইছেন তাদের পাশে দাঁড়াক সরকার প্রশাসন। তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে কেউ কেউ  সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। মীরপুর পৌর এলাকা না হলেও এই করোনা সময়কালে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হলদিয়া পুরসভা কর্তৃপক্ষ। মীরপুর গ্রামের মানুষদের জন্য পুরসভা কর্তৃপক্ষ পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী।

সঙ্কট যখন অনেক গভীরে, তখন প্রয়োজন আরও বেশি সাহায্যের। তাই চিন্তায় দিন গুজরান চলছে মীরপুরের পর্তুগিজদের বর্তমান বংশধরদের। কারণ, আর্থিক দিক থেকে যথেষ্টই পিছিয়ে এই গ্রাম, গ্রামের মানুষজন।চালে-বোলে বাঙালি হলেও মীরপুর গ্রামের বাসিন্দাদের প্রপিতামহরা প্রত্যেকেই ছিলেন পর্তুগিজ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশিরা যে দেশি বনে যান, মীরপুরের পর্তুগিজদের দেখলেই বোঝা যায়।

১৭১৭ খ্রীষ্টাব্দে মহিষাদল রাজপরিবারের তৎকালীন রানী বর্গী আক্রমণ থেকে নিজের সাম্রাজ্য আর প্রজাদের রক্ষা করতেই কিছু পর্তুগিজ গোলন্দাজ বাহিনীকে আনিয়েছিলেন যুদ্ধ করার জন্য। সে সময় তাঁরা বর্গী আক্রমণ রুখেও ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁরা নিজেদের প্রতিপত্তি দেখাতে চেষ্টা করলে, রানী তাঁদের ১০০ একর জমি দিয়ে যুদ্ধ ছেড়ে চাষাবাস করার উপদেশ দিয়েছিলেন। সেই থেকেই তাঁরা ফেরেননি। থেকে গিয়েছেন মীরপুরেই। আজও তাদের বংশধররা দেখতে সম্পুর্ন বাঙালি। যারা পূর্ব পুরুষদের মতোই চাষাবাদ, কৃষিকাজেই নিজেদের যুক্ত করে রেখেছেন। কৃষির সঙ্গে যুক্ত মীরপুরের পর্তুগিজ মানুষদের বেশিরভাগেরই এই করোনা লকডাউনে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর জোগাড়। তাইতো সাহায্য সহযোগিতা চেয়ে পুরসভা, পঞ্চায়েত প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে কতদিন দিন গুনরান সম্ভব হবে, তা নিয়ে তাঁরা নিজেরাই সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। চাইছেন, কেটে যাক করোনা বিপদ। উঠে যাক লকডাউন।

SUJIT BHOWMIK

First published: May 3, 2020, 1:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर