• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • Gangasagar : উত্তরাখণ্ডের হড়কা বানে হারিয়েছিলেন স্ত্রী-কন্যাকে! ভাগ্য নিয়ে এল গঙ্গাসাগরে

Gangasagar : উত্তরাখণ্ডের হড়কা বানে হারিয়েছিলেন স্ত্রী-কন্যাকে! ভাগ্য নিয়ে এল গঙ্গাসাগরে

উত্তরাখণ্ডের হড়কা বানে হারিয়েছিলেন স্ত্রী-কন্যাকে! ভাগ্য সাধুকে নিয়ে গঙ্গাসাগরে

উত্তরাখণ্ডের হড়কা বানে হারিয়েছিলেন স্ত্রী-কন্যাকে! ভাগ্য সাধুকে নিয়ে গঙ্গাসাগরে

Gangasagar : সাগর সঙ্গমে ,সঙ্গম হয় বহু ধর্ম, বহু ভাষার মানুষের। একটু খোঁজ নিলে দেখা যাবে ,কত ভাগ্য এই সঙ্গমের জলে একসঙ্গে ডুব দেয়। সবাই তাদের মনের ইচ্ছা পূরণের জন্যই ডুব দেয়।

  • Share this:

#হাওড়া: ২০১৩ সালের ১৬ই জুন, হঠাৎ করে মেঘ ভেঙে পড়েছিল ঋষিকেশে। আর সেই মেঘ ভাঙা জলের বানে ভেসে গিয়েছিল ঋষিকেশের দু'পাশের বহুগ্রাম, বসতি। এখনও বহু মানুষের দেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই ঘটনায় অনেকের জীবন বদলে গিয়েছে। তেমনই জীবন বদলে গিয়েছে প্রদীপ দুবের।

সকালবেলা হাতে কমণ্ডলুহীন অবস্থায় বাবুঘাটের গঙ্গাসাগর (Gangasagar) পুণ্যার্থীদের তাঁবুর বাইরে হতাশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন প্রদীপ দুবে। সন্ন্যাসীর বেশ। সাধুবাবা বলতেই, হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে পড়লেন। অন্য সাধুদের মত অগোছালো কথাবার্তা তাঁর নয়। বেশ গুছিয়ে বেশিরভাগটাই ইংরেজি শব্দ সহযোগে হিন্দিতে কথা বললেন। তিনি কোথা থেকে এসেছেন? কতদিন সাধু? জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন ভাগ্য তাঁকে সন্ন্যাসী বানিয়েছে।

আরও পড়ুন- করোনা আক্রান্ত রাজ, পরমব্রত! মহামারীর আবহে স্থগিত কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব

২০১৪ সালে ঋষিকেষে যে বান এসেছিল, সেই বানে, ওখানকার নরেন্দ্রপুর বস্তিতে স্ত্রী শোভা ও সাত বছরের মেয়ে কিরণ জলের স্রোতে ভেসে যায়। তখন প্রদীপ পুণেতে একটি ওষুধের কোম্পানিতে সুপারভাইজারের চাকরি করতেন। ওঁর প্রকৃত বাড়ি উত্তরাখণ্ডের, দেরাদুনের ডাক পাথর লাখোয়ার কলোনিতে। প্রদীপ বাবা-মার অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন শোভাকে। তাই ঋষিকেষে থাকতেন তাঁরা।

প্রদীপের কথায়, স্ত্রী-সন্তান চলে যাওয়ার পরে নিজে অনেকবার নাকি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। মানব ধর্মের আত্মহত্যা পাপ। তাই, সেই বানের জলে ভেসে যাওয়া ঠিকানা। আর কোনওদিন স্থায়ী হয়নি ওর। তাই সারাবছর এক তীর্থ স্থান থেকে অন্য তীর্থস্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। মেলা পার্বণে গিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি বললেন, সারা দিন গেলে ভিক্ষে করে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা রোজগার হয়। সেই টাকা উনি জমান না। নিজে খাওয়া-দাওয়া করেন। সঙ্গে গরিব-দুঃখীদেরও খাওয়ান।

গতকাল সকালে এসে প্রদীপ পৌঁছেছেন হাওড়া স্টেশনে (Gangasagar)। কিন্তু সেখান থেকে কমন্ডুলের মধ্যে থাকা মোবাইলটাও চুরি হয়ে গিয়েছে। কমন্ডুল ছাড়া সকাল থেকে সাধু বাবাকে কেউ ভিক্ষে দিচ্ছেন না। তাই রাস্তার এদিক-ওদিক হতাশ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাস, এক হড়কাবান, জীবনে এই হতাশা এনে দিয়েছে। ঘুরিয়ে দিয়েছে জীবনের মোড়।

শঙ্কু সাঁতরা

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: