চৈত্র সংক্রান্তিতে গাজন উৎসব

চৈত্র সংক্রান্তিতে গাজন উৎসব

চৈত্রের বিদায়। নববর্ষকে স্বাগত জানানোর আগে চৈত্রের সংক্রান্তিতে উৎসবে মেতেছিলেন বিভিন্ন জেলার মানুষ।

  • Share this:

#বাঁকুড়া: চৈত্রের বিদায়। নববর্ষকে স্বাগত জানানোর আগে চৈত্রের সংক্রান্তিতে উৎসবে মেতেছিলেন বিভিন্ন জেলার মানুষ। প্রাচীন রীতি মেনে আর্য অনার্যের সামাজিক মিলনের উৎসব গাজনকে ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় চলল তিনদিনের মেলা। ব্রত রেখে বিভিন্ন লোকাচার পালন করলেন উৎসবে অংশ নেওয়া শিবের ভক্তারা।

শিবের গাজন লেগেছে। গ্রাম বাংলার মোড়ে মোড়ে কান পাতলেই প্রাচীনতম গাজন উৎসবের সুর। হাজার বছরের প্রাচীন উৎসবে প্রতিবারের মতোই মিলে যায় হিন্দু-মুসলিম সব ধর্মই। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের বাসুলিয়া, গোপালপুর, তমলুক, কোলাঘাট-সহ বহু জায়গায় গাজন মেলার আয়োজন হয়েছিল। কোনওটা ৪০০, কোনওটা বা ২০০ বছরের পুরনো মেলা। কোনও মেলা এবারই হয়ত খাতা খুলেছে। তবে মেলার বয়স যাই হোক, উৎসবে অংশ নেন প্রবীণ থেকে নবীন সকলেই।

বাঁকুড়া জেলাতেও গাজনের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। রাঢবাংলার কোণায় কোণায় এই সময়ে ভোলে বাবার আরাধনা। প্রচলিত ধারণা মেনে মনের বাসনা পূরণে গাজনে ব্রত রেখেছেন অনেকেই।

চৈত্র সংক্রান্তিতে কীভাবে গাজন উৎসবের সূচনা তা নিয়ে মতভেদও আছে প্রচুর।

জলপাইগুড়িতে আবার মিলনের অন্য ছবি। চৈত্র শেষে সেখানে দুই বাংলার মিলনে রূপনীল উৎসবের মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও শিথিল হয়েছিল সীমান্তে কাঁটাতারের কড়াকড়ি। ওপারে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার অমরখানা গ্রাম। এপারে জলপাইগুড়ির শুখানি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোলাপাড়া, চাউলহাটি, ভাঙামালি এলাকা। ভাব-ভালোবাসা, উপহার বিলি চলল। চৈত্র সেলকেও চমকে দেওয়া দরে ওপারের ইলিশ েপয়ে খুশি এপারের মানুষ।

গাজন মেলা হোক বা মিলন মেলা। নাম যাই হোক উৎসব উপলক্ষ মাত্র। জাতি-ধর্ম-বর্ণ মিলেমিশে ভাবের আদানপ্রদান করে নেওয়াতেই উৎসবের আনন্দ। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে সেই আনন্দেই গা ভাসাল গ্রাম বাংলা। চিরাচরিত রীতি মেনেই।

First published: 07:27:59 PM Apr 14, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर